ঢাকা : ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, বৃহস্পতিবার, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

বিদেশিরা আসলেই খালেদা জিয়া নালিশ করে,গণতন্ত্র নাই: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অবৈধভাবে যারা ক্ষমতায় এসেছে, জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে, যুদ্ধাপরাধী এবং বঙ্গবন্ধুর খুনীদের মদত দিয়েছে তাদের মুখ থেকে আবার গণতন্ত্রের ছবক শুনতে হয়। এর থেকে দুঃখের আর কী আছে? কোন জায়গা না পেয়ে বিদেশি কোন অতিথি আসলেই সেখানে যেয়ে নালিশ করে আসে, গণতন্ত্র নাই। খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের সংজ্ঞা জানেন কিনা— তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব একথা বলেন।
সভায় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আবুল মাল আব্দুল মুহিত, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মতিয়া চৌধুরী, সৈয়দ আশরাফুল ইসলামসহ জাতীয় কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রায় ৪ বছর পর আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় শক্তিশালী ফোরাম জাতীয় কমিটির বৈঠকটি ডাকা হলো।
খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, কোন জায়গা না পেয়ে বিদেশি অতিথি আসলেই সেখানে যেয়ে নালিশ করে আসে, গণতন্ত্র নাই। গণতন্ত্র বানান করতে জিজ্ঞাস করলে সেটাও পারবে কিনা সন্দেহ আছে! গণতন্ত্র আসলে কাকে বলে সেই সংজ্ঞাটা দিতে পারবে কিনা সেখানেও আমার সন্দেহ আছে।
বিএনপির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকেই মাঝে মধ্যে বলে বাংলাদেশে গণতন্ত্র নাই। এই কথাটা শুনতে হয় কাদের কাছ থেকে, সেটি হচ্ছে সব থেকে হাস্যকর ব্যাপার। যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী, ক্ষমতা আহরণকারী, ক্ষমতা দখলকারীর হাতে তৈরি দল তাদের কাছে আজকে গণতন্ত্রের কথা শুনতে হয়। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, তারা কোন গণতান্ত্রিক পথেই তৈরি আর কোন গণতান্ত্রিক পথেই তারা ক্ষমতায় গেছে? বারবার তো ধ্বংসই করেছে এবং সেটাই তারা করতে চায়। এই দেশের মানুষকে এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে— কাদের মুখে এ কথা আজ।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ এর ১৫ আগসট জাতির পিতাকে হত্যা করার পর সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে জিয়াউর রহমান। তারাপর সেনা প্রধান হয়, সেনা প্রধান থেকেই সেনাবাহিনীর নিয়ম অমান্য করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীর হাতে গড়া সংগঠন হচ্ছে বিএনপি।
দেশের বিরাজমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বারবার এদেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে, লড়াই করেছে। দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার আছে বলেই আজকে মানুষ খাদ্য নিরাপত্তা পাচ্ছে, মানুষের জীবনমান উন্নত হচ্ছে, ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, দারিদ্র্যের হার হ্রাস পেয়েছে, অবকাঠামোর উন্নতি হচ্ছে এমনকি আমরা নিজের টাকায় পদ্মাসেতুও নির্মাণ করছি।
বিএনপির অতীত ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জানি না বাংলাদেশের মানুষ ইতিহাস ভুলে গেছে কিনা! যারা ভোট চুরি করে ক্ষমতায় বসলো, গণরোষে থাকতে পারে নাই, পদত্যাগে বাধ্য হয়েছে। অথচ ২০১৪ সালের নির্বাচনে তারা আসলো না, নির্বাচনে না এসে শিশু থেকে শুরু করে শত শত মানুষ পোড়ালো, জাতীয় সম্পদ নষ্ট করলো। এটাই নাকি তাদের আন্দোলন!।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমরা আন্দোলন করেছি জনগণকে সম্পৃক্ত করে, যার ফল আমরা পেয়েছি। আর তাদের আন্দোলনটা খুন করা, নির্যাতন করা, পোড়ানো, জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যা করে এটাই তাদের আন্দোলন। এই আন্দোলনে তারা জনসম্পৃক্ততা পায়নি, পেয়েছে জনগণের রুদ্ররোষ। এখন তারা এসে যদি বলে, দেশে গণতন্ত্র নাই …।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদেরকে ক্ষমতায় বসিয়ে মন্ত্রী বানিয়ে লাখো শহীদের রক্তের সঙ্গে যারা বেঈমানী করেছে, তাদের বিচারও বাংলার মাটিতে হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের মদতদাতা, এদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলেছে, যার মানুষের ধনসম্পদ লুট করেছে, অবশ্যই তাদের বিচার বাংলার মাটিতে হবে। কাজেই যতো কান্নাকাটি বিদেশে করুক ওতে লাভ নেই। আমরা দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি করে যাচ্ছি, করে যাবো। বাংলার মানুষ বিশ্বাস করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে জনগণ কিছু পায়। আর যারা এতিমের টাকা লুট করে খায়, মানি লন্ডারিং করে, মানুষ পুড়িয়ে মারে, এদেশের মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, যুগ যুগ ধরে প্রত্যাখ্যান করবে। এটাই হলো বাস্তবতা।
আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে দলের জন্য নতুন নেতা নির্বাচনে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমরা এটাই চাই, আওয়ামী লীগ তার ঐতিহ্য রক্ষা করবে। নতুন নেতা নির্বাচিত করবে।
শেখ হাসিনা নিজের কথা উল্লেখ করে বলেন, ১৯৮১ থেকে ২০১৬, ৩৫ বছর। আর কতো? আর কতো? সেটাই আমার কথা। কাজেই আমি চাইবো যে, সবাই নতুন নেতা নির্বাচন করেন। দলটা আরও সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে যাক। বঙ্গবন্ধু চারা রোপন করেছিলেন, তা মহীরূহ হয়ে এতো বড়ো হয়েছে। কাজেই ভবিষ্যতের জন্য আপনারাই সে নতুন চারা রোপন করেন এবং দলকে আরও সংগঠিত করেন, সেটাই আমরা কামনা করি। এ সময় উপস্থিত সব নেতারাই একযোগে ‘না’ বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি তাদের পূর্ণ আস্থার অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

শুধু তিস্তা নয়, ৫৪টি নদী নিয়েই আলোচনা চলছে : প্রধানমন্ত্রী

তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা আলোচনা করছি, এটা এখন নির্ভর …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *