Mountain View

শুধু হাতে তালি দিলে হবে না, জনগণের কাছে যেতে হবে

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ২৩, ২০১৬ at ৩:৫৩ অপরাহ্ণ

pidbg20161023152238

আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে আবারো ক্ষমতায় আনতে নেতাকর্মীদের কাজ শুরুর নির্দেশ দিয়ে তাদেরকে জনগণের কাছে যেতে বলেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ও বিগত সময়ের উন্নয়নের সুফল পেতে আওয়ামী লীগকে আরেকবার ক্ষমতায় আনতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার (২৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনের সূচনা বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

২০তম জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের এ রুদ্ধদ্বার কাউন্সিল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন শেখ হাসিনা।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখানে বসে তালি বাজালে হবে না। আমাদের অর্জনগুলো জনগণের কাছে নিয়ে যেতে হবে। জনগণকে বার বার বলতে হবে। আমরা এ কাজ আপনাদের জন্য করেছি, আওয়ামী লীগ করেছে’।

‘আমরা তো কাজ করে দিয়েছি, মানুষ তো জানেই- এ কথা ভাবলে হবে না। মানুষ জানলেও ভুলে যাবে। এটাই মানুষের নিয়ম’।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষেকে বোঝাতে হবে, সরকারের উন্নয়নের ধারা ধরে রাখতে হলে অবশ্যই আওয়ামী লীগকে আরো একবার ক্ষমতায় আসতে হবে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে জনগণ তার সুফল পাবে’।

আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাজই হবে, প্রচার করা, ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া, তাদের কাছে যাওয়া। তাদের এ কথাটা বোঝানো যে, আওয়ামী লীগ থাকলে তাদের ভাগ্য পরিবর্তন হবে, তারা কিছু পাবেন, ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া শিখতে পাবে’।

‘অবকাঠামোর উন্নয়ন হবে, রাস্তা-ঘাট উন্নত হবে, পুল-ব্রিজ হবে। ক্ষেতে ফসল উৎপাদন বাড়বে। এ কথাগুলো মানুষের কাছে ভালোভাবে পৌঁছে দেওয়া। আওয়ামী লীগের এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় কাজ’।

‘এজন্য সংগঠনকে শক্তিশালী করা। আর জনগণের দোরগোড়ায় গিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো। এটাই আমরা আশা করি’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে আওয়ামী লীগকে আবারো দায়িত্ব নিতে হবে, আবারো ক্ষমতায় আসতে হবে’।

‘ওই লুটেরা-দুর্নীতিবাজ, এতিমের টাকা যারা খান, মানিলন্ডারিং করেন, যারা মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেন, তারা এলে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না। তারা জনগণের সম্পদ লুটে খাবেন’।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দুর্নীতিবাজ, মানিলন্ডারিং করে যারা সাজাপ্রাপ্ত, যারা পুড়িয়ে মানুষ মারেন, খুনি। যারা খুনিদের মদদ দেন, যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেন, যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানান, তারা যেন এই বাংলাদেশে আর কোনো দিনই ক্ষমতায় আসতে না পারেন’।

‘মানুষকে বোঝাতে হবে, তারা যদি আবার ক্ষমতায় আসেন, তার মানে যুদ্ধাপরাধীরা ক্ষমতায় আসবেন। খুনিরা ক্ষমতায় ক্ষমতায় এলে আবার খুনিদের রাজত্ব, দুর্নীতিবাজদের রাজত্ব হবে’।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে অনেক আগেই বাংলাদেশ উন্নত দেশ হতো। কিন্তু পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করায় এটা সম্ভব হয়নি’।

সেনাশাসকদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের ভাগ্য তারা কেন পরিবর্তন করবেন? হঠাৎ একদিন এসে বলবেন, আমি রাষ্ট্রপতি হলাম। আর রাজনীতিবিদদের গালি দিয়ে পরে নিজেই রাজনীতিবিদ সেজে যাবেন। দল করবেন আর সেই দল নিয়ে লুটেরা সৃষ্টি করবেন। মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন’।

‘২১ বছর এদেশের মানুষ ভুক্তভোগী। আর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর চলেছে অত্যাচার’।

পদ্মাসেতুতে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারা পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আর আমাদের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাংকও অভিযোগ এনে প্রমাণ করতে পারেনি। ওই পদ্মাসেতু কথা বলেছে’।

‘আমি চ্যালেঞ্জ দিয়েছি। চ্যালেঞ্জ দেওয়ার মতো এই সৎসাহস ছিলো, এ কারণে যে, আমরা কোনো দুর্নীতি করে নিজের ভাগ্য গড়তে যাইনি। আমি বা আমাদের পরিবারের কেউ না। যে কারণে আমি চ্যালেঞ্জ দিতে পেরেছি’।

তিনি বলেন, ‘এটা করতে পেরেছি বলেই নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু বানাচ্ছি। যারা এ সমস্ত অভিযোগ এনেছেন, তারাও বুঝতে পেরেছেন যে, বাংলাদেশকে নিয়ে খেলা এতো সহজ নয়’।

‘এ দেশকে নিয়ে খেলবে, দেশকে নিয়ে যা খুশি তা করবে- আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে অন্তত সেটা তারা করতে পারবেন না। এ কথা আজকে সকলে বুঝতে পেরেছেন’।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সম্পদের পেছনে না ছুটে জনগণকে ভালোবাসার পাশাপাশি জনগণের কল্যাণ করা এবং সত্যিকারের আর্দশের কর্মী হওয়ারও আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

এ সম্পর্কিত আরও