ঢাকা : ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, বুধবার, ১০:৪০ অপরাহ্ণ
সর্বশেষ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

আত্মহত্যার আগে ফেসবুকে স্ট্যাটাস নিয়ে উদ্বেগ

আত্মহত্যা ও ফেসবুকের স্ট্যাটাস (প্রতীকী ছবি, ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত)

সম্প্রতি বেশ কয়েকটি আত্মহত্যার ঘটনার আগ মুহূর্তে ফেসবুকে আত্মহত্যা বিষয়ক বা আত্মহত্যার ইঙ্গিত দিয়ে লেখা স্ট্যাটাসের কারণ নিয়ে নতুন করে ভাবছেন মনোরোগ বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক গবেষণা বাংলাদেশে না হলেও অভিজ্ঞতা বলছে, পরিচিত স্বজনদেরকে বিষয়টি জানানোর পাশাপাশি মৃত্যুর আগে অন্যদের শেষ প্রতিক্রিয়া দেখার আকাঙ্ক্ষাও হয়ে থাকতে পারে এই স্ট্যাটাস। কারণ স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত কাউকে হুমকি দিতে দেখা যায়নি। যারা আত্মহত্যা করছেন তারা আসলে শেষ সময়ে সমাজ ব্যবস্থার প্রতি একটি বার্তা দিতে চেয়েছেন।

একজন মানুষ যখন কোনও বিশেষ পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছায় নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে দেন সেই করুণ পরিণতিকে বলা হয় আত্মহত্যা। সাধারণত বিপন্ন, বিষণ্ন বা বিপর্যস্ত মানসিক অবস্থায় যখন কোনও মানুষের জীবনে আশার বাতি নিভে যায় তখন তিনি এমন চরমতম সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।সমাজ ও ধর্মের চোখে গর্হিত অপরাধ হলেও এমন ঘটনা বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে অহরহ ঘটেই চলেছে। তবে আত্মহত্যার আগ মুহুর্তে তা জানান দিয়ে যান অনেকেই। আগে চিরকূটে বা চিঠিতে অনেকেই নিজের আত্মহত্যার কারণ  লিখে রেখে যেতেন। ইদানিং ফেসবুকের স্ট্যাটাসে নিজের শেষ পরিণতির কথা  সবাইকে আগাম জানিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বেশ বেড়ে গেছে।

ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষিকা রাবেয়া কুলসুম পিংকী। আত্মহত্যার আগের ছবি।গত বুধবার ফেসবুকে ‘সবাইকে ধন্যবাদ’ জানিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষিকা রাবেয়া কুলসুম পিংকী (২৭)। রাজধানীর বাড্ডায় নিজ বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যার আগে মঙ্গলবার রাত ১২টায় নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। এরপর থেকেই তার ফোনে সংযোগ না পেয়ে এক বান্ধবী পিংকীর ছোট ভাই নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শরীফকে বিষয়টি জানান। শরীফ রাতেই ওই বাসায় গিয়ে কোনও সাড়া-শব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীদের নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি ফ্যানের সঙ্গে বোনের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান।

এর আগে মডেল এবং গান বাংলা টেলিভিশনের মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ সাবিরা হোসাইন আত্মহত্যা করেন। মিরপুরের রূপনগরে সাবলেটে বাসা থেকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর আগে সাবিরার ফেসবুক স্ট্যাটাস ও ভিডিও বার্তা দেখে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন।

সাবিরা তার ফেসবুকে দেওয়া সর্বশেষ স্ট্যাটাসে আত্মহত্যার কারণও লিখেছিলেন। একইসঙ্গে তিনি একটি ভিডিও আপ করেছেন। সেখানে চাকু হাতে বারবার পেটে ও গলায় চাপ দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু ব্যর্থ হওয়ায় ৯ মিনিটের ওই ভিডিওর শেষে তিনি বলেন, ‘আমি ব্যর্থ, আপাতত। এবার পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা মডেল ছাড়াও কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীকে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যার করার নজির পাওয়া গেছে।

২০১৪ সালে কুলাউড়ার স্কুলছাত্র মাছুম আহমদ (১৫) ফেসবুকে আত্মহত্যার স্ট্যাটাস দেওয়ার এক ঘণ্টা পর বাড়ির পাশে গাছের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। তার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন বিকাল তিনটায় সে ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে আত্মহত্যার ঘোষণা দেয়। পরে ঘর থেকে বেরিয়ে যায় সে। বাড়ির লোকজন তার আত্মহত্যার স্ট্যাটাস দেখে দ্রুত তাকে খুঁজতে বের হয়। পরে দেখা যায় ততক্ষণে সে গাছে গরুর রশি ঝুলিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জিয়া রহমান বলেন, ‘আত্মহত্যার আগে সুইসাইড নোট লেখার প্রবণতা ছিল। এখন সেটা ফেসবুক স্ট্যাটাসে রূপ পেয়েছে। যখন কোনও ব্যক্তি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে সে এই কাজটা করবে, তখন মরে যাওয়ার আগে সে সবার কাছে বিষয়টা জানান দিতে চায়। সমাজে তাকে যারা চিনতো তাদের কাছে তার আত্মহত্যার কারণটা স্পষ্ট করে যেতে চায়। কারণ শেষ পর্যন্ত মানুষ সামাজিক জীব।’

তিনি আরও বলেন, একটা বিষণ্ন বা বিপন্ন মুহূর্তের সিদ্ধান্তে সে এমন একটা কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়। তার বিক্ষিপ্ততাই তাকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পথ দেখায়। এ নিয়ে গবেষণা হওয়া জরুরি বলে আমি মনে করি।

সামাজিক আন্দোলন কর্মী ও ‘মেডিট্রেন’ এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রফিক-উল-আলম স্বপন এ বিষয়ে বলেন, ‘ওই সময় তারা সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত থাকে। তবুও তারা কোনও একটা বার্তা রেখে যেতে চায়। তার ক্ষোভ, রাগ, ব্যর্থতাটা মানুষের সামনে রেখে যায়। কারণ সে কাউকে থ্রেট করছে না, সমাজকে, সমাজব্যবস্থার প্রতি সে একটা বার্তা দিয়ে যেতে চাচ্ছে।’

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

‘মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সেনারাও বুকের তাঁজা রক্ত দিয়েছেন’

মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত ও ভারতীয় সেনাদের অবদান কখনও ভোলার নয়। এ দেশ স্বাধীন করতে গিয়ে …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *