Mountain View

ইংল্যান্ড সিরিজে টেস্টে পেসার ঘাটতি!

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ১৫, ২০১৬ at ১২:৫৯ অপরাহ্ণ

সবশেষ পাঁচ টেস্টে সাদা পোশাকে বাংলাদেশকে পেস অ্যাটাক যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন তারা সবাই এখন লাইমলাইটের বাইরে।

মুস্তাফিজুর রহমান ইনজুরিতে, সেটা সবারই জানা। শাহাদাত হোসেন ও রুবেল হোসেন আউট অব ফর্ম! ইনজুরির তালিকায় নতুন নাম মোহাম্মদ শহীদ। তারা সবাই ছিলেন শেষ পাঁচ টেস্টে।

প্রশ্ন হচ্ছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে পেস অ্যাটাকে থাকবেন কে? দীর্ঘ পরিসরে দল নির্বাচনে সব সময় বেগ পেতে হয় নির্বাচকদের। মুস্তাফিজ ও শহীদ থাকলে হয়ত এ প্রশ্নই উঠত না। আজ আবারও নান্নু বললেন, ‘লঙ্গার ভার্সনে তো পেস বোলিংয়ে আমাদের অবশ্যই ঘাটতি আছে। পেসারদের নিয়ে আমাদের সব সময়ই একটা ওয়ার্ক আউট করতে হয়। আমাদের হাতে এখন পাঁচজন আছে। ওখান থেকে আমরা তিনজনকে বেছে নিবো। দল আমরা ১৬ তারিখে ঘোষণা করব।’

ধারণা করা হচ্ছে, পাঁচ পেসার হচ্ছেন মোহাম্মদ শহীদ, তাসকিন আহমেদ, শফিউল ইসলাম, আল-আমিন ও রুবেল হোসেন। এদের মধ্যে শফিউল ইসলাম ও মোহাম্মদ শহীদ নেই প্রস্তুতি ম্যাচে। বাকি তিন পেসার দীর্ঘ পরিসরে ফিরতে নিজেদের সঙ্গে লড়ে যাচ্ছেন।

 Shaid

ভাবনায় পাঁচ পেসার

 মোহাম্মদ শহীদ : ২০১৫ সালে বাংলাদেশ পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মোট পাঁচ টেস্ট খেলেছিল। প্রতিটিতেই দলে ছিলেন পেসার মোহাম্মদ শহীদ। পাকিস্তানের বিপক্ষে শহীদের সঙ্গী ছিলেন রুবেল, শাহাদাত। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে লড়েছে মুস্তাফিজ ও শহীদ। তবে ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে বাংলাদেশ নেমেছিল এক পেসার নিয়েই। সেখানেও শহীদ একা এক ইনিংসে করেছেন ২২ ওভার। অনুমিতভাবেই শহীদ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে থাকার কথা। কিন্তু বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে ইনজুরি। ওয়ালটন জাতীয় লিগে ঢাকা মেট্রোর হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার সময় সাইড স্ট্রেইন ইনজুরিতে পড়েন শহীদ। ইনজুরিতে পড়েছিলেন ২ অক্টোবর। এখন চলছে তার পুর্নবাসন প্রক্রিয়া। ইংল্যান্ড সিরিজের আগে সুস্থ হবেন কিনা তা নিয়ে রয়েছে দুঃশ্চিন্তা। ডানহাতি এ টেস্ট স্পেশালিস্টকে নিয়ে ফিজিও বায়েজেদুল ইসলাম রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘শহীদ মাত্র রিহ্যাব শুরু করল। কাল বোলিং করেছে ৬ ওভার। আজও কয়েক ওভার করবে। মাত্র তো বোলিং শুরু করল। এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। ওখান (ঢাকা) থেকে ভালো কিছু সংকেত পেলে পরবর্তীতে এখানে (চট্টগ্রামে) তাকে আনা হবে। এখানেও ওকে কোচ, ফিজিও, টিম ম্যানেজম্যান্ট দেখবে তারপর সিদ্ধান্ত। হুটহাট করে নামিয়ে দিলেই তো ও ২০ ওভার করতে পারবে না। পুরোপুরি ফিট না থাকলে দীর্ঘদিনের জন্য বাইরে চলে যাবার সম্ভাবনাও থাকবে।’

 Taskin

তাসকিন আহমেদ : রঙিন জার্সিতে সাম্প্রতিক সময়ে মুগ্ধতা ছড়ানো তাসকিনের এখনও টেস্ট ক্যাপ পড়া হয়নি। সর্বশেষ দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচ খেলেছেন ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে, ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোনের হয়ে। এরপর একের পর এক ইনজুরিতে সাদা জার্সির চিন্তা মাথায় নেননি তাসকিন। ঘনঘটা কাটানোয় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে তাকে দেখাও যেতে পারে। বিসিবি ডানহাতি এ পেসারকে নিয়ে ‘ঝুঁকি’ নিতেও পারে। তাকে দলে রাখার এক প্রকার ইঙ্গিতও পাওয়া গিয়েছে। ইংলিশদের বিপক্ষে দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচে তাকে একাদশে রেখেছে বিসিবি। প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো করলে তাসকিনকে সাদা জার্সিতে দেখা যেতেও পারে।

 Almain

আল-আমিন হোসেন : পেসার আল-আমিন হোসেন জাতীয় দলে ফিরতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে আল-আমিনকে বাদ দেওয়ার কারণ হিসেবে নির্বাচক প্যানেলের ব্যাখ্যা ছিল এরকম, ‘ফিটনেস এবং ফিল্ডিংয়ে ভালো না করার আপাতত আল-আমিন নেই।’ বাদ পড়ার পর আল-আমিন ফিরে যান খুলনায়। সেখানে ওয়ালটন জাতীয় লিগে বরিশালের বিপক্ষে দুই ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ড সিরিজে ওয়ানডে স্কোয়াডে ডাক পান। কিন্তু খেলার সুযোগ পাননি রঙিন জার্সিতে। কিন্তু টেস্টে লাল বল হাতে তাকে দৌঁড়াতে দেখা যাবে তা এক প্রকার নিশ্চিত। ২০১৪ সালে সবশেষ টেস্ট খেলা আল-আমিন এ পর্যন্ত ৬ টেস্টে নিয়েছেন ৬ উইকেট।

 Rubel

 : সাম্প্রতিক সময়ে পেসারদের মধ্যে রুবেল হোসেনের টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা সবচেয়ে বেশি। ২৩ টেস্ট খেলা রুবেল বল হাতে নিয়েছেন ৩২ উইকেট। পুরনো বলে তার বোলিং কার্যকারিতার কথা সবারই জানা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার পারফরম্যান্স তলানিতে। ইনজুরিমুক্ত হয়ে রুবেল ফিরেছিলেন আফগানিস্তানের বিপক্ষে। কিন্তু প্রথম দুই ম্যাচের পরই জায়গা হারান রুবেল। তাকে আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে। প্রস্তুতি ম্যাচে পারফরম্যান্স ও পূর্বের পারফরম্যান্স বিবেচনায় রুবেল আবারও ফিরতে পারেন জাতীয় দলে।

 Saful

শফিউল ইসলাম : আফগানিস্তান ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪ ওয়ানডেতে ৫ উইকেট নেওয়া শফিউলকে দেখা যেতে পারে সাদা পোশাকে। ২০১৪ সালে সবশেষ টেস্ট খেলা শফিউল ৮ টেস্টে এ পর্যন্ত নিয়েছেন ১৫ উইকেট। অতীত রেকের্ডর থেকে শফিউলকে বর্তমান পারফরম্যান্সের জন্য মূল্যায়ন করছে নির্বাচকরা। ভুড়িভুড়ি উইকেট না পেলে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখছেন ডানহাতি এ পেসার। ৩৮ লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে শফিউল পকেটে পুরেছেন ৮৮ উইকেট। ইংলিশদের বিপক্ষে তাকে টেস্ট স্কোয়াডে দেখা গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। দীর্ঘ পরিসরে দীর্ঘদিনের ঘাটতি পূরণের চেষ্টা শফিউলের নিজেরও, ‘অনেকদিন ধরেই টেস্টে সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছি। ওয়ানডে ভালো গেল। যদি টেস্টে সুযোগ আসে অবশ্যই দলের ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করব।’

তরুণদের ওপরও আস্থা : বিসিবি একাদশের হয়ে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে চট্টগ্রামে এসেছেন কামরুল ইসলাম রাব্বি, আবু জায়েদ রাহী, ইবাদত হোসেন, শুভাশিস রায় ও আবু হায়দার রনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফরম্যান্স ও প্রাথমিক স্কোয়াডের প্রস্তুতির ওপর ভিত্তি করে তাদেরকে নিয়ে আসা হয়েছে। তরুণদের নিয়ে নান্নু বলেন, ‘এখানে (চট্টগ্রামে) যারা এসেছে তারা জাতীয় ক্রিকেট লিগ খেলে এসেছে। চারদিনের ম্যাচের ওদের স্কিল ও ফিটনেসে যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। আমার মনে হয় এখান থেকেও আমরা চারজন সেরা বোলার বের করে নিয়ে আসতে পারব।’

 

এ সম্পর্কিত আরও