রবিবার , অক্টোবর ২২ ২০১৭
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
প্রচ্ছদ / অন্যান্য / ১৯ হাজার বছর আগের মানুষের পায়ের ছাপ

১৯ হাজার বছর আগের মানুষের পায়ের ছাপ

প্রকাশিত :

footprints1476534452

 আফ্রিকার দক্ষিণ তাঞ্জানিয়ার জীবন্ত আগ্নেয়গিরি থেকে নয় মাইল দূরে এনগারো সেরো গ্রামের লেক ন্যাট্রনের তীরে ভূতত্ত্ববিদরা ১০ হাজার-১৯ হাজার বছরের আগেকার আদিম মানুষের ৪০০ এরও বেশি পায়ের ছাপের সন্ধান পেয়েছেন ।

মূলত আগ্নেয়গিরির ছাই এবং কর্দমাক্ত প্রবাহের কারণেই এগুলো এতদিন ঢাকা পড়ে ছিল। গবেষকরা জানিয়েছেন, আধুনিক মানব সভ্যতার ঊষালগ্নে মানুষ যখন পৃথিবীর বুকে হেঁটেছিল, এ ছাপ সে সময়কার। ১০ হাজার বছরের পুরোনো ছাপ যেমন রয়েছে এখানে, আবার কোনো কোনো ছাপের বয়স ১৯ হাজার বছর।

১৯ হাজার বছর মানে সে এক অদ্ভুত সময়। শারীরবৃত্তীয় ভাবে আধুনিক মানুষ (হোমো স্যাপিয়েন্স) মোটামুটি এই সময়েই, বা এর সামান্য আগে, সংস্কৃতিগত ভাবেও আধুনিক সৃষ্টিশীল মানুষ (হোমো স্যাপিয়েন্স) হয়ে উঠেছে। মানুষের মানুষ হয়ে ওঠার এটাই অন্তিম গুরুত্বপূর্ণ বাঁক। ঠিক সেই সময়কার পায়ের ছাপ হাতে পেয়ে যাওয়াটা বিজ্ঞানীদের কাছে ‘সোনার খনি’ পেয়ে যাওয়ার মতোই। আধুনিক মানুষের পথ চলার শুরুর কাহিনি লুকিয়ে রয়েছে এখানেই! আফ্রিকা তো বটেই, দুনিয়ার আর কোনো জায়গায় হোমো স্যাপিয়েন্সের এতো পুরোনো পায়ের ছাপ মেলেনি।

গবেষক দলটির নেতৃত্বে ছিলেন ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক অনুদানপ্রাপ্ত অ্যাপালেচিয়ান স্টেট ইউনিভার্সিটির ভূবিজ্ঞানী ড. সিনথিয়া লিউটকাস পিয়ার্স। ড. পিয়ার্স মেইল অনলাইনকে বলেন, ‘পায়ের ছাপগুলো তৈরি হয়েছিল প্রায় ১৯ হাজার এবং ১০ হাজার বছর আগে। এর মানে হলো যে, এই পদচিহ্নগুলোই প্লেইস্টোসিন যুগের সর্বশেষ নিদর্শন।

footprints1

এনগারো সেরো গ্রামের এই পদচিহ্নগুলো বিশ্বের সর্বত্র জীবাশ্ম পদাঙ্ক সাইটের ক্ষেত্রে অনন্য রেকর্ড যোগ করেছে। এ থেকে প্লেইস্টোসিন যুগের আমাদের পূর্বপুরুষদের কার্যকলাপ ও আচরণের সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যাবে।

এছাড়াও গবেষক দলটি এমন অন্তত ২৪ ট্র্যাক শণাক্ত করছেন, যা প্রমাণ করে যে কিছু পদচিহ্ন মানুষের জগিং করার ফলে সৃষ্টি হয়েছে। একত্রে ১২ জনেরও বেশি মানুষের একত্রে যাত্রা করারও প্রমাণ মিলেছে পদচিহ্নগুলো থেকে।

যদিও দশ বছরেরও বেশি সময় আগে স্থানীয় গ্রামবাসী কর্তৃক কিছু পদচিহ্নের খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল কিন্তু ২০০৮ সালে একজন আমেরিকান সংরক্ষণবাদী এলাকাটি পরিদর্শন করার পরই মূলত তা বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ কাড়ে।

গবেষকরা এখন স্থানটির দীর্ঘমেয়াদী সংরক্ষণের উপায় খুঁজছেন। যদিও প্রতিটি পায়ের ছাপের তোলা থ্রিডি ছবিও দরকারী ব্যাকআপ হিসেবে কাজ করবে। গবেষকদের বিশ্বাস, সেখানে সম্ভবত আরো বেশি পদচিহ্ন কাঁদার নিচে চাপা পড়ে আছে।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

১০ মাসের শিশুর ৩০ কেজি ওজন!

মাত্র ১০ মাস বয়সে তার ওজন ৩০ কেজির বেশি। লুইস মেনুএল নামের এই শিশু এক …

Leave a Reply