Mountain View

কাউন্সিলে ভোট স্বচ্ছ ব্যালটে: কাদের

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ১৩, ২০১৬ at ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ

%e0%a6%97%e0%a6%a3%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a6%b9%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a7%9c%e0%a6%be%e0%a6%93-%e0%a6%95%e0%a6%ae%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%83-%e0%a6%93

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দলের এবারের কাউন্সিলে কোনো পদে একাধিক প্রার্থীর নাম এলে স্বচ্ছ ব্যালটে ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করা হবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে বুধবার সম্মেলন প্রস্তুতির দপ্তর উপ-কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির বৈঠকে একথা বলেন তিনি।

আগামী ২২-২৩ অক্টোবর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ২০তম ত্রিবার্ষিক সম্মেলন হবে।

দলের কোন কোন পদের জন্য ফরম বিক্রি করা হবে সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, “ফরম বিক্রি যারা করে, তারা দলে গণতন্ত্রের চর্চা করে না। আমাদের গঠনতন্ত্র ফরম বিক্রির কথা বলে না। প্রার্থীদের কাউন্সিলরদের সামনে পরীক্ষা দিতে হবে।

“এরপর দলীয় পদে নাম প্রস্তাব হবে, একাধিক প্রস্তাব আসলে স্বচ্ছ ব্যালেট পেপারে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিন সদস্যের একটি নির্বাচন কমিশনের অধীনে তা হবে। এর জন্য স্বচ্ছ ব্যালট পেপার রাখা হবে।”

আওয়ামী লীগ সব সময় গণতন্ত্রের চর্চা করে দাবি করে দলটির এই নেতা বলেন, “আওয়ামী লীগ কখনও পকেট থেকে জ্যাম্বো টাইপের কমিটি ঘোষণা করে না। আমাদের কমিটি হয় দলের গঠনতন্ত্র মেনে গণতান্ত্রিকভাবে।

“গঠনতন্ত্রের বাইরে সভাপতিও কোনো সিদ্ধান্ত দেন না। তিনি ইচ্ছে করলে কাউন্সিলরদের অনুমতি ছাড়া সকাল বিকাল নেতা পরিবর্তন করতে পারেন না, যা অন্যান্য দলে হয়।”

আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বীর বাহাদুরের সভাপতিত্বে বৈঠকে অন্যদের মধ্যে দীপু মনি, আব্দুল মতিন খসরু, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আফজাল হোসেন, ফরিদুন্নাহার লাইলী, সুজিত রায় নন্দী, আমিনুল ইসলাম আমিন ও এনামুল হক শামীম উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগের এবারের সম্মেলন ‘ঐতিহাসিক’ হবে বলে আরেক সভায় মন্তব্য করেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

বিকালে বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের এক বিশেষ বর্ধিত সভায় তিনি বলেন, “এবারের সম্মেলন হবে ঐতিহাসিক সম্মেলন। এই সম্মেলনে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সেটা হবে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত।“

বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের কাউন্সিল সারা দেশকে, সারা জাতিকে নাড়া দেয়। কারণ আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে যে সিদ্ধান্ত হবে সেটা হবে ঐতিহাসিক।

“আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের সিদ্ধান্তই পাকিস্তান রাষ্ট্রের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। কাউন্সিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশকে স্বাধীন করা, সেই সিদ্ধান্ত বস্তবায়ন হয়। আশা করি আগামী সম্মেলনও ঐতিহাসিক হবে।”

এই সম্মেলনে কী সিদ্ধান্ত আসছে তার কোনো আভাস দেননি আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

তবে একই অনুষ্ঠানে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, “শুধু দলের নেতাকর্মীই নয়, সারা দেশের মানুষ মুখিয়ে আছেন এই সম্মেলনে কী ঘোষণা আসে তা জানতে।

“আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ আমরা গড়ব। এই মহা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড যেটা আওয়ামী লীগের ঘোষণাপত্রে থাকবে। সে অনুযায়ীই ঘোষণাপত্রের খসড়া তৈরি করা হয়েছে।”

কাউন্সিলের প্রস্তুতি এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আসন্ন ঢাকা সফর নিয়ে ব্যস্ততা চলছে বলে জানান সৈয়দ আশরাফ।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম রহমতউল্লাহর সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাহারা খাতুন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক বক্তব্য দেন।

এ সম্পর্কিত আরও