ঢাকা : ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, বৃহস্পতিবার, ২:০৯ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

চমক আসছে, কাদেরের সমর্থকদের ভেতর চাপা উচ্ছ্বাস

রাত পোহালেই আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন। দলের সভাপতি পদে গত ৩৫ বছরের মতো এবারও অপ্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন আসছে। টানা দুবারের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্থলে দলটির প্রেসিডিয়াম মেম্বার ওবায়দুল কাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র এমনটিই জানিয়েছে। সম্মেলনের আগেই আওয়ামী লীগের নতুন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদেরকে অভিনন্দন জানাতে শুরু করেছেন তার সমর্থকরা।full_1567797881_1477064088

অন‌্যদিকে ক্ষমতাসীন দলটির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বাড়িতে দেখা গেছে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজীম আহমদ সোহেল তাজকে।

বাংলাদেশের অন‌্যতম প্রাচীন দল আওয়ামী লীগের সম্মেলন নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আগ্রহের মধ‌্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ‌্যমেও চলছে ব‌্যাপক আলোচনা।ক্ষমতাসীন দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে সর্বস্তরে এখন এটিই আলোচ্য বিষয়। কে পাচ্ছেন এই গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব।

সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। কাল শনিবার ও পরশু রোববার আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন। বিদায়ী কমিটির কারা নতুন কমিটিতে থাকছেন, কাদের পদোন্নতি হচ্ছে, নতুন কে কে আসছেন—এসব নিয়ে আলোচনা থাকলেও সাধারণ সম্পাদক পদটি নিয়েই আগ্রহ সবার।

আওয়ামী লীগের তিনজন দায়িত্বশীল নেতা জানান, গত বুধবার রাতে দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে নতুন ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্রের খসড়া অনুমোদন করা হয়। বিকেল ৫টার পর থেকে শুরু হওয়া ওই সভা শেষ হয় রাত ১০টার দিকে। বৈঠকের আগে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দলের সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর থেকেই সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তনের গুঞ্জন শুরু হয়।

২০১২ সালে দলের জাতীয় সম্মেলনের আগেও সাধারণ সম্পাদক পদে ওবায়দুল কাদেরের নাম আলোচিত হয়। আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ২০০৯ সাল থেকে এই পদে আছেন। গতকাল সন্ধ্যায় তিনি গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

সকালে ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি কার্যালয়ে গেলে তাকে অনেক নেতা অগ্রিম শুভেচ্ছা জানান। দুপুরের দিকে তিনি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলনস্থল দেখতে যান এবং পরে দলের ধানমন্ডি কার্যালয়ের পাশে প্রিয়াঙ্কা কমিউনিটি সেন্টারে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। সাধারণ সম্পাদক হওয়ার সম্ভাবনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নেত্রী আমাকে প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। কাউন্সিলরদের অনুমোদন সাপেক্ষে বাকিটা সম্মেলনের দিনই ঠিক হবে। চাঁদ উঠলে সবাই দেখবে। সে জন্য ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে’

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে ওবায়দুল কাদেরের মধ্যে কিছুটা উচ্ছ্বাস তারা লক্ষ করছেন। এ ছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদকদের কেউ কেউ নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগের কাউন্সিলরদের সাধারণ সম্পাদকের পদে পরিবর্তনের বিষয়টি অনানুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছেন।

সূত্রগুলো জানায়, গত বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্তও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে সৈয়দ আশরাফের অবস্থান বেশ শক্ত ছিল। কিন্তু ওইদিন রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকের পর এক অনির্ধারিত আলোচনা শেষে সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন আলোচনা শুরু হয়। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক নেতা এ বিষয়ে বলেন, বৈঠকের পর দলের সিনিয়র নেতাদের সামনেই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সারা দেশের জনমত জরিপে সাধারণ সম্পাদক পদে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর জোরালো অবস্থানের কথা জানান ওবায়দুল কাদেরকে। মূলত ওই বক্তব্যের পর থেকেই সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন সৈয়দ আশরাফ। গণভবন সূত্রে জানা গেছে, তারা দুজন প্রায় ৪৫ মিনিট একান্তে আলাপ করেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আলাপচারিতার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের প্রতি বরাবরের মতোই অবিচল মনোভাব দেখিয়েছেন সৈয়দ আশরাফ। শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের প্রতি নিজের শতভাগ আস্থার কথাও জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সাবেক ছাত্রনেতা ওবায়দুল কাদেরকে এবারের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক করা হবে। সেক্ষেত্রে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির রাজনীতিবিদ সৈয়দ আশরাফকে আরেকটি সম্মানজনক পদে বসানো হবে। কিন্তু সেজন্য তাকে বছরখানেক অপেক্ষা করতে হবে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে গণভবনে বৈঠকের পর ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডি কার্যালয়ে আসেন। তখন তাকে বেশ উৎফুল্ল দেখা যায়। তিনি সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেন ও কুশল বিনিময় করেন। শুধু তাই নয়, ওবায়দুল কাদেরের ভক্ত নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাকে ‘সাধারণ সম্পাদক’ হিসেবে ‘আগাম অভিনন্দন’ জানিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের ১৮ ও ১৯তম সম্মেলনে টানা দুবার সাধারণ সম্পাদক হন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। দলের নেতাকর্মীদের কাছে ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবে তার জনপ্রিয়তা রয়েছে। অন্যদিকে ১৭তম জাতীয় সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ওবায়দুল কাদের। সে সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তিনি তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিলে সাধারণ সম্পাদক হন প্রয়াত আবদুল জলিল। ছাত্রলীগের সাবেক শীর্ষ নেতা হওয়ার কারণে সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা রয়েছে ওবায়দুল কাদেরের। এ ছাড়া পরিশ্রমী নেতা হিসেবে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সুনাম রয়েছে তার।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

ফারাজ হোসেন সাহসিকতা পুরস্কার পেলেন মিরাজ সরদার

গত সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে মিরাজ সরদারের হাতে ফারাজ হোসেন সাহসিকতা পুরস্কার তুলে দেয়া হয়েছে। …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *