ঢাকা : ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, শনিবার, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
সর্বশেষ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

ক্ষমা চাইলেও পালকে ক্ষমা নয়, মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাবি শিক্ষার্থীরা

shushanto-paul

ঢাবি প্রতিনিধি, বিডি টুয়েন্টিফোর টাইমস :  গত ১৮ অক্টোবর সকাল ১১ টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কটাক্ষ করে ও ভুল তথ্য সম্বলিত ফেইসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন পাল।  এরপরই বিক্ষোভে ফেটে পরেন  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। নিজের ইচ্ছাকৃত এই ভুলের মাশুল ও অশনিসংকেত বুঝতে পেরে ক্ষমা চান সুশান্ত পাল। তাতে আখেরে কোন লাভ হয় নি। উল্টো তারা মামলার প্রস্ততি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বিডি টুয়েন্টিফোর টাইমসকে।

কাস্টমস কর্মকর্তা সুশান্ত পালের একটি ফেইসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিস্তার করছে । বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিডি টুয়েন্টিফোর টাইমসের ক্যাম্পাস রিপোর্টার জানতে পেরেছেন ঢাবিকে নিয়ে গত ৩ বছর ধরে যে ধরনের অপপ্রচার নোংরা কথা বলে বেরিয়েছে এবার আর কোন ক্ষমা নয়। এবার মামলা করেই  সুশান্তর শেষ দেখা হবে।’ জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের (ফেসুবক) এডমিন শাহরিয়ার প্রামাণিক।

সব কিছু ঠিক থাকলে আর মানহানির মামলা হয়ে গেলে চরম বিপদেই পরতে যাচ্ছেন সুশান্ত পাল। সেক্ষেত্রে দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মানহানী মামলায় তার চাকরিও স্থগিত হয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকেই।

file-2

ঢাবি নিয়ে কি লিখেছিলেন পল?

তিনি ফেইসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘একটা ছেলে ঢাবি নিয়ে স্বপ্ন দেখা অবস্থায় এখানে ভর্তি হয়ে তারপর ক্যাম্পাসে এসে দোজখের মধ্যে পড়ে। চান্সপ্রাপ্ত শারীরিক প্রতিবন্ধিদের নিয়ে তাদের ক্লাসমেটরা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য ও হাসি-ঠাট্টা করে।’

হলের পরিবেশ নিয়ে সুশান্ত পাল লেখেন, ‘হলের গেস্ট রুমে গাঁজাখোর তথাকথিত বড় ভাইয়েরা সদ্য চান্সপ্রাপ্ত ছেলেটাকে আন্ডারওয়্যার পড়িয়ে নাচায়, ন্যাংটা করে উঠবস করায়। গেস্ট রুমে মাস্টারবেট করতে বাধ্য করেই ক্ষান্ত হন না এরপর তা ভিডিও ধারণ করে। গাঞ্জাখোর বড় ভাইয়েরা বইপত্র ছুঁড়ে ফেলে দেয়। চায়ে বীর্য ঢেলে দিয়ে সেটা জুনিয়র কে খেতে বাধ্য করায়। এখানে মেয়ে নামক কিছু কুত্তীও আছে এরাও এসব কাজ করে।

তিনি লিখেছেন,

#এক. “হলের গেস্টরুমে নিয়ে সম্পূর্ণ উলঙ্গ অবস্থায় বিভিন্ন হিন্দি গানের সাথে নাচতে আর সবার সামনেই মাস্টারবেট করতে বাধ্য করে।”

#দুই. “চায়ের কাপে প্রস্রাব করে, বীর্য ফেলে চায়ের সাথে মিশিয়ে খেতে বাধ্য করতো। হলের গেস্টরুম ছিল বড় ভাইদের প্রিয় র্যা গসেল, তথা টর্চারসেল।”

#তিন. “ওর খাটে বসে সবাই মিলে গাঁজা টানতো, ড্রাগ নিতো, আর ওইসময় ওকে দিয়ে ম্যাচের কাঠির সাহায্যে রুমের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ মাপাতো। তীব্র শীতের রাতে সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে পুকুরে বুকপানিতে নেমে চিৎকার করে-করে ওদেরই বানানো রবীন্দ্রসংগীতের বিকৃত প্যারডি গাইতে বাধ্য করতো।”

#চার. “ওর মনে পড়ে যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান থেকে অনার্স-মাস্টার্স করা রাজন নামের এক বহুজাতিক কোম্পানির চাকুরে-পশু ওদের পাশের গ্রামের দীপা দিদিকে বিয়ের ৬ মাসের মধ্যেই, যৌতুকের জন্য কেমন নৃশংসভাবে পিটিয়ে, আগুনে পুড়িয়ে মেরে ফেলেছিলো। ”

‘মন্তব্য’
এই #সায়ং হচ্ছে ফেসবুক সেলিব্রেটি, লেখক, কবি, মোটিভেশনাল স্পিকার, অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যাক্তিত্ব, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি নাম্বার পেয়ে বিসিএস এ প্রথম হওয়া জনাব সুশান্ত পাল সাহেবের নতুন অনুপ্রেরণামূলক গল্পের প্রধান চরিত্র।

গল্পের সারমর্ম সায়ং একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। এদের প্রতি করুণা করা যায় কিন্তু এদের অক্ষমতার জন্য অন্তত কোনো প্রতিযোগিতায় বাড়তি সুবিধা দেয়া যায় না। সায়ং ভদ্রলোকের চোখের সমস্যা। কম দেখে। তবু গল্পের চরিত্রটি গোল্ডেন এ+ পায়।
ইন্টারেও ভালো ফলাফল করে।

