Mountain View

রাঙামাটিতে যানবাহন চলেনি, পর্যটক আটকা খাগড়াছড়িতে

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ১৪, ২০১৬ at ৮:৩৭ পূর্বাহ্ণ

পাঁচটি বাঙালি সংগঠনের ডাকে তিন পার্বত্য জেলায় গতকাল বৃহস্পতিবার শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালিত হয়েছে। এর মধ্যে রাঙামাটি শহরে দিনভর কোনো গাড়ি চলেনি। একই কারণে খাগড়াছড়িতে আটকা পড়েন কয়েক শ পর্যটক। আর বান্দরবানে কোনো প্রভাব ছিল না হরতালের।
পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইনের সংশোধনী পাসের প্রতিবাদে ও বান্দরবানের বাঙালি নেতা আতিকুর রহমানের মুক্তির দাবিতে এ কর্মসূচি ডাকা হয়। আগামী রোববারও একই দাবিতে তিন জেলায় হরতালের কর্মসূচি রয়েছে বাঙালি সংগঠনগুলোর।
গতকাল সকাল থেকে রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন বিপণিবিতান, দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণি কার্যক্রম চলেনি। তবে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা হয়েছে। ব্যাংক-বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে লোকজনের উপস্থিতি ছিল কম। শহর থেকে সড়ক ও নৌপথে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার কোনো যানবাহন চলাচল করেনি। রাস্তায় গাড়ি না চলায় অনেককে হেঁটে নিজ গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন ছিল।
হরতাল ডাকা পাঁচটি সংগঠন হচ্ছে পার্বত্য নাগরিক পরিষদ, পার্বত্য গণপরিষদ, পার্বত্য সমঅধিকার আন্দোলন, পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ ও পার্বত্য বাঙালি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। পাঁচটি সংগঠনের নেতা-কর্মীরা রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন স্থানে হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করেন। বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে তাঁদের অবস্থান করতে দেখা যায়।
রাঙামাটির জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার চিত্ত রঞ্জন পাল বলেন, হরতালে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি শান্ত ছিল।
৬ অক্টোবর পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন-২০০১-এর সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়। এর আগে এ বছরের ১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন (সংশোধন) ২০১৬ চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
কর্মসূচির বিষয়ে পাঁচ বাঙালি সংগঠনের আহ্বায়ক আলকাছ আল মামুন ভূঁইয়া বলেন, বান্দরবান ছাড়া অন্য দুই পার্বত্য জেলায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে হরতাল পালিত হয়েছে। বাঙালিরা পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন কখনো মানবে না। প্রয়োজনে আরও কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে এ আইন বাতিলে সরকারকে বাধ্য করা হবে। তিনি পাঁচ বাঙালি সংগঠনের বান্দরবান জেলা শাখার আহ্বায়ক আতিকুর রহমানের মুক্তির দাবি জানান।

খাগড়াছড়ি: হরতালের সমর্থনে গতকাল সকাল থেকে বাঙালি ছাত্র পরিষদের নেতা-কর্মীরা শহরের বিভিন্ন মোড়ে মিছিল করেন। দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ রুটে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। খোলেনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বন্ধ ছিল দোকানপাট।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারেক মো. আবদুল হান্নান বলেন, শহরে দু-একটি জায়গায় হরতালের সমর্থনে পিকেটিং করেছেন নেতা-কর্মীরা। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক ছিল পুলিশ।

তবে পূজা ও আশুরার ছুটিতে খাগড়াছড়ি ভ্রমণে এসে গতকালের হরতালের কারণে বিভিন্ন হোটেলে কয়েক শ পর্যটক আটকা পড়েন। গতকাল দুপুরে সাজেক থেকে খাগড়াছড়ি শহরের উদ্দেশে রওনা দেন ঢাকার শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলামসহ তাঁর বন্ধুরা। পথে দীঘিনালায় তাঁদের বহনকারী গাড়ি আটকে দেন হরতাল সমর্থকেরা। পরে পুলিশ এসে তাঁদের গাড়িসহ আরও ১৫-১৬টি গাড়ি নিরাপদে খাগড়াছড়ি শহরে পৌঁছে দেয় বলে জানান তিনি।

জানতে চাইলে খাগড়াছড়ির সহকারী পুলিশ সুপার মো. রইছ্ উদ্দিন বলেন, সাজেক ভ্রমণে এসে যেসব পর্যটক হরতালের কারণে খাগড়াছড়ি শহরে আটকা পড়েন, তাঁদের পুলিশ পাহারায় সাজেকে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আর সাজেকে যেসব পর্যটক ছিলেন, তাঁদের পুলিশ পাহারায় খাগড়াছড়ি শহরে নিয়ে আসা হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও