নাসির যখন অল-রাউন্ডারদের শীর্ষ দশে!

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ১৬, ২০১৬ at ১:৫৬ পূর্বাহ্ণ

একট সময়ে মনে মনে ভাবতাম যে ওডিয়াই বোলিং র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে আমাদের একজন থাকবে, আর সেরা দশে ২-৩ জন থাকবে। ব্যাটিং র‌্যাংকিংয়েও থাকবে দু তিন জন।

অলরাউন্ডার র‌্যাংকিংয়েও বা পিছিয়ে থাকবে কেন, সাকিবের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাকনা দু একজন। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের কথা একটু বেশি করেই ভাবতাম। সাকিবের পরে যদি কেউ সেরা দশে যায় তিনি হবেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

২০১২ এর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ থেকে আমরা এমনটাই ভাবতে শুরু করে দিয়েছিলাম যখন ২৪৪ রেটিং নিয়ে ১২ তে উঠে এসেছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ৩ ম্যাচের সেই সিরিজে ১৫০+ রান ও ৮+ উইকেট নিয়ে সাকিবের অভাব পূরন করে দিয়েছিলেন তিনি। এরপর যথেষ্ট ম্যাচ না পাওয়ায় যাওয়া হয়নি সেরা দশে। ১৫-২৫ এর ভিতরেই ঘোরাঘুরি করতে দেখা গিয়েছে তাকে।

স্বপ্ন দেখা শুরু মোহাম্মদ রফিককে দিয়েই। মোহাম্মদ রফিক প্রথম বাংলাদেশী অলরাউন্ডার যিনি ওডিয়াই এ সেরা ৩০ এ উঠার গৌরব অর্জন করেন। ১৯১ রেটিং নিয়ে রফিক ২৯ তম স্থানে যেতে সক্ষম হন তৎকালীন সাইমন্ড-ক্যালিসদের যুগে। তবে এখানে খালেদ মাহমুদ সুজনের নাম না আনলে মনে হয় তার সঙ্গে প্রতারনা করা হবে। কেননা খালেদ মাহমুদ সুজন তৎকালীন সময়ে ৩৬ নম্বর পর্যন্ত উঠতে পেরেছিলেন ১৭৩ রেটিং নিয়ে।

২০০৯ এর শুরুর দিকে সাকিব আল হাসান শীর্ষ অলরাউন্ডার এর মুকুট পরেন। এরপর হতে তাকে আর পেছাতে হয়নি। মাঝেমধ্যে আফ্রিদী, দিলশান, হাফিজ ওয়াটসনেরা আত্মীয় বাড়ি বেড়াইতে আসার মত সাকিবের মুকুট নিয়ে টানাটানি করেছেন সমসাময়িকের জন্য। কিন্তু দিনশেষে মুচকি হাঁসি হেসেছেন একমাত্র সাকিব ই।

মাহমুদউল্লাহ কি পারবেন আমাদের মনের আশা পূরণ করতে? এই প্রশ্ন যখন মনে জাগতে লাগল তখন আমরা বঞ্চিত হলাম ম্যাচ থেকে। হয়তো পর্যাপ্ত ম্যাচ পাইনা, নয়তো বল হাতে তাকে দেখা যায়না। কিন্তু এরই মধ্যে আরেক নায়কের

সন্ধান পেয়ে গেল একগাদা ক্রিকেট সমর্থক।

nasir hossainমানুষটা নাসির হোসাইন। উত্থানটা ২০১৫ থেকে, যখন দলের নেতা মাশরাফি বিন মর্তুজা। ঠিক সেখান থেকেই নাসিরের শুরু। মাশরাফি তাকে ব্যাবহার করেছেন মূল বোলার হিসেবে। আর নাসির হোসাইন ও মাশরাফিকে আউটপুট দিয়েছেন সুন্দর ভাবেই। ২০১৫ সালে নাসির ১৫টি ম্যাচ খেলে ১৮৭ রানের পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছেন ১৬ উইকেট। মাশরাফির অধিনায়কত্বে নিয়েছেন ১৩ ম্যাচে ১৪ উইকেট, সাকিবের নেতৃত্বে ২ ম্যাচে ২টি। সেরা বোলিং ২৬/৩!

