Mountain View

সড়ক দুর্ঘটনারোধে আরও একটি ভালো উদ্যোগ

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ১৪, ২০১৬ at ৭:৩৬ অপরাহ্ণ

মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমাতে দুরপ্লালার বাসের গতিবেগ ৮০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দিয়ে একটি ভালো উদ্যোগ নিয়েছে এনাট্রান্সপোর্ট কোম্পানী। ইঞ্জিন সীলকরে দেয়ায় চালকরা ইচ্ছা করলেও ৮০ কিলোমিটারের উপরে গতিবেগ তুলতে পারবে না।

তাছাড়া, এনা ট্রান্সপোর্টের পক্ষ থেকে প্রতি ৬ মাস পর তিনজন করে সেরা চালককে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ও তার সব ধরনেরচিকিৎসা সেবা ফ্রি করে দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। নিয়ম মেনে গাড়ি চালানোসহ চালাকদের ব্যবহার, আচরণ, পোষাকসহসব দিকবিবেচনা করে সেরা চালক নির্বাচন করা হবে। এনা পরিবহনের পক্ষ থেকে ইতিবাচক এই পদক্ষেপকে আমরা ইতিমধ্যে স্বাগত জানিয়েছি। একই সাথে প্রত্যাশা করছি, তারা তাদের গৃহীত সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে সব সময় সচেষ্ট থাকবেন।

প্রাইভেট সেক্টরে এনা পরিবহনের এই উদ্যোগ গ্রহণের এক সপ্তাহের মধ্যেই সরকারি পর্যায় থেকে সড়ক দুর্ঘটনারোধে আরও একটি ইতিবাচক উদ্যোগের সিদ্ধান্ত এসেছে। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দেশের সব ট্রাক থেকে বাম্পার, হুক ও অ্যাঙ্গেল খুলে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১৩ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এসব কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আমরা আশা করছি, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে এটি অত্যন্ত কার্যকর একটি কৌশল হবে। কেননা, মহাসড়কগুলোতে যেসব কারণে দুর্ঘটনাগুলো ঘটে, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ট্রাকের মতো বড় গাড়িগুলোর ড্রাইভারদের বেপরোয়া মনোভাব।ট্রাকের অ্যাঙ্গেল, বাম্পারও হুকের কারণে অন্যান্য যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে ড্রাইভাররা নিজের গাড়ির ব্যাপারে থাকেন নিশ্চিন্ত। এখন ট্রাক থেকে বাম্পার,হুক ও অ্যাঙ্গেল খুলে ফেলার নির্দেশ কার্যকর হলে ড্রাইভারদের মনোভাবে কিছুটা হলেও পরিবর্তন আসবে বলে আশা করি।

১৩ অক্টোবর দুপুরে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ট্রাকের অ্যাঙ্গেল, বাম্পার ও হুকেরকারণে অন্যান্য যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাম্পারে আটকে দুর্ঘটনা ঘটে। অন্যান্য যানবাহনের নিরাপত্তার জন্য এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।৩০ নভেম্বরের পর কোনো ট্রাকে অ্যাঙ্গেল, হুক বা বাম্পার থাকতে পারবেনা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) বিষয়টি তদারক করবে।

বিআরটিএর একটি সূত্র জানিয়েছে, গত কয়েক বছরে ট্রাকের বাম্পারে আটকে একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর ফলে একসময়বিআরটিএ সব ধরনের যানবাহনের বাম্পার খুলে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু সে নির্দেশনা কার্যকর হয়নি। ফলে সরকারের পক্ষথেকে নতুন করে এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

সড়ক দুর্ঘটনারোধে সরকারের এই পদক্ষেপকে আমরা সাধুবাদ জানাচ্ছি্।একই সাথে আশা করছি, এবারের উদ্যোগ যেন বিআরটিএ-এর পূর্বের উদ্যোগের মতো নিষ্ফল না হয়, তা যথাযত তদারকির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।

 

এ সম্পর্কিত আরও