ঢাকা : ২৫ জুন, ২০১৭, রবিবার, ৭:৪৭ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের শেষ বিতর্কে কে জিতেছে?

যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর তৃতীয় ও শেষ টেলিভিশন বিতর্কে মুখোমুখি হয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং হিলারি ক্লিনটন। ওই বিতর্ক নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন বিবিসির সংবাদদাতা।

এটা হয়তো ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাঙ্ক্ষিত বিতর্ক, কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটা এমন একটি বিতর্ক হলো, যা হয়তো ডোনাল্ড ট্রাম্প চাননি।

আমেরিকান জনগণের কাছে এটাই ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজেকে মেলে ধরার একটি সুযোগ। তিনি যে প্রেসিডেন্ট হিসাবে নির্ভরযোগ্য সেটি প্রমাণ করার। তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো নস্যাৎ করারও সুযোগ ছিল এই বিতর্কে।

কিন্তু তার বদলে তিনি সেখানে সুপ্রিম কোর্ট, অভিবাসন, গর্ভপাত ইত্যাদি নিয়ে তর্কের এক পর্যায়ে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটনকে ‘মিথ্যাবাদী’ এবং ‘জঘন্য মহিলা’ বলে গালি দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, যে নারী তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন, হয় তিনি অন্যদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চান, না হলে ক্লিনটনের পক্ষের লোক। গণমাধ্যম মানুষের মন বিষিয়ে তুলছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

তবে সবচেয়ে যেটি গুরুত্বপূর্ণ, ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, নির্বাচনে তিনি হারলে ফলাফল মানবেন কিনা, সেটি নিয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

হিলারি ক্লিনটনImage copyrightAP
Image captionপ্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনের শেষ বিতর্কের পুরো সময়টায় হিলারি ক্লিনটন তার স্বকীয়তা ধরে রেখেছেন

আমেরিকার সাউথ ক্যারোলিনা স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শফিকুল রহমান বলছেন, ”এবারের নির্বাচনেই প্রথমবারের মত আমেরিকান প্রার্থীদের ব্যক্তিত্ব বিচারের বিষয়টি সামনে এসেছে। ব্যক্তিগত আক্রমণও এবারের মত আর কখনো দেখা যায়নি। এতে করে ভোটারদের মধ্যে বিভক্তি বাড়ছে।”

তিনি বলছেন, ”ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি নির্বাচনের ফলাফল মেনে না নেয়, তাহলে আমেরিকায় এক ধরণের সাংবিধানিক সংকট দেখা দিতে পারে। সেই সঙ্গে আরো বড় ধরনের সামাজিক সমস্যা হবার আশংকাও রয়েছে।”

আমেরিকান প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনের শেষ বিতর্কের পুরো সময়টায় হিলারি ক্লিনটন তার স্বকীয়তা ধরে রেখেছেন। আলোচনা ঘুরে গেলেও, তিনি আবার সেসব প্রসঙ্গে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছেন, যেখানে তার সুবিধা রয়েছে।

তবে বিতর্কের পর আমেরিকার সংবাদ মাধ্যমে যে খবরটি হয়তো সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে, তা হলো, নির্বাচনের কারচুপি নিয়ে মি. ট্রাম্পের বক্তব্যে অটল থাকা। কারণ এই প্রথম কেউ আমেরিকান নির্বাচনে কারচুপি হতে পারে এমন আশংকা ব্যক্ত করলেন।

এটা এমন একটি অভিযোগ, যা আমেরিকার জনগণ, আমেরিকার গণতন্ত্র শুনতে চায়না।

এর আগে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, গর্ভপাত, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং অবৈধ অভিবাসন নিয়ে তুমুল বাদানুবাদ হয় দুই প্রার্থীর মধ্যে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পImage copyrightREUTERS
Image captionনির্বাচনে হারলে ফলাফল মানবেন কিনা, তা নিয়ে জবাব দিতে রাজি হননি ডোনাল্ড ট্রাম্প

পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, বিতর্কে দুই প্রার্থীই আগের দিনের বিতর্কের চেয়ে কম আক্রমণাত্মক ছিলেন।

তবে, এই বিতর্কের শুরুতেও প্রথা মাফিক দুই প্রার্থী পরস্পরের সঙ্গে হাত মেলাননি।

যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসের ইউনিভার্সিটি অব নেভাডায় ফক্স নিউজের প্রেজেন্টার ক্রিস ওয়ালেসের সঞ্চালনায়, প্রায় দেড় ঘণ্টার এ বিতর্কে উভয় প্রার্থী প্রায় ৪০ মিনিট করে সময় পান।

জরিপে দেখা যাচ্ছে, এখনো প্রধান নির্বাচনী রাজ্যগুলোতে হিলারি ক্লিনটন এগিয়ে রয়েছেন। যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার পর বিভিন্ন রাজ্যে মি. ট্রাম্পের সমর্থন হ্রাস পেয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

ফেসবুকে চ্যাটিংয়ে ব্যস্ত মা, বাথটাবে মৃত্যু সন্তানের!

মা ফেসবুকে ব্যস্ত। ভুলেই গিয়েছিলেন বাথটাবে আট মাসের শিশুকন্যাকে গোসল করতে বসিয়ে এসেছেন। যখন মনে …

আপনার-মন্তব্য