ঢাকা : ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, শুক্রবার, ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

ঢাবিকে হেয় করায় বিকারগ্রস্থ সেই পাল এবার চরম বিপাকে

shushanto-paul

জাহিদুল ইসলাম
জাহিদুল ইসলাম

জাহিদুল ইসলাম, বিডি টুয়েন্টিফোর টাইমস : প্র্যাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে অশালীন ও মানহানীকর লেখা প্রচার করে চরম বিপাকে পড়েছেন ৩০ তম বিসিএস ক্যাডার সুশান্ত পাল। বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর অস্তিত্বের অতন্ত্রপহরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে তার এমন দু:সাহ বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে সিভিল সার্ভিসের কর্মরত অনেক ক্যাডারদের মাঝেই। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন কিভাবে সিভিল সার্ভিসে  এলেন বিকারগ্রস্থ এই সুশান্ত পাল।

অন্যদিকে ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিক্ষুব্ধ  শিক্ষার্থীদের অনেকেই মনে করেন অতি সাধারণ এই পালকে অসাধারণে পরিণতে করণে ভূমিকা রেখেছে প্রথম আলো। তাদের যুক্তি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে এর আগে এবং তার পরে অনেকেই বিসিএস চূড়ান্ত পরীক্ষায় প্রথম স্থান দখল করেছেন কিন্তু কেন এই পালকে নিয়ে প্রথম আলোর এত ব্র্যান্ডিং?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী তারেক মাহমুদ বলেন, ‘প্রকৃত মেধাবীরা কখনও নিজের প্রচার প্রসার ও অন্যকে হেয় করে না। তিনি কোনভাবেই বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের যোগ্য নন। কারণ, তার মত লোক দেশের সর্বোচ্চ পদে থাকলে দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য মারাত্বক ভাবে হুমকির সম্মুখীন হবে। আমি এই বিকারগ্রস্থলোককে মানসিক চিকিৎসা ও পূনর্বাসনের দাবী জানাচ্ছি, সাথে বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও গৌরবের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে হেয় করায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ারও অনুরোধ জানাচ্ছি।

বিক্ষুব্ধ আরে শিক্ষার্থী মিসবাহ উদ্দিন সুমির বলেন,‘সুশান্ত পাল গত ৩ বছর ধরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিরোধী নেতিবাচক প্রচার প্রচারণা করে আসছেন। মানসিকভাবে অসুস্থ এই পাল দিনকে দিন সীমা লংঘন করেই যাচ্ছেন। অথচ একবারও তিনি ভাবেন নি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে হেয় করা মানে বাংলাদেশকেই হেয় করা। এই ন্যুনতম কমনসেন্স যার মাঝে নেই সে কিভাবে বিসিএস ক্যাডার হলেন সেটাই এখন ভাবনার বিষয়। আমরা এই অশান্ত (ক্ষোভের বহি:প্রকাশ) পালের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি দাবী করছি। যাতে ভবিষ্যতে কেউ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে হেয় করে কিছু বলার বা লিখার দু:সাহস না পায়।’

আসন্ন বিপদ ও পরিস্থিতি আন্দাজ করেতে পেরে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি ডি-অ্যাকটিভেট করে দেন নিজেকে অতি-জ্ঞ্যানী ও পন্ডিত ভেবে ধরাকে সরা জ্ঞ্যাণ করা এই পাল।

পালের এই সীমালংঘন দেখে অনেকটা ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপের ছলে ঢাবির এক ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ফেসবুকে ৩ টি প্রশ্ন করেন- প্রশ্নগুলো ছিলো এমন-

ক) পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা- গোপাল

খ) পাল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজ- ধর্ম পাল

গ) পাল বংশের অভিশাপ- অশান্ত পাল (পরোক্ষভাবে  এ-যুগের সেল্ফ সার্কুলেটেড বিকারগ্রস্থ সুশান্ত পালকে বুঝিয়েছেন)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিক্ষুব্ধ অবস্থান ও তার ইচ্ছাকৃত ভুলের মাশুল ও আনুমানিক শাস্তি আন্দাজ করতে পেরে ঢাবি অনেকের কাছেই ফেসবুক ইনবক্সে ক্ষমাও প্রার্থনা করেছেন দেমাগী এই বিসিএস ক্যাডার।

চলুন দেখে নেই- কি লিখেছিলেন সুশান্ত পাল-

তার একটি ফেইসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফেটে পেড়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গত ১৮ অক্টোবর সকাল ১১ টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কটাক্ষ করে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেয় বর্তমানে কাস্টমস অফিসার হিসাবে কর্মরত সুশান্ত পাল।

ফেইসবুক স্ট্যাটাসটি ছিলো এরকম, ‘একটা ছেলে ঢাবি নিয়ে স্বপ্ন দেখা অবস্থায় এখানে ভর্তি হয়ে তারপর ক্যাম্পাসে এসে দোজখের মধ্যে পড়ে। চান্সপ্রাপ্ত শারীরিক প্রতিবন্ধিদের নিয়ে তাদের ক্লাসমেটরা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য ও হাসি-ঠাট্টা করে।’

হলের পরিবেশ নিয়ে সুশান্ত পাল লেখেন, ‘হলের গেস্ট রুমে গাঁজাখোর তথাকথিত বড় ভাইয়েরা সদ্য চান্সপ্রাপ্ত ছেলেটাকে আন্ডারওয়্যার পড়িয়ে নাচায়, ন্যাংটা করে উঠবস করায়। গেস্ট রুমে মাস্টারবেট করতে বাধ্য করেই ক্ষান্ত হন না এরপর তা ভিডিও ধারণ করেন। গাঞ্জাখোর বড় ভাইয়েরা বইপত্র ছুঁড়ে ফেলে দেয়। চায়ে বীর্য ঢেলে দিয়ে সেটা জুনিয়রকে খেতে বাধ্য করায়। এখানে মেয়ে নামক কিছু কুত্তিও আছে এরাও এসব কাজ করে। আর বলতে পারছিনা ভাই, নিজ দায়িত্ব নিয়ে পড়ুন।’

এসব অবান্তর লেখালেখিকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে ফেসবুকে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ গ্রুপটি সরগরম হয়ে উঠে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। সুশান্ত পালকে নিন্দা জানিয়ে ও তাকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসা অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

সমালোচনার ঝড় শুরু হলে সুশান্ত পাল তার ফেইসবুকে আউডি ডি-এক্টিভেট করে ফেলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মনে হয় ওনাকে আইনের আওতায় এনে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করে শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। তথ্য বিকৃতি, কোন প্রতিষ্ঠানকে অকারণে হেয় করে লেখনি প্রকাশ করা কি বাংলাদেশের আইনে দন্ডনীয় অপরাধ নয়?’

তাসফিয়ান নাহিদ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘সুশান্তের কিসের এত গর্ব? তার মত ক্যাডার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছর বিসিএসে হাজারটা জন্ম দেয়’

আরেক শিক্ষার্থী হাসিব মীর বলেন, ‘আমার দেখা মতে তিনি একমাত্র ব্যক্তি, যিনি জনপ্রিয়তার আড়ালে একজন নোংরা মানুষ। সবাই তার উপরের চেহারাটাই দেখে, কিন্তু ভেতরেরটা দেখে না। যারা তার সাথে মিশেছেন তারা হয়তো জানতে পেরেছেন উনি কেমন বাজে প্রকৃতির মানুষ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে কটুক্তি করা, মেয়েদের সাথে ফ্লার্ট করা, ক্যারিয়ার ভাবনার আড়ালে নিজের মার্কেটিং করা তার বাজে অভ্যাস।’

সোহরাব হাসান ‘আবাল, চারাল, দালাল’ এসব বলে সুশান্ত পালকে নিন্দা জানান। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘এই আবাল নাকি বিসিএসে প্রথম হয়েছিল?’

ঢাবি শিক্ষার্থী শাহীন আলম বলেন, ‘বেচারা পাল! শেষ পর্যন্ত ফেসবুক আইডি ডি-এক্টিভেট করেছে। সম্ভবত আজ পর্যন্ত কোন বিসিএস ক্যাডারকে নিজের ভুলের কারণে আইডি ডি-এক্টিভেট করতে হয়নি।’

সুশান্ত মেয়েদের ফেইসবুকে নক করে নাম্বার নিয়ে কু-প্রস্তাব দেয় এবং মেয়েদের জন্মদিনে বাজে প্রস্তাব দিয়ে উইশ করেন বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক শিক্ষার্থীর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘সুশান্ত পাল মেয়েঘেঁষা লোক।’

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

বান্দরবানে মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ

বি.কে বিচিত্র। বান্দরবান প্রতিনিধি :  বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার লাম্বাখোলা এলাকার আব্দুস শুক্কুরের পুত্র মোঃ …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *