ঢাকা : ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, মঙ্গলবার, ৭:০১ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ‘প্রতিবেদন’ ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে:ইকোনোমিস্ট

cyber-attack

নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনাটিকে ‘রহস্যময়’ বলে অভিহিত করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ইকোনোমিস্ট। অর্থ চুরি বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন কয়েক দফা প্রকাশের কথা বলেও সিদ্ধান্ত থেকে সরে আছে সরকার। সবশেষ গত সেপ্টেম্বর মাসেই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। প্রতিবেদন প্রকাশের দিনক্ষণ জানিয়ে, তার আগের দিন হুট করে তা স্থগিত করেন মুহিত। অর্থ উদ্ধারের অজুহাতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হচ্ছে না বলা হয়েছে। তবে আদৌ প্রতিবেদনটি আলোর মুখ দেখবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে ইকোনোমিস্ট।

বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পদস্থ কর্মকর্তার সাক্ষাতকারের ভিত্তিতে ইকোনোমিস্ট এই সিদ্ধান্তে আসে যে, সরকার হয়তো ওই প্রতিবেদনটি আর প্রকাশ করবে না। শুধু তাই নয়, প্রতিবেদনটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলেও ইকোনোমিস্ট দাবি করে।

উল্লেখ্য যে, এর আগেও অর্থ চুরি বিষয়ক দুবার প্রতিবেদন প্রকাশ করতে গিয়েও তা স্থগিত করে দেয় বাংলাদেশ সরকার। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবেদন না প্রকাশ করার কারণে হিসেবে বলা হচ্ছে, প্রতিবেদনটি প্রকাশ হলে অর্থ উদ্ধার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বেই ওই তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছিল। তদন্তাধীন সময়ে তিনি বেশ কয়েকবার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পক্ষে কথা বললেও, বর্তমানে তিনি এবিষয়ে কোনো কথা বলছেন না। ইকোনোমিস্টের মতে, এই প্রতিবেদনটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, কারণ প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হলে অর্থ চুরির সঙ্গে জড়িত কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং সরকারের মধ্যকার অনেকের নাম চলে আসতে পারে।

অবশ্য বাংলাদেশ সরকার অর্থ চুরির বিষয়ে বরাবরই বহির্দেশিয় হ্যাকার, দ্য নিউ ইয়র্ক ফেড এবং সুইফটের মতো সহযোগি প্রতিষ্ঠানের কোনো হাত আছে কিনা সেবিষয়ে প্রশ্ন তোলে।

বাংলাদেশ সরকার এখনও চেষ্টা চালাচ্ছে চুরি যাওয়া অর্থ ফিলিপাইন থেকে উদ্ধার করতে। চুরির অধিকাংশ অর্থই ফিলিপাইনের ক্যাসিনোগুলোতে সঞ্চালিত হয়েছিল। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট দেতার্তের সঙ্গে এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিমান অর্থ ফেরত দেবার আশ্বাস দিয়েছিলেন। গত সেপ্টেম্বরেই ফিলিপাইনের আদালত সেদেশের কেন্দ্রিয় ব্যাংককে ওই অর্থ বাংলাদেশকে ফিরিয়ে দেয়ার আদেশ দিয়েছিল। ইকোনোমিস্টের মতে, ফিলিপাইন সরকার এই পরিমান অর্থ খুব সহজেই বাংলাদেশকে ফিরিয়ে দিয়ে শান্তিতে থাকতে চাইবে।

কিন্তু হ্যাকাররা কীভাবে সুইফটের আসল ট্রান্সফার অর্ডার ব্যবহার করে নিউ ইয়র্ক ফেডের কাছ থেকে অর্থ সরিয়ে নিলো সেটা নিয়ে এখনও কোনো পক্ষই মুখ খুলছে না। পাশাপাশি এটাও সন্দেহের বিষয় যে, নিউ ইয়র্ক ফেডের মতো একটি পেশাদার সংস্থা কীভাবে সন্দেহজনক ট্রান্সফার অর্ডারের অনুমোদন দিলো। তবে অনেকেই মনে করছেন হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফট সিস্টেম হ্যাক করে ট্রান্সফার অর্ডার দিয়েছিল।

প্রশ্ন হচ্ছে, যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে গোটা বিশ্বের ব্যাংকিং লেনদেন ব্যবস্থায় বিশাল হুমকি দেখা দেবে। কারণ বিশ্বের প্রায় অর্ধেক আন্তদেশিয় লেনদেন পরিচালিত হয় সুইফটের মাধ্যমে।

ইকোনোমিস্টের মতে, এমনও হতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতর থেকেই কেউ এই হ্যাকিংয়ে সহায়তা করেছে।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

68c6a1d425672e5846dcf5dbe32a3b36x600x400x33

‘শান্তিরক্ষা মিশনে অস্ত্রশস্ত্র ভাড়া বাবদ বাংলাদেশের বার্ষিক আয় ৪৩৭,৫২,৯৫,২৬৪ টাকা’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেছেন, ২০০১ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছর আগস্ট পর্যন্ত জাতিসংঘ …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *