Mountain View

পত্রিকার দাবি বাংলাদেশে হিন্দুরা ভাল আছে, মিথ্যা প্রচারণায় বিজেপি

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ১৫, ২০১৬ at ৭:৪৭ অপরাহ্ণ

hindu-a

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণার অভিযোগ উঠেছে।বাংলাদেশি হিন্দুদের নাগরিত্ব দেওয়ার জন্য প্রচার করা হচ্ছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর ব্যাপক নির্যাতন হচ্ছে।কিন্তু দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে হিন্দুরা বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় উদযাপিত হয়েছে দুর্গাপূজা। এ বছর দুর্গাপূজার সংখ্যাও বেড়েছে।

এ কারণে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠেছে, ‘হিন্দু বাংলাদেশিদের’ নিয়ে মোদি সরকার রাজনৈতিক মুনাফা লুটছে। এমনটিই অভিযোগ করছে ভারতের আসামের সর্বাধিক প্রচারিত অসমীয় দৈনিক অসমীয় প্রতিদিন । পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধর্মীয় সহিংসতার শিকারের যুক্তি দেখিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার হিন্দু বাংলাদেশিদের ভারতের নাগরিকত্ব দেয়ার ঘোষণার মধ্যে প্রতিবেশি বাংলাদেশে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় উদযাপন করেছে দুর্গাপূজা।

বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন হচ্ছে বলে দিল্লির প্রচারণার বিপরীতে বাংলাদেশের দেখা যাচ্ছে বিপরীত ছবি। অসমীয় প্রতিদিন লিখেছে, ‘এবার বাংলাদেশে দুর্গাপূজার সংখ্যা গত বছরের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর বাংলাদেশে উদযাপিত হয়েছিল ২৯ হাজার ০৭৪ দুর্গাপূজা। এবার এই সংখ্যা হয়েছে ২৯ হাজার ৫০০ টি।

অর্থ্যাৎ গত বছরের চেয়ে এবার ‘হিন্দু নির্যাতিত’ দেশটিতে দুর্গাপূজার সংখ্যা ৫০০ টা বেড়েছে। অসমীয় প্রতিদিন লিখেছে, ২০০৭ সালে দেশের হিন্দুরা উদযাপন করা দুর্গাপূজার সংখ্যা ছিল ২৭ হাজার। এরপর পূজার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে এখন হয়েছে ২৯ হাজার ৫০০টি। হিন্দুদের দুর্গাপূজায় স্থানীয় মুসলমানরাও অংশগ্রহণ করে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন হচ্ছে বলে বিজিপির চালানো প্রচারণা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে।

যদিও বিজিপি সরকার বলছেন বাংলাদেশের হিন্দুরা সহিংসতার বলি হচ্ছেন, তাহলে প্রতিবেশি দেশটিতে এবার কি করে ৫০০ দুর্গাপূজা বাড়লো? হিন্দুদের ওপর নির্যাতন অব্যাহত থাকলে নিশ্চিতভাবে বাংলাদেশে দুর্গাপূজার উৎসাহ-উদ্দীপনা হ্রাস পেত। দুর্গাপূজার আযোজকদের ওপর মৌলবাদী-জঙ্গিরা আক্রমণ চালাতো। কিন্তু বাস্তব দৃশ্য বিপরীত দেখা গেছে।

অন্যদিকে, বিশ্লেষকদের ধারণা এ পরিস্থিতিতে হিন্দু নির্যাতন হচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হিন্দু বাংলাদেশিদের ভারতীয় করার জন্য নেয়া উদ্যোগে গভীর রাজনৈতিক অংক আছে। বাংলাদেশের দুর্গাপূজা উদযাপন পরিষদের উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকাটি লিখেছে, ঢাকেশ্বরী মন্দির, রমান কালী মন্দির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, রাজকৃঞ্চ মিশন, আনন্দময়ী আশ্রম, লোকনাথ ব্রহ্মাচার্য আশ্রমে দুর্গাপূজা জাকজমকপূর্ণভাবে উদযাপিত হয়েছে।

এছাড়াও বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দুরা আনন্দঘন পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে দেবি দুর্গার আরাধনা করেছে। পরম্পরাগতভাবে উদযাপন করেছে কুমারী পূজাও। দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বসহকারে প্রচার করেছে। পত্রিকাটিগুলে বিশেষ নিবন্ধ- ক্রোড়পত্র, টেলিভিশন চ্যানেলগুলো দুর্গাপূজা সরাসরি প্রচার এবং বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করেছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্গাপূজায় বিপুল আর্থিক অনুদান দিয়েছেন।

এ সম্পর্কিত আরও