‘ইনসাইড দ্যা টাইগার্স ডেন’ শিরোনামে মাশরাফির সাক্ষাৎকারে মাশরাফি নাসিরকে নিয়ে একটি কথা বলেছিলেন। সেই কথাটা আমার এখনো মনে পড়ে, ‘অনেকে হয়তো নাসিরকে অকেশনাল বোলার হিসেবে মনে করে। কিন্তু আমার কাছে নাসির আমাদের টিমের অন অব দ্যা বেস্ট বোলার।’mash

কথা চলছে অলরাউন্ডার নাসিরকে নিয়ে। একজন চৌকষ অলরাউন্ডার নাসির। যেমন ফিনিশার, তেমন বোলার, তেমনি একজন চৌকষ ফিল্ডার। মোটকথা একজন চৌকষ অলরাউন্ডার। যে পজিশনেই হোকনা কেন, নাসির নাসির ই। আমাদের দেশের মানুষগুলো ক্রিকেট প্রেমী। ক্রিকেট খায়, ক্রিকেট পরে, ক্রিকেটের সঙ্গে ঘুমায় এমনকি ক্রিকেটের সঙ্গে গল্প করে।

কিন্তু যদি প্রশ্ন করা হয় “বলুনতো সাকিব আল হাসানের পরে কোন বাংলাদেশী ক্রিকেটার আইসিসি ওডিয়াই অলরাউন্ডার হিসেবে সেরা ১০-এ উঠে আসেন?”

জানিনা কতজন সঠিক উত্তর দিতে পারবেন। কেউ কেউ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের নাম বলবেন, আবার কেউ কেউ আবেগে মোহাম্মদ রফিকের কথাও বলে ফেলবেন। কিন্তু সত্যটা বলতে পারবেন কজন? কেইবা প্রতিদিন র‌্যাংকিং আপডেট চেক করে!

তাই অধিকাংশ মানুষ উত্তর দিতে সক্ষম হবেনা।

উত্তরটি দিয়েই দেয়া যাক। মানুষটি সেই নাসির হোসাইন। দ্বিতীয় বাংলাদেশী হিসেবে ওডিয়াই অলরাউন্ডার র‌্যাংকিং এর সেরা দশে উঠেছিলেন নাসির হোসাইন। তবে সেটা মাত্র দুই দিনের জন্য! তাতে কি হয়েছে, এক দিনের রাজা হলেও সে রাজা। নাসির তেমনি।

অনেকে এখন অবাক হচ্ছেন ব্যাপারটা জেনে।

আহ! এমন একটি গুরুত্বপূর্ন খবর, কিন্তু আমি জানিনা! আমি কি মানুষ নাকি আইসিসি! এদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রতিবাদে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওডিয়াই এ টিম ম্যানেজমেন্ট নাসিরকে একাদশে রাখে। নাসির প্রমান করেছিলেন তার সামর্থ্য।

ব্যাট হাতে ফিনিশার হিসেবে অপরাজিত ২৭ ও বল হাতে ১০ ওভারে ২৯ রান দিয়ে নিয়েছিলেন ১ উইকেট। দিনটি ছিলো ৯ অক্টোবর ২০১৬। আর এই দিনের র‌্যাংকিংয়ে নাসির হোসাইন ২য় বাংলাদেশী হিসেবে সেরা ১০ এ জায়গা করে নেন।

পরের ম্যাচে ৪ রান করার জন্য ২ ধাপ নিচে নেমে ১২ তে চলে গিয়েছেন নাসির। ক্ষনিকের এই পরিবর্তন টা অনেকেরই চোখে পড়েনি। এখন নাসির ২৩৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ১২ তম স্থান দখল করে রেখেছেন। নাসিরের চেয়ে ১১ পয়েন্ট বেশী নিয়ে বেন স্টোকস ২৪৪ রেটিং নিয়ে ১০’এ আছেন। অন্য বাংলাদেশী ক্রিকেটার দের ভিতরে সেরা ১০০ তে আছেন সাকিব (১ম), রিয়াদ (২১৯ রেটিং নিয়ে ১৮ তম), মাশরাফি (১৭৩ রেটিং নিয়ে ৩৪তম) ও আরাফাত সানি (৯৯ রেটিং নিয়ে ৮৯ তম)। ওডিয়াই এ নাসির ১২ তম অলরাউন্ডার।

টেস্ট ও টি টুয়েন্টি সম্পর্কে কি একটু জানতে ইচ্ছা হয়? তাহলে একটু জানিয়ে রাখি। টেস্টে ৪৮ রেটিং নিয়ে নাসির আছেন ৬৪ তম স্থানে এবং টি টুয়েন্টি ক্রিকেটে ৫১ রেটিং নিয়ে তিনি আছেন ৫৮ তম স্থানে। ওডিয়াই এর মত টেস্ট ও টি টুয়েন্টি তে বল হাতে খুব কমই দেখা যায় নাসিরকে। তবে অধিনায়ক যদি তাকে ঠিকমতো ব্যাবহার করেন তাহলে হয়তো ভবিষ্যতে সেরা ১০ এ নাসিরকে দেখে আমরা অবাক হবোনা। নাসির অধিনায়কের মর্যাদা ঠিকই রাখবেন যেমনটি ওডিয়াই এ রেখে যাচ্ছেন।

ঠিক এভাবেই চলতে থাকুক নাসিরের অলরাউন্ডিং নৈপুন্য। আমরাও চাই সেরা ১০-এ আমাদের আরেক সাকিব কে দেখতে।

এ সম্পর্কিত আরও