ঢাকা : ২৫ জুন, ২০১৭, রবিবার, ২:৩৪ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

মামলা হলে সিভিল সার্ভিসে থাকা কঠিণ হয়ে যাবে সুশান্তের

shushanto-paul

জাহিদুল ইসলামজাহিদুল ইসলাম, বিডি টুয়েন্টিফোর টাইমস :  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে হেয় করার পরিণতি হিসেবে  ভয়াবহ শাস্তির মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন সুশান্ত পাল। শনিবার বিকেলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন যেকোনভাবেই হউক মানহানির মামলা করা হবেই। যার অর্থ দাঁড়াচ্ছে – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বনাম সুশান্ত পাল আইনি লড়াই হতে যাচ্ছে। সেখানে যে নিশ্চিতভাবেই কোনঠাসা হয়ে যাবেন দাম্ভিক এই বিসিএস ক্যাডার তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

কারণ বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে হেয় করে কেউ পার পেয়ে যাবেন প্রশ্নই আসে না। মামলটা যদি অার দশটা ব্যাক্তি টু ব্যাক্তি মামলা হতো তাতেও নিজেকে বাঁচিয়ে নিতে পারতেন। কিন্তু এটাতো আর নিছক কোন মামলা নয়। মামলটি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য আর গৌরবের সাথে একজন বিকারগ্রস্থ মানুষের। বুঝতেই পারেন কি হতে যাচ্ছে। নিজেকে মহাজ্ঞ্যানী ভেবে অপদার্থের মত করে মনের মাধূরী মিশিয়ে যে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লিখেছেন- সেই প্রতিষ্ঠিানটিই বাংলাদেশের অস্তিত্ব, বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য অার গৌরব।

সেই ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানটিই  বাংলাদেশের অস্তিত্বকে যুগ যুগ ধরে বাঁচিয়ে রাখে, গর্বিত করে, লালন করে, ধারন করে। সেই জায়গাটির উপর যখন কেউ আঘাত হানেন- আপনি নিশ্চিত থাকুন স্বয়ং রাষ্ট্রই তাকে এক চুল ছাড় দেবে না। সেখানে ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই হিসেব করা হলে  কয়েক লক্ষ সাবেকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে এভাবে অসভ্য-অশালীন ভাষায় যা ইচ্ছে তাই বলবে? এই দু:সাহস কোথা পেল সে।

সুশান্ত পাল হয়ত তথাকথিত সমাজের মুকুট নিজের মাথায় দেখতে পেয়েছিলেন। অথচ তিনি জানতেনই না এটাই সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে লেখা-পড়ার চেয়েও বিবেক ও মানবতার  শিক্ষাকে বেশি গুরত্ব  দেয়া হয়। এখানে হলে থাকা এমন কোন শিক্ষার্থী  আপনি পাবেন না যারা হল লাইফে অন্তত একবার হলেও মানবতার ডাকে মানুষের জীবন বাঁচাতে রক্ত দিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই বিশ্বের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যেটি কোন একটি দেশের অভ্যূদয়ে সবচেয়ে সক্রিয় অংশগ্রহন ও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করেছিলো। ১৯৫২, ৫৪, ৫৬, ৬২, ৬৬, ৬৯, ৭০, ৭১, ৯০, সবশেষ ২০০৭ সংখ্যাগুলোর ইতিহাস সবারই জানা। প্রতিটি পর্যায়েই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছিলো গুরত্বপূর্ন ভূমিকা। সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবজ্জল ইতিহাস জানার পরও আপনি বিকারগ্রস্থ হয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানহানী করেছেন।

আপনার মত এমন জ্ঞাণপাপী মানুষ দিয়ে আর যাই হউক এই দেশ আর সমাজের কোন উপকার হবে না। অাপনাকে ব্র্যান্ডিংয়ের নেশায় পেয়ে বসেছে। কিছু অবোধ তরূণ-তরণীর বিনয়ী স্যার-ভাইয়া ডাকে নিজেকে মহাপন্ডিত ভেবে মনের অজান্তেই নিজেকে অনেক বড় ভেবে ফেলেছেন। এই উপলব্ধিটাই যথেষ্ট একজন মানুষকে ধ্বংস করে দিতে। যার শেষ পর্যায়ে বেশির ভাগ মানুষ হয়ে পরেন মানসিকভাবে অসুস্থ। কেউ কেউ আবার হন বিকারগ্রস্থ। আপনার হয়েছে দ্বিতীয়টি। আপনি মানসিকভাবে বিকারগ্রস্থ। অাপনার চিকিৎসার প্রয়োজন।

সিভিল সার্ভিসে কুরুচিপূর্ন-অার বিকারগ্রস্থ মানুষদের কোন ঠাই নেই। লেখাটি যখন লিখছি তারও ঘন্টা ছয়েক আগেই গৌরবের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে ফেলেছেন। মামলা হবেই। এই মামলা একজন বিকারগ্রস্থ বিসিএস ক্যাডার সুশান্ত পালের বিরুদ্ধে। যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনি মানহানী করেছেন সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণেই তার মান কতটা নিচুতে গিয়ে ঠেকতে পারে সেটা মামলা হওয়ার পর থেকেই বুঝতে পারবেন। অার হ্যা এ যাত্রায় প্রথম-অালোকেও পাশে পাবেন না। কারণ প্রথম-অালোও ভালো করে জানে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এতই বড় এক পরিবার সেখানে একটু পান থেকে -চুন খসলেই অনেক কিছুই হয়ে যেতে পারে।

বিষয়টা একটু দেরিতে অনুধাবন করার কারণেই ২ বছর দাপটের সাথে ক্ষমতায় থেকে দেশ চালানোর পরও ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন মঈন ইউ -ফখরুদ্দিনের সেনা সমর্থিত সরকার। আমার দৃঢ় বিশ্বাস বাংলাদেশের অার কোন সেনাপ্রধাণ আগামী ১০০ বছরেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে খেপিয়ে কোন কিছু করতে যাবে না।

এতদিন যারা আপনার আসল রুপটা জানতেন না তারাও গত কয়েকদিনের ফলাও প্রচারে আপনার অপকর্মের এ টু জেড জেনে গেছে। বেশ কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে ফলাও করে সেসব প্রচারও করা হয়েছে। তাই নিজেকে মহাজ্ঞানী না ভেবে কোন প্রকার তুলনার আবহ তৈরি  না করে চুপ-চাপ নিজের কাজ করে যান। একদিন মানুষ ঠিকই আপনাকে ডাকবে। নিজেকে আদর্শ মানুষ হিসেবে তৈরি করুন েএকদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই আপনাকে ডাকবে।

তাইবলে একজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে না পড়ার এই চিরদিনের আক্ষেপ কেন বিশ্ববিদ্যালয়কে হেয় করার মত জঘণ্য, কুৎসিত আর নোংরা মানসিকতার দিকে নিয়ে যাবে আপনার মত একজন বিসিএস ক্যাডারকে? নিজেকে শোধরানোর এইত সময়-  নাহলে অারও দু:স্বপ্ন অপেক্ষা করছে আপনার জন্য। অহ- বোধ হয় একটু বেশিই দেরি করে ফেলেছেন!

লেখক : সাংবাদিক ও সাবেক ক্রিকেটার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর বাস, উল্টাপথ প্রসঙ্গ : মুদ্রার অন্য পিঠের গল্প

রাকিব মাহমুদ, বিডি টোয়েন্টিফোর টাইমস   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর বাস, উল্টাপথ প্রসঙ্গ : মুদ্রার অন্য …

আপনার-মন্তব্য