এরপর এই চরিত্র স্বপ্ন দেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে। স্বপ্ন পূরণ হয়। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে সে বুঝতে পারে এটা মানুষ না অমানুষ বানানোর ও কারিগর। কারণ র‍্যাগ দেয়ার ক্ষেত্রে ঢাবি এক ও অদ্বিতীয়। এই হচ্ছে সুশান্ত পাল সাহেবের গল্পের চরিত্রটি ঢাবিতে পড়ার অভিজ্ঞতা। কোথাও বাড়তি সুবিধা না নেয়া এই চরিত্রটি আবার বিসিএস দেয় প্রতিবন্ধী কোটা ব্যবহার করে। যদিও গল্পে উল্লেখ আছে,চরিত্রটি প্রশাসন ক্যাডারে মেধায় ৭ম হয়। কোটা থাকলেও সেটির নাকি দরকার হয় নি।
,
মোটামুটি পুরো মোটিভেশনাল গল্পটির মূল থিম হচ্ছে আপনি কস্ট করলে আপনার বিসিএস হবেই। আপনি পরিশ্রম করলে আপনার বিসিএস হবেই। সুশান্ত পাল এমন অনেক মোটিভেশনাল লিখা লিখে যাচ্ছেন নিয়মিত। বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ সেগুলো পড়ছে,অনুপ্রাণিত হচ্ছে,শেয়ার দিচ্ছে।

কেউ কেউ কমেন্টও করে,“দাদা আপনার লিখা না পড়লে আমাররাইতে ঘুম হয় না…”। আমিও রাতে ঘুমানোর আগে সুশান্ত সাহেবের এর লিখা পড়ি। সত্যিই পিউর ট্যালেন্ট !আইবিএ এ তে প্রথম ,বিসিএস এ প্রথম হওয়া মুখের কথা না…
,
এই ভদ্রলোকের প্রচুর মুরিদ আর হেটার আছে। উনার মুরিদদের সমস্যা হচ্ছে উনি এক ও অদ্বিতীয় বিসিএস জগতে এইটা ভেবে বসে থাকা। আর উনার হেটারদের সমস্যা হচ্ছে উনার ভালো লিখা ভালো কথারেও হালকা ভাবে নেয়া…
,
ব্যাক্তি সুশান্তরে নিয়ে মন্তব্য নাই আমার। যদি প্রবল আপত্তির মুখে উনি সেই পোস্ট এডিট করে ঢাবির নাম লিখেছেন উজ্জ্বয়িনীপুর বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু বক্তব্য পাল্টাননি। সে যাই হোক, উনি গল্পের খাতিরে হলেও এই ধরণের র‍্যাগিং এর বর্ননা কিভাবে দেন ! ঢাবিতো ওই বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে এডমিশন এর ছাত্রছাত্রীরা যাতে থাকতে পারে আগের রাতে ক্যাম্পাসের পোলাপান নিজের বেড ছেড়ে দেয়। ঢাবি ওই বিশ্ববিদ্যালয় যেখানকার সাধারণ শিক্ষার্থীরা তথ্য কেন্দ্র দিয়ে নবাগতদের সাহায্য করে। আমি আমার ডিপার্টমেন্ট থেকে সিনিয়রদের থেকে নবীন বরণ পাই। আমি হলের সিনিয়রদের সাথে জুনিয়রদের
যে আত্মার সম্পর্ক দেখি মাঝে মধ্যে মনে হয় আপন ভাইদের মধ্যেও এমন সম্পর্ক থাকে না।
,
হ্যা গেস্টরুম আছে ঢাবিতে। কিন্তু গেস্টরুম এ তো এমন নির্মমতা হয় এমন কখনো শুনিনি। উলটা গেস্টরুম করে আসছে এমন অনেকেই কিছুদিন পর নিজেই স্বীকার করে গেস্টরুম করার বেশ অনেকগুলো ভালো দিক ও আছে…
,
এমন একজন ঢাবি সম্পর্কে এমন কথাগুলো গল্পের ছলে লিখলেন যিনি নিজেই ঢাবির আইবিএ থেকে এমবিএ করেছিলেন। উনার কাছ থেকে এই ধরণের বাস্তবতাবিবর্জিত লেখা আশা করা যায় না। এই সুশান্ত পাল বিসিএসকে যেভাবে জীবনের সর্বোচ্চ
সাফল্য হিসেবে ব্র্যান্ডিং করছেন সেসব নিয়ে না-ই বা বললাম। বিসিএস হয়ত আমিও দিবো। কিন্তু এটা কখণো একজন মানুষের জীবনের সর্বোচ্চ সাফল্য না..
,
একজন প্রতিবন্ধী নিয়েই গল্প সাজাইতে এত অগল্প সাজিয়েছেন তিনি। একদিন তারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমন্ত্রণ জানাই একটু দেখে যাওয়ার জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কিভাবে এই মানুষগুলোরে ট্রিট করা হয়…
,
ঢাবির অনেক সমালোচনা করা যাবে এমন জায়গা  আছে। কিন্তু উনি যেভাবে বুঝাতে চেয়েছেন এত দুরবস্থা এখণো ঢাবির হয়নি। উনার শুভ বুদ্ধির উদয় হোক,এটাই কামনা…

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

kocchop

এবার বাস্তবেও খরগোশকে হারিয়ে দিল কচ্ছপ!(ভিডিও)

ঈশপ আর জাতকের গল্পে দৌড় প্রতিযোগিতায় খরগোশকে হারিয়ে দিয়েছিল কচ্ছপ। এসব গল্পকে সবাই ‘কিচ্ছা-মিচ্ছা (মিথ্যা)’ …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *