Mountain View

বাফুফের গোপন কেলেঙ্কারি ফাঁস

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ১৭, ২০১৬ at ৯:০৮ পূর্বাহ্ণ

20161017085004-picsayস্পোর্টস ডেস্ক:-বঙ্গবন্ধু কাপে চ্যাম্পিয়ন নেপালের প্রাইজমানি ৫০ হাজার ডলার না দেয়ার ঘটনার রেশ না কাটতেই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) আরও একটি কেলেংকারি ফাঁস হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের নাম ভাঙিয়ে চলতি বছরের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের টিকিট চেয়েছিল বাফুফে। চাঞ্চল্যকর এই তথ্য পাওয়া গেছে উয়েফার ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব থিওডর থিওডোরিডিসের কাছে পাঠানো বাফুফের চিঠি থেকে। শুধু তাইনয়, জাপান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (জেএফএ) কোচ নরিওর পাওনা বিমান ভাড়াও দেয়নি বাফুফে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ জেএফএ।চলতি বছরের জুনে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত ইউরোর ফাইনালের জন্য চারটি টিকিট চেয়ে বাফুফেচিঠি দেয়। ২৪ মে উয়েফার ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব থিওডর থিওডোরিডিসের কাছে পাঠানো বাফুফের চিঠিতে (স্মারক নং-১৭৭/বাফুফে-উয়েফা/২০১৬) বলা হয়, ‘বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের জন্য ফাইনালের চারটি টিকিট প্রয়োজন।’ অভিযোগ রয়েছে, শুধু ইউরো নয় বিশ্বকাপের সময়ও প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের নাম ভাঙিয়ে ফিফার কাছ থেকে টিকিট বরাদ্দ নেয় বাফুফে। পরবর্তী সময়ে তা মোটা অংকের বিনিময়ে বিভিন্ন জনের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়।

জাপান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশে বয়সভিত্তিক ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য ১২ বছর ধরে আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে। আগে ছেলেদের টুর্নামেন্ট হতো। গত ক’বছর ধরে ছেলেদের টুর্নামেন্ট বাদ দিয়ে মেয়েদের টুর্নামেন্টের আয়োজন করছে বাফুফে। ২০১৪ সালে জেএফএ কাপ উপলক্ষে বাংলাদেশে এসেছিলেন জাপানি কোচ নরিও। তার যাওয়া-আসার টিকিট বাফুফে দেয়ার কথা। জেএফএ’র সাধারণ সম্পাদক হারা হিরোমি ২০১৪ সালের ৭ নভেম্বর নরিওর বিমান ভাড়া বাবদ পৌনে দু’লাখ ইয়েনের বিল বাফুফের কাছে পাঠিয়েছে। প্রায় দু’বছর কেটে যাওয়ার পরও বাফুফে নরিওর বিল দেই দিচ্ছি করে দেয়নি। এ সময়ের মধ্যে জেএফএ বেশ ক’বার তাগাদা দিলেও তা আমলে নেয়নি বাফুফে।মূলত ‘শেখ কামালের বন্ধু। শেখ জামালের সঙ্গে আমি খেলেছি’, এরকম হাজারও কল্পকাহিনীশুনিয়ে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা বলে, ক্রীড়াঙ্গনকে কুক্ষিগত করেছে বাফুফের একটি সুবিধাবাদী চক্র। এ চক্রের দাপটে অসহায় হয়ে পড়েছেন প্রকৃত ক্রীড়া সংগঠকরা। এ চক্রের বিরুদ্ধে কথা বলার কেউ নেই। বিশেষ করে এক মহিলা সংগঠিকার কারণে ফুটবলের নাভিশ্বাস অবস্থা। ভুটানের কাছে নির্লজ্জ হারের জন্য বাফুফে কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও লুটপাটকেই দায়ী করা হচ্ছে। আর এ দুর্নীতি ও লুটপাটের অন্যতম হোতা হলেন ওই মহিলা। একসময়কার মাদারীপুর সরকারি নাজিম উদ্দিন কলেজের ছাত্রী সংস্থার নেত্রী ঢাকায় এসে ভোল পাল্টে হয়ে যান যুবলীগ কর্মী। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়েও মহিলা ক্রীড়া সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে আশীন ছিলেন। মহাজোট সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পরেই ফুটবলসহ ক্রীড়াঙ্গনে প্রভাব বিস্তার শুরু করেন। বাফুফের এক প্রভাবশালী কর্মকর্তার মদদে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও জায়গা করে নিয়েছেন। ২০১০ সালে ঢাকা সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসে একটি সাব কমিটির সদস্য সচিব হয়ে ভুতুরে বিলের মাধ্যমে প্রায় দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এই রাজাকারের আত্মীয়। জাতীয় দলের সাবেক তারকা ফুটবলার শামসুল আলম মঞ্জু বলেন, ‘বাফুফের সভাপতি কাজী সাহেব এই সরকারের আগে জীবনে কোনোদিন শেখ কামালের কবরে ফুল দেননি। অথচ বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার নয়, কখনও কখনও প্রধানমন্ত্রীর নাম পর্যন্ত ভাঙান তিনি। আমরা জানি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন ক্রীড়া পাগল মানুষ। খেলাধুলার প্রতি রয়েছে তার অগাধ ভালোবাসা। প্রধানমন্ত্রীর এ দুর্বলতাকে পুঁজি করেই কাজী সাহেবরা ফুটবলে জেঁকে বসেছিলেন। আজ দেশের ফুটবলের বারোটা বাজিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে চরম লজ্জার মধ্যে ফেলে দিয়েছেন। আমি মনে করি, এটা দেশদ্রোহিতার শামিল। এবং সরকারের উচিত তাদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা করা।’ এদিকে ফুটবলের এ ধসের জন্য কাজী সালাউদ্দিনকে দায়ী করে বাফুফে থেকে পদত্যাগ করারপ্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রায় অর্ধডজন কর্মকর্তা। সহ-সভাপতি কাজী নাবিল দেশে ফিরলে তার সঙ্গে আলোচনা করে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন বলে জানিয়েছেন বিক্ষুব্ধ এক নির্বাহী সদস্য। এ প্রসঙ্গে বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ বলেন, ‘আমরা ইউরোর কাছে টিকিট চেয়েছিলাম। পরে আর নেয়া হয়নি। আর নরিওর টাকা গত মাসে আমাদের একজন কোচের মাধ্যমে জাপান পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের কোনো সদস্য কি বাফুফের কাছে টিকিট চেয়েছিলেন? এই প্রশ্নের জবাবে নির্লিপ্ত থাকেন সোহাগ। তাছাড়া নরিওর টিকিটের টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে না পাঠিয়ে হাতে হাতে দেয়ার কোনো বিধান রয়েছে কিনা? এ প্রশ্নেরও কোনো সঠিক উত্তর দেননি বাফুফের সাধারণ সম্পাদক। সূত্রঃ যুগান্তর।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View