Mountain View

নায়ক সাকিবই খলনায়ক!

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ২৩, ২০১৬ at ১১:২১ পূর্বাহ্ণ

sakib

sakib

দ্বিতীয় দিনের শেষ ৭ ওভারে কি কঠিন পরিস্থিতিতেই না পড়তে হয়েছিল বাংলাদেশকে। ফ্লাড লাইটের আলোয় ওই ৩২ মিনিটে স্কোরশিটে ১টির বেশি রান যোগ করতে পারেনি, হারাতে হয়েছে মুশফিকুরের মতো মূল্যবান উইকেট! দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে টীমমেটদের উদ্দেশ্যে তামীমের বার্তা ছিল একটাই, উচ্চাভিলাসী শট থেকে বিরত থাকতে হবে। দ্বিতীয় দিন শেষে স্কোর যখন ২২১/৫, তখন লিড থেকে ৭৩ রানে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশের শেষ ৫ জুটির করণীয় উপায়টা এভাবে বাতলে দিয়েছিলেন তামীম। শেষ ভরসা বলতে উইকেটে আছেন সাকিব, তাকেই নিতে হবে দায়িত্ব। ওই দিন ৯৬ মিনিট উইকেটে থেকে, এক একটি রানের জন্য ধুঁকেছেন সাকিব নিজেও। দ্বিতীয় দিনের শেষ দিকে এসে অফ স্পিনার মঈন আলী এবং পেস বোলার স্টোকসের এক একটি ভয়ঙ্কর ডেলিভারী দেখে তৃতীয় দিনের শুরুতে সাকিবের নিজেও হওয়া উচিৎ ছিল সংযমী।

কিন্তু প্রথমে ব্যাট করে ইংল্যান্ডকে সর্বনিম্ন স্কোরে অল আউট করে লিডের জন্য তামীমের ওই সহজ রেসিপিটাই যে মানলেন না সাকিব? দারুণ কিছু’র সম্ভাবনা নিয়ে তৃতীয় দিন খেলতে নেমে উল্টো টেস্টের বেসিকটাই গেলেন ভুলে! যেখানে নুতন একটি দিনে সেট হতে, থিতু হতে সময় নিবেন, নাইট ওয়াচম্যান শফিউলকেও সংযমী ব্যাটিংয়ে করবেন উদ্বুদ্ধÑ সেখানে দিনের দ্বিতীয় বলে অকারণে মঈন আলীকে ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে প্রলুদ্ধ হয়ে স্ট্যাম্পিংয়ে কাঁটা পড়লেন সাকিব। টেস্টে উচ্চাভিলাসী শট খেলা এমনিতেই অপরাধের পর্যায়ে গণ্য, ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে প্রলুদ্ধ হওয়া গণ্য হয় সেখানে মহাঅপরাধে! অথচ, জেনে-শুনেও সেই ভুলটি করেছেন সাকিব। ওই অপরাধেই দারুণ সম্ভাবনার টেস্টের অপমৃত্যু নিজেই আনলেন ডেকে! ওই আউটেই প্রতিরোধ গেল ভেঙ্গে, তৃতীয় দিনের প্রথম ৬৬ মিনিটে মাত্র ২৭ রান যোগ করতেই বাংলাদেশকে হারাতে হলো শেষ ৫ উইকেট। লিডের স্বপ্ন দেখা ইনিংসে উল্টো সফরকারী দল পেলো ৪৫ রানের লিড! এমন একটি অপরিণামদর্শী শটে সমর্থক, ভক্তদের চোখেও রীতিমতো খলনায়ক বনে গেছেন সাকিব। অপরাধবোধে তাড়িত সাকিব ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে মঈন আলীকে উইকেটের পেছনে ক্যাচে ফিরিয়ে দিয়ে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে টেস্টে দেড়শ’ উইকেট পূর্ণ করেছেন। দারুণ দু’টি স্পেলে (২০-৫-৪০-৩ আর ১০-১-৩৯-২) টেস্টে ১৫তম বার ইনিংসে ৫ উইকেটের কৃতিত্বে নিজেকে অন্য উচ্চতায় উঠিয়ে এনেছেন। প্রথম এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ভয়ংকর বোলিংয়ের অতীতটা তার সমৃদ্ধÑ ক্যারিয়ারে যে ১৫ বার ৫ উইকেটের ইনিংস আছে, তার ৭টি প্রথম ইনিংসে, ৫টি দ্বিতীয় ইনিংসে। এতোদিন টেস্টের তৃতীয় ইনিংসে ৫ উইকেটের একমাত্র দৃষ্টান্তটি ছিল তার ২০১৪ সালে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খুলনায়।

গতকাল দায়িত্ব নেয়া বোলিংয়ে চতুর্থ ইনিংসে দ্বিতীয়বার পেলেন ৫ উইকেট (৫/৭৯)। তবে এমন বোলিংয়েও কি বাজে আউটের অপরাধ থেকে নিষ্কৃতি পেয়েছেন? দ্বিতীয় দিন শেষে যে দলটি প্রতিপক্ষকে ঝাঁকুনি দিয়ে ম্যাচে সমান অবস্থানে, তৃতীয় দিন শেষে ২৭৩ রানের লিড নিয়ে সেই প্রতিপক্ষ চড়েছে ড্রাইভিং সিটে! দিনের দ্বিতীয় ডেলিভারীতে সাকিবের ওই অপরিণামদর্শী শটে সমীকরণটা জটিল করে দিয়েছে বাংলাদেশ দলকে। সাকিবের ওভাবে আউট হওয়ায় তাই হতাশ বিশেষজ্ঞ বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশÑ ‘ওটা ছিল খুব হতাশার। সে (সাকিব) আজ অনেক বড় প্রত্যাশা নিয়ে এসেছিল আজ (গতকাল)। সাকিব নিজেও জানতো দলের প্রধান অবলম্বন সে। গতকাল (দ্বিতীয় দিন) দারুণ ব্যাট করেছে। কিন্তু নতুন একটি দিনে সে পারেনি। প্রথম ওভারেই সে আউট হয়ে অন্য ব্যাটসম্যানদের চাপে ফেলে দিয়েছে।’ তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় বলে সাকিবের ওই আউটে ম্যাচে ফিরতে পেরেছে ইংল্যান্ড। তারপরও সাকিবের ওই আউটকে জঘন্য বলতে দ্বিধা করেননি ঠোটকাঁটা ইংল্যান্ড পেস অল রাউন্ডার বেন স্টোকসÑ ‘সকালে দ্বিতীয় বলে ওই কাজটি কিছুটা হলেও ছিল জঘন্য। অবশ্যই তিনি (সাকিব) উঁচু মানের ব্যাটসম্যান। তিনি হয়তবা আমাদের স্পিনারদের উপর চাপ সৃষ্টি করতে অমনটি করেছেন।

ভাগ্যটা ভালই মঈনের, কারণ যেভাবে বল করছেন, তাতে ইনিংসজুড়েই প্রচুর স্পিন পাচ্ছেন তিনি। ওই আউটই তাদেরকে অল্প রানে শেষ করে দিতে আমাদের দরজা খুলে দিয়েছে।’ প্রথম ইনিংসে জঘন্য আউটের অপরাধবোধে সাকিব সংশোধন করবেন নিজেকে, চতুর্থ ইনিংসে দলের জন্য সময়োচিত ব্যাটিং করবেন, সেটাই এখন কামনা বাংলাদেশ দলের বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশেরÑ ‘যদি সে দ্বিতীয় ইনিংসে আমাদের জন্য ব্যাট করতে পারে, তা হতে হবে ভাল কিছু। কারণ সে আবার ব্যাট করবে।’

এ সম্পর্কিত আরও