ঢাকা : ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, রবিবার, ২:২৫ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

শিক্ষকদের বাড়তি উপার্জনের জন্য ভর্তি ফরমের মূল্য বৃদ্ধি : জাফর ইকবাল

jafor-iqbal

সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) ভর্তি আবেদন ফরমের মূল্য বৃদ্ধি প্রতিবাদে চলমান আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

তিনি বলেছেন, ‘ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে শিক্ষকদের বাড়তি উপার্জনের জন্য ভর্তি ফরমের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে।’ জাফর ইকবাল বলেন, ‘এসএমএস পদ্ধতি চালুর করার পর আমাদের খরচ অনেক কমে গেছে। আগে অনেক মানুষকে টানা পড়েনে থেকে কাজ করতে হতো। এখন সব কিছু পরিবর্তিত হয়ে গেছে। কাজেই সত্যি কথা বলতে কী, এখন খরচ আগে থেকে অনেক কম।

টুকটাক যে খরচ যেমন কাগজের খরচ, ছাপার খরচ এগুলো আর কী। কাজেই আমি কোনোভাবে মানতে পারব না যে এখানে একটা ছাত্র কিংবা ছাত্রীকে শুধু ভর্তি পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে তাঁকে এক হাজার কিংবা এক হাজার ২০০ টাকা প্রয়োজন হবে, সেটা কোনোবেই মেনে নেওয়া যায় না।’

জাফর ইকবাল আরো বলেন, ‘আসলে এ খরচটা নেওয়া হচ্ছে শুধু শিক্ষকদের নানাভাবে ভাগ করে দেওয়ার জন্য। এটা আসলে ভর্তি পরীক্ষার খরচ নয়। এটা হচ্ছে ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে শিক্ষকদের সম্মানী কিংবা উপার্জনের একটা ক্ষেত্র।’ এ ব্যাপারে উদাহরণ দিতে গিয়ে ড. জাফর ইকবাল বলেন, ‘একটা কমিটি আছে পরিবহন কমিটি। সে পরিবহন কমিটির দায়িত্বটা হচ্ছে যেদিন পরীক্ষা হবে সেদিন কয়েকটি গাড়ি ভাড়া করে দেওয়া। এখন এ পরিবহন কমিটির খরচ দেখতে আহ্বায়ক আছেন, সদস্য আছেন। হিসাব করে দেখেন ওই একদিনের জন্য গাড়ি ভাড়ার টাকাটা নেওয়া যৌক্তিক কি না।’

‘তারপর হচ্ছে প্রচার কমিটি। আজকাল আর প্রচারণার প্রয়োজন হয় না। এসএমএসের মাধ্যমে তার (শিক্ষার্থীদের) ঘরে টেলিফোনে খবরটা পৌঁছে যায়। এসএমএসে সে তার সব কাজ সেরেও নিতে পারে। আরো আছে আপ্যায়ন কমিটি। শিক্ষকদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য কমিটি করে দেওয়া হয়। আজকাল মোবাইল দিয়ে একটা টেলিফোন করে দিলেই ঘরে খাওয়ার চলে আসে। এজন্য আলাদা কমিটি করে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। এ রকম অসংখ্য কমিটি আছে যেগুলো পুরোপুরি অপ্রয়োজনীয়। এগুলো করা হয়েছে যাতে শিক্ষকরা কোনোভাবে অর্থ পেতে পারেন তার একটা ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য।’

জাফর ইকবাল বলেন, ‘আমি যখন ১৯৯৪ সালে প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলাম, তখন ভর্তি কমিটিতে পাঁচজন সদস্য থাকত। প্রয়োজনে তাঁরা দায়-দায়িত্ব ভাগ করে নিত। এখন আপনি ভর্তি কমিটির দিকে তাকান, ২৯ জন রয়েছেন সেই কমিটিতে। এই ২৯ জন হচ্ছেন মূল কমিটির সদস্য। তাঁরা মূল কমিটির সদস্য হওয়ায় অন্য কাজ আর করেন না। তাঁরা সদস্য হয়ে শুধু মিটিং করেন। পুরো বিষয়টা আসলে সাজানো হয়েছে যাতে শিক্ষকরা বাড়তি উপার্জন করেন।’

জাফর ইকবাল আরো বলেন, ‘একাডেমিক কাউন্সিল কিংবা প্রশাসনিক কোনো মিটিংয়ে আমি যাই না। শিক্ষকদের ওপর ওই হামলার পর এসব দায়িত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছি। আমি যদি উপস্থিত থাকতাম আমি নিশ্চিতভাবে একাডেমিক কাউন্সিলে এটার বিরুদ্ধে বিরোধিতা করতাম। আর যদি নাও পারতাম তাহলে একটা নোট দিয়ে আসতাম, যে আমি এটা মানি না। একাডেমিক কাউন্সিলের সম্মানিত সব সদস্য এ বিষয়টাকে পাস করিয়ে দিয়েছেন। এটা আমার জন্য একটা লজ্জার বিষয়।

আমি একাধিকবার কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখেছি জানার জন্য যে তারা কীভাবে টাকা খরচ করেন। কিন্তু তারা আমাকে আর সে বিষয়টা জানান না। আপনারা সাংবাদিক আছেন, তথ্য অধিকার আইনে আপনারা এসব তথ্য পেতে পারেন। আমি আপনাদের অনুরোধ করব, আপনারা ওইখান থেকে লিস্ট নেন, যে কে কী কাজ করেছে এবং সে কত টাকা পেয়েছে। আপনি দেখবেন কাজ করে টাকা পাচ্ছে না, শুধু একটা জায়গায় উপস্থিত থাকার জন্য তারা টাকা নিচ্ছে। আমি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে যৌক্তিক মনে করি এবং তাদের অভিনন্দন জানাই যে তারা একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর কষ্ট বুঝে এমন আন্দোলন করছে।’

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

‍‘আগামী দিনে উন্নত বাংলাদেশ গড়বে এদেশের মেধাবী সন্তানেরা’

আমাদের মেধাবী সন্তানেরা আগামী দিনে বাংলাদেশ কে মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নত বাংলাদেশে এগিয়ে নিয়ে …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *