ঢাকা : ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, বৃহস্পতিবার, ৮:০৭ পূর্বাহ্ণ
সর্বশেষ
ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি কার্যক্রম বন্ধে আইনি নোটিশ ‘রোহিঙ্গাদের অবারিত আসার সুযোগ দিতে পারি না’প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে ২১ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম দেশে এইচআইভি আক্রান্ত ৪ হাজার ৭২১ জন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানাজায় লাখো মানুষের ঢল,শেষ শ্রদ্ধায় শাকিলের দাফন সম্পন্ন ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ৯৭ সংসদে রোহিঙ্গা ইস্যুতে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী বগুড়ায় জাতীয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানী সপ্তাহ ২০১৬ উদ্বোধন ও র‌্যালী অনুষ্ঠিত অভিনয়েই নয় এবার শিক্ষার দিক দিয়েও সেরা মিথিলা শিশুদের ওজনের ১০ শতাংশের বেশি ভারী স্কুলব্যাগ নয়
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

নাসির সবসময়েই পঞ্চাশের ওপরে কিছু করতে চায়!

nasir hossainক্রিকেট উচ্ছ্বাস, ক্রিকেটীয় সুখ-দুঃখের সবচেয়ে বড় বহিঃপ্রকাশ এখন ফেসবুক। ক্রিকেটার নির্বাচন থেকে শুরু করে সেরা একাদশে কে কে খেলবে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট নাজমুল হক পাপন সাহেব কী বললেন না বললেন সবকিছুতেই মন্তব্যের ঝড় ওঠে ফেসবুকে। মান্নাদের কফি হাউস গানের শেষ লাইনের মতো করে বলা যায়- কত মন্তব্যের ঝড় ওঠে এই ফেসবুকে কত মন্তব্য যে ঝরে যায়/ কতজন বলে গেল কতজনই বলবে ফেসবুকটাই তবু থেকে যায় (??)
প্রিয় এক ছোট ভাই (ইশতিয়াক আহমেদ) এমন লিখেছে- আমার কাছে একজন জানতে চাইলো বাংলাদেশ যে আজ ইংল্যান্ডের কাছ থেকে দারুণ এক জয় পেল সেই জয়ের নায়ক মাশরাফিকে নিয়ে কোনও স্ট্যাটাস দেবেন না? আমি (ইশতিয়াক) বললাম আমার ছোট্ট স্ট্যাটাসে মাশরাফিকে ধারণ করা সম্ভব না। মাশরাফি এখন বাংলাদেশের স্ট্যাটাস!  নাসিরের পানি টানা ও আশিটা মোবাইল সিম বিষয়ে ইশতিয়াক লিখেছেন- রেখেছো প্রেমিক করে নাসির করোনি!!

আবার এই ফেসবুকেই অনিন্দ্য অপু নামে একজন লিখেছেন- সবচাইতে বেশি (?) প্রচারিত একটি জাতীয় দৈনিক এর দুই রকম চরিত্রের খবর। ২০১৬ সালের ২৬ মার্চ মাশরাফিকে নিয়ে পত্রিকার শিরোনাম ছিল এমন- আজই কি শেষ মাশরাফি? মাশরাফির ছবির নিচের শিরোনাম ছিল- মাশরাফি, টি-টোয়েন্টির দিন কি ফুরোল? আবার ২০১৬ সালের ১০ অক্টোবরে সেই একই পত্রিকার শিরোনাম হচ্ছে- জয়ের নায়ক মাশরাফি!

জয়তু টাইগার কিংবা জয়ের ধারায় বাংলাদেশ অথবা অভিনন্দন টাইগার্স টাইপের স্ট্যাটাস সম্ভবত ফেসবুক উপচে পড়েছে। কেউ কেউ পাপন সাহেবের নাসির বিষয়ক কথাটাকে সামনে টেনে এনেছেন। নাসিরের আশিটা সিম আর রাজা রাজরাদের মতো তার বন্ধুর বহর নিয়েও কেউ কেউ সরস মন্তব্য করেছেন! এসব করার পরেও বেশিরভাগ মানুষ নাসিরের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। তারা যা বলেছেন তার সারমর্ম এই- নাসির আসলে সবসময়েই পঞ্চাশের ওপরে কিছু করতে চায়!! ( হোক সেটা রান, বান্ধবী কিংবা সিম)।

নাসির আর মাশরাফি বিন মুর্তজার ক্রিকেটীয় রসায়ন নিয়েও কেউ কেউ স্ট্যাটাস

দিয়েছেন। স্ট্যাটাসে কেউ কেউ লিখেছেন- কামব্যাক শব্দটার সাথে মাশরাফির মতো পরিচিত কেউ নয়। ইনজুরির কারণে একবার বিশ্বকাপ দলে জায়গা হয়নি মাশরাফির। কিন্তু সারাবিশ্বের মধ্যে মাশরাফিই একমাত্র খেলোয়াড় যিনি সাত আটবার হাঁটুর অপারেশানের পরেও কামব্যাক করতে পেরেছেন! ফেসবুকে আরেকজন মন্তব্য করেছেন- সে কারণেই নাসিরের কামব্যাক রসায়নটা সবচেয়ে ভালো বুঝতে পেরেছেন মাশরাফি। আর তাই নাসিরকে দিয়ে দশ ওভার বল করিয়েছেন। মাশরাফির ঝড়োগতির ৪৪ রানের সঙ্গে নাসিরের কামব্যাক সঙ্গটা নাকি ছিল দারুণ। সেও ২৭ রান করেছে! ফেসবুকে আরেকজন লিখেছেন- ইংল্যান্ড দলের টেইলেন্ডারদের শেষ দুইজন তিন ওভারে প্রায় ত্রিশ রান করে ফেলেছিল। মাশরাফি এসে শেষ উইকেটটা নেন এবং ক্যাচ ধরেন সেই নাসির। রানিং আর ফিল্ডিংয়ে কী অসাধারণ জুটি!

নাসির আর মাশরাফি যখন ব্যাটিং করছিলেন তখন ধারাভাষ্য দিচ্ছিলেন ইংল্যান্ড দলের সাবেক অধিনায়ক নাসির হুসেইন। নাসির আর মাশরাফির ব্যাটিংকে তার কাছে মনে হয়েছিল আগলি ব্যাটিং!

ফজলুল হক নামের একজন তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন- এই উপমহাদেশে দুইশত বছরের ব্রিটিশ অপশাসন, লিবিয়া বা ইরাক আক্রমণের ষড়যন্ত্র কিংবা ক্রিকেটের মোড়লগিরির চেয়েও কি মাশরাফি আর নাসিরের ব্যাটিং আগলি? নাকি ইংল্যান্ডের হেরে যাওয়ার শংকা থেকেই নাসির হুসেইন আগলি ব্যাটিং এর ধারণা তৈরি করেছেন? আউট হওয়ার পর বাটলার যা করেছেন তা কতখানি আগলি? বাংলাদেশের কোনও খেলোয়াড় যদি এমন করতো তাহলে ভদ্রলোকের খেলা হিসেবে পরিচিত ক্রিকেটে আমাদের খেলোয়াড়দের ভদ্রতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতো খোদ ইংল্যান্ডই।

কেউ কেউ ইংল্যান্ডের আসা না আসা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন। নিরাপত্তা নিয়ে ইংল্যান্ড নাকি দারুণ শংকায় ছিল। একজন মন্তব্য করেছেন- তাদের নিরাপত্তার শংকা দূর হয়েছে কিন্তু সিরিজ হারার শংকা তৈরি হয়েছে! কেউ কেউ অবশ্য গত বিশ্বকাপে রুবেল হোসেনের বোলিং এর কথা স্মরণ করেছেন। আনসার হোসেন নামের একজন লিখেছেন- রুবেল গত বিশ্বকাপে স্ট্যাম্প উড়িয়ে দিয়ে আমাদেরকে আনন্দের বন্যায় ভাসিয়েছিলেন। চট্টগ্রামের শেষ ম্যাচে কিংবা দুটো টেস্টের কোনও একটাতে আবারও রুবেলকে ফিরিয়ে আনা যেতে পারে। আশা করি তখনও রুবেল স্ট্যাম্প হাওয়ায় ওড়াবেন, খুবই ভদ্র ভাষায় বাটলারকে বলবেন ভাইঙ্গা দিমু!!

তবে ক্রিকেটকে ভদ্রলোকের খেলা বলে প্রথম থেকে প্রচারণা চালিয়েছিল ব্রিটিশরাই। তারা জেন্টেলম্যান নামে একটা টিম বানিয়ে এখানে ওখানে ক্রিকেট খেলতো। এর মানে এই নয় যারা হাডুডু, দাঁড়িয়াবান্ধা, ডাংগুলি, ফুটবল, হকি, ভলিবল খেলে তারা অভদ্রলোক। সারা পৃথিবীতে ক্রিকেট অসভ্যতার সবচাইতে বেশি রেকর্ড কিন্তু ব্রিটিশদের। ঘরে আগুন দেওয়া, গ্যালারিতে মারামারি, ক্রিকেট পিচে হিসি করে দেওয়া, ক্রিকেট ক্রিজকে বিয়ার দিয়ে ভিজিয়ে  বিজয় উদযাপন করা শুধুমাত্র ব্রিটিশদের পক্ষেই সম্ভব!  ২০১৩ সালে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা এটা করেছিলেন। জেমস অ্যান্ডারসন আর স্টুয়ার্ট ব্রড এর নামে এই অভিযোগ উঠেছিল। ব্রডের আরও একটা গুণ ছিল। নিয়মিত জরিমানা দেওয়াটা তার স্বভাবে পরিণত হয়েছিল। আর আম্পায়ারদের কাছ থেকে সঠিক বিচার আদায় করে নেওয়ার পর যখন মাশরাফি তামিমরা সেটা উদযাপনে মেতে ওঠে বাটলারদের সেটা পছন্দ হয় না। সে তেড়ে এলেও তাতে কোনও দোষ হয় না।

ব্রিটিশ মিডিয়ার ভাষ্য হচ্ছে বাটলার তো লক্ষ্মী ছেলে সহসা রাগে না। তাকে রাগিয়ে দেওয়ার জন্য ম্যাচ ফির খানিক কাটা যায় মাশরাফি আর সাব্বির রহমানের! মৌখিকভাবে সতর্ক করে দেওয়া হয় বাটলারকে। কী সুন্দর ব্রিটিশ বিচার! কাঁটা চামচ দিয়ে খাই না, শব্দ করে চা খাই, এত অভদ্র আমরা তবু মাশরাফি কাউকে আউট করে দেওয়ার পর কিংবা নাসির ছক্কা মারার পর লুঙ্গিতে কাছা মেরে লাফিয়ে উঠতেও পারবো না? এখন থেকে কি চাপা হাসি আর মাপা কান্না, সীমাবদ্ধ জলে আর সীমিত সবুজের ঘেরাটোপে কথিত ব্রিটিশ ভদ্রতা বজায় রেখে ক্রিকেট খেলা দেখতে হবে?

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

বাংলাদেশ সফরে আসছে অস্ট্রেলিয়া!

এক বছর আগে নিরাপত্তার অজুহাত দেখালেও এবার বাংলাদেশে আসার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে টিম অস্ট্রেলিয়া।প্রভাবশালী …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *