Mountain View

ভিক্ষার টাকায় মসজিদ নির্মাণ করলেন কালুজান বেওয়া

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ২১, ২০১৬ at ৯:৫৭ অপরাহ্ণ

বিধবা ভাতা ও ভিক্ষার টাকায় মসজিদ নির্মাণ করলেন কালুজান বেওয়া। তিনি উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের শিরঘাটা গ্রামে এই মসজিদটি নির্মাণ করেন।full_1021893454_1477059434

সত্তুর বছর বয়সী কালুজান বেওয়া মির্জাপুর উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের শিরঘাটা গ্রামের নিজাম উদ্দিন নিধানের স্ত্রী। শুক্রবার মসজিদটি সরজমিন পরিদর্শনে গিয়ে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী টাঙ্গাইল জেলা যুবলীগের সহ-সম্পাদক মীর মঈন হোসেন রাজীব মসজিদটি উন্নয়নের জন্য ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেন।

এলাকাবাসী ও কালুজান বেওয়া জানান, প্রায় চার বছর আগে নিজাম উদ্দিন স্ত্রী, চার ছেলে ও এক মেয়ে রেখে মারা যান। চার ছেলে দিনমজুর খেটে ও মেয়ে অন্যের বাড়ি কাজ করে সংসার চালান। পাঁচ সন্তানই দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালান। স্বামীর মৃত্যুর পর কালুজান বেওয়া স্থানীয় ইউপি সদস্য রোকেয়া বেগমের মাধ্যমে বিধবা ভাতার কার্ড পান। সেখান থেকে প্রতি মাসে তিনি চারশ টাকা করে পান। সে টাকা খরচ না করে ইউপি সচিব বজলুর রশিদের কাছে জমা রাখেন। বেঁচে থাকার তাগিদে ভিক্ষাবৃত্তি শুরু করেন সত্তুর বছর বয়সী কালুজান বেওয়া। বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা করেই কোন রকমে দিন পার করেন তিনি। এরমধ্যে তিনি সচিবের কাছে প্রায় দুই লাখ টাকা জমা করে ফেলেন। হঠাৎ করে তিনি খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থ হওয়ার পরও তিনি জমাকৃত টাকা খরচ না করে সুস্থ হয়ে উঠার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।

ভিক্ষা করে দিন পার করলেও অসুস্থ অবস্থায় তিনি মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। পরে তিনি স্বামীর রেখে যাওয়া তরফপুর মৌজায় শিরঘাটা এলাকায় ২৪ শতাংশ জমির উপর মসজিদটি নির্মাণ করেন। ২২ হাত চারচালা বিশিষ্ট মসজিদ ঘরটি নির্মান করতে তার দুই লাখ ৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অযু করার জন্য মসজিদটির পাশে একটি টিউবওয়েল ও একটি টয়লেটও স্থাপন করা হয়েছে। মসজিদটিতে মুসল্লিরা এখন নিয়মিত নামাজ আদায় করছেন। বিনা বেতনে আফাজ উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি ইমামের দায়িত্ব পালন করছেন। মসজিদের মোমবাতি ও আগরবাতিসহ আনুষাঙ্গিক খরচও বৃদ্ধা কালুজান বেওয়া বহন করছেন।

বৃদ্ধা কালুজান  বলেন, বিধবা ভাতা খরচ না করে জমিয়েছিলেন। তাছাড়া ভিক্ষা করে পাওয়া টাকা নিজে খরচ করার পর যে টাকা থাকতো তাও তরফপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব বজলুর রশিদ বাজেদের কাছে জমা রাখতেন। এরপর সেই জমানো টাকা দিয়ে স্বামীর রেখে যাওয়া ২৪ শতাংশ জমির উপর মসজিদটি নির্মাণ করেন।

সচিব বজলুর রশিদ সাংবাদিকদের জানান, কালুজান দীর্ঘ দিন ধরে বিধবা ভাতা ও ভিক্ষার টাকার কিছু কিছু করে তার কাছে জমা রাখতেন। এভাবে খেয়ে না খেয়ে দুই লাখ চার হাজার টাকা জমা করেন তিনি। এলাকাবাসী তাকে জমানো টাকা দিয়ে স্বামীর নামে কাঙ্গালীভোজ করার পরামর্শ দেন। কিন্তু তাদের কথায় সাড়া না দিয়ে কালুজান মসজিদ নির্মাণের কথা সবাইকে জানান। পরে তার স্বামীর রেখে যাওয়া ২৪ শতাংশ জমিতে তিনি মসজিদটি ঘর নির্মাণ করেন।

টাঙ্গাইল জেলা যুবলীগের সহসম্পাদক মীর মঈন হোসেন রাজীব বলেন, বিধবা ভাতা ও ভিক্ষার টাকায় নির্মিত মসজিদটি শুক্রবার দুপুরে দেখতে যান। মসজিদটির ফ্লোর পাকা না থাকায় তাৎক্ষণিক কালুজানের হাতে ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেন। তাছাড়া মসজিদটি পাকা না হওয়া পর্যন্ত তিনি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View