Mountain View

‘শরীর দিয়েছে ঢেকে রাখার জন্য নয়’

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ১৪, ২০১৬ at ৮:২৯ পূর্বাহ্ণ

9b3ade1ec75f71f9ee4c0ad9093e8f00x480x270x16

আলোক ধাঁধাঁর এই রঙ্গমঞ্চে আমরা সবাই নিজেকে দেখতে চাই সবার র্শীষে। এর জন্য যা করা দরকার আমরা সাধারণত তাই করার চেষ্টা করি। সেই চেষ্টাটা যদি ভুল ডিসিশনের হয়, তাহলে কতটাই বা বাহবা পাওয়া যায়।

মিডিয়াতে কাজ করতে হলে কাঠ-খোর পোড়াতে হয় সবার। তবে অনেকের ই ভ্রান্ত ধারণা যে, মিডিয়াতে কাজ করলেই খারাপ হতে হয়। কিন্তু সেই ধারণাই এখন বাস্তবে পরিণত করছে তরুণ বা আগ্রহী মডেলেরা। তাড়াতাড়ি সেলিব্রেটি হওয়ার তাগিদে বেছেঁ নিচ্ছে খারাপ পথ। যা প্রকাশ পাওয়া যাচ্ছে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকসহ অন্যান্য মাধ্যমগুলোতেও।

তাদের একটা ভ্রান্ত ধারণা যে, ফলোয়ার বা লাইক রাড়লেই সেলিব্রেটি হওয়া যায়। যার সূত্র ধরেই তারা সামাজিক মাধ্যমগুলোতে আপলোট করছে নগ্ন ছবি। অনেকে তো আসছে ফেসবুক লাইভেও। তাদের ফলোয়াররা যা দেখতে চায় তাই দেখাছেন সাদরে। এতে করে নতুন মডেলরা মনে করছেন যে, তারা এক একজন হয়ে উঠেছে বিরাট সেলিব্রেটি।

কিন্তু আদেও কি তারা সেলিব্রেটি হতে পারছে। বরং এতে করে কুলশীত হচ্ছে আমাদের দেশিও বাংলা সংস্কৃতি। যা কারোই কাম্য নয়। সেলিব্রেটি হতে হলে কাজ জানতে হয়, শরীর দেখাতে হয় না। এটা হয়েতো ভুলেই গিয়েছে নতুন প্রজন্মের মডেলেরা।

এমনই এক নতুন মডেল (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) এর সাথে কখা বললে তিনি জানান, ‘এটা খারাপ কিছু না, আল্লাহ তায়ালা আমাকে একটা সুন্দর শরীর দিয়েছে ঢেকে রাখার জন্য নয়। এর সৌন্দর্য উপভোগ করার আধিকার সবারই আছে।’

অশ্লীল ছবি আপলোড বা লাইভে দেখা বিষয় নিয়ে একজন সাধারণ জনগন বলেন, ‘আপনি যদি কিছু দেখান, তহলে আমি কেন দেখব না।’ দেখে কি মনে করেন এমন প্রশ্নের জবাব তিনি বলেন, ‘ভালো তো লাগে না তবে, খানিকটা বিনোদন পাওয়ার জন্যই দেখা তবে এটাকে কোন সংস্কৃতি বলা যাবে না, সবই পাগলামির একটা অংশমাত্র। দেশ রসাতলে যাচ্ছে তারই একটা প্রমাণ।’এ বিষয়ে বিশিষ্ট গুণীজনেরা দিয়েছেন বিভিন্ন মতামত।

মামুনুর রশীদ: যারা আসলে এইসব কাজ করে বেরাচ্ছে তারা তো প্রকৃত মানুষ না। যারা আমাদের বাংলা সংস্কৃতিকে কুলশীত করছে এবং নিজেদেরকে শিল্পী বলে দাবি করেছে, আমার মতে তাদেরকে ‘বয়কট’ করা উচিত। কারণ কোন সংস্কৃতিই নোংরা হতে পারে না। আর শিল্পী হওয়ার জন্য যোগ্যতা লাগে অন্য কিছু দিয়ে আর যাই হোক শিল্পী হওয়া যায় না। নোংরা ছবি আপলোড বা লাইভে এসে নোংরামী করার বিরুদ্বে আইন হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি, সেটা যে সেক্টরেই হোক না কেন। তাহলে হয়তো তারা বন্ধ হবে। আর বাবা-মা তাদের সন্তানদের প্রতি খেয়াল রাখবে যাতে সন্তানরা বিপছটকু আহমেদ: নগন্যতা কখনই কারো জন্য সুফল বয়ে আনতে পারে না। নগন্যতাকে পুজি করে যে যত তাড়াতাড়ি উপরে উঠে, সে ততই তাড়াতাড়ি নিচে তলিয়ে যায়। মিডিয়াতে কাজ করতে হলে কাজ শিখে আসতে হবে শরীর দেখিয়ে কোন লাভ হবে না। ডিজিটালের নামে নোংরামী করে বেরালেই মডেল বা শিল্পী হওয়া যায় না। লাইক,কমেন্ট আর ফলোয়ারে সেলিব্রেটি হওয়া যায়না । মানুষ হয়তো তোমাকে দেখছে, লাইক দিচ্ছে, কমেন্ট দিচ্ছে, ফলোও করছে কিন্তু সে তোমাকে কখনই শিল্পী হিসেবে নিচ্ছে না।

এ বিষয়ে এক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘আসলে যারা এই পথে হাঁটছেন তারা একরকমের রোগে ভুগছেন। তারা মনে করে যে, তারা যা করছে এটাই ঠিক। মাইন্ডে একটা কমান্ড সেট করার মত, কোন ভাল খারাপ বুঝবে না, যেটা করছে সেটা করেই যাবে। এতে করে মানসিক অসুস্থতায় ভুগে থাকেন সেই সকল মডেলরা। আর এই রোগে ভোগার কারণ হচ্ছে বেশিরভাগ মডেলরাই পরিবারের বাইরে থাকেন, যার কারণে তারা একাকিত্ততায় ভুগে থাকেন। এর প্রতিকার হিসেবে আমি বলতে পারি যে, পরিবারের মানুষেরা যাতে সেই সকল মানুষদের সময় দেন। একমাত্র পরিবারই পারে এই পথ থেকে তাদের সন্তানদের ফিরিয়ে আনতে।

 

সর্বোপরি ভালো শিল্পী হতে হলে পরিশ্রমকেই প্রাধান্য দিতে হবে সবার । কষ্ট সাধন না করলে সাফল্য পাওয়া যায় না।দে চলে না যায়।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View