ঢাকা : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, সোমবার, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site
প্রচ্ছদ > সারাদেশ > সাঘাটার গণকবর ও স্মৃতিস্তম্ভ সংস্কারের উদ্যোগ নেই

সাঘাটার গণকবর ও স্মৃতিস্তম্ভ সংস্কারের উদ্যোগ নেই

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা প্রতিনিধি : মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে আজ ২৪ অক্টোবর গাইবান্ধার ফুলছড়ি-সাঘাটা এলাকার এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে সাঘাটা উপজেলার প্রাণ কেন্দ্র বোনারপাড়ার অদূরে ত্রিমোহনী ঘাটে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে ৬ ঘন্টাব্যাপী সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন ১২ বীর মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধারাও ২৭ পাক সেনাকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে। ওই দিন স্থানীয়দের উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধাদের সমাহিত করা হয় দলদলিয়া গ্রামে। শহীদদের গণকবর ও স্মৃতিস্তম্ভটি সারাবছরেই অযন্ত ও অবহেলায় পড়ে থাকলেও আজও সেটির সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। চারদিকে ধান তে মাঝখানে ৬ বীরমুক্তিযোদ্ধা কবর। এখান থেকে একটু দূরেই আরও ৬ মুক্তিযোদ্ধা ঘুমিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত রয়েছেন ফুলছড়ির শহিদুল্লাহ, হাবিবুর রহমান, সাঘাটার আনছার আলী, আ: হাই, লালমনিরহাটের হাতিবান্ধার আহস্মদ আলী, প্রভাত চন্দ্র, ভরত চন্দ্র, বোঁচারাম দাস, ধনঞ্জয়, গাইবান্ধা সদরের হামিদুল হক মধু, পাবনার আ: হাই এবং হাবিবুর রহমান। মুক্তিযোদ্ধারা জানান, গাইবান্ধার ভরতখালী-বোনারপাড়ার পার্শ্ববতী পদুমশহরে অস্ত্র ও গোলাবারুদ বহনকারী রেল ওয়াগনে হামলা, সিংড়িয়া রেল ব্রীজ পাহারায় নিয়োজিত ১২ রাজাকারকে হত্যা, ভরতখালী-গাইবান্ধা সড়কে পাক সেনা কনভয়ের ওপর হামলা, এবং বাদিয়াখালী ব্রিজ ধ্বংসের সফল অভিযান পরিচালনা করে ১১নং সেক্টরাধীন রোস্তম আলী খন্দকার কোম্পানির মুক্তিযোদ্ধারা বোনারপাড়া পাক সেনাশিবির আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেন এবং ফুলছড়ির গলনা থেকে ২২ অক্টোবর গভীর রাতে বোনারপাড়ার ত্রিমোহনী ঘাট এলাকার কয়েকটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। ২৪ অক্টোবর সূর্যোদয়ের আগেই পাক সেনাদের একটি বিশাল বাহিনী ত্রিমোহনী ঘাট এলাকা চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। শুরু হয় সস্মুখযুদ্ধ। সকাল থেকে শুরু হয়ে ৬ ঘন্টাব্যাপী যুদ্ধে শহীদ হন ১২ বীর মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধারাও ২৭ পাক সেনাকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে। ওই দিন বিকেলে স্থানীয় লোকজন যুদ্ধেেত্র বিচ্ছিন্নভাবে পড়ে থাকা ১২ বীর শহীদ মুক্তিযোদ্ধার লাশ উদ্ধার করে পার্শ্ববতী দলদলিয়া গ্রামের দু’টি স্থানে সমাহিত করে। ২০০১ সালে স্থানীয় উদ্যোগে এখানে নির্মিত হয়েছে একটি স্মৃতিস্তম্ভ। অযতœ ও অবহেলায় সেটি সারাবছর আগাছায় ঢাকা থাকে।

শহীদ ধনঞ্জয় বিশ্বাসের ছোট ভাই দলদলিয়া গ্রামের বাসিন্দা নির্মল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, ২৪ অক্টোবর আসলেই শুধু পরিস্কার ও ধোয়া-মোছা করা হয়। ওই দিন পেরিয়ে গেলেও সারাবাছর ময়লা-আর্বজনা দিয়ে ঢেকে থাকে শহীদদের গণকবর। একই গ্রামের শারদা বালা জানান, সরকারি ভাবে এই মুক্তিযোদ্ধাদের কবরগুলো সংরণ করা প্রয়োজন। এখানে অনেক অফিসার কবর দেখবার আসে, কিন্ত এটি থিকি যাওয়ার পর আর কোন খোঁজ নেই না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, এখানে শহীদ ১২ মুক্তিযোদ্ধাকে সমাহিত করা হয়েছে। কারা শহীদ হয়েছেন তাদের নাম ঠিকানা সংম্বলিত কোন সাইন বোর্ড কিংবা তালিকা নেই এখানে।

সাঘাটা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আফতাব হোসেন দুদু জানান, দিনটি উপলে আজ দিনব্যাপী স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

১১নং সেক্টরের তৎকালীন সহ-সেক্টর কমান্ডার গৌতম চন্দ্র মোদক বলেন, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের কবর অরতি ও অবহেলিত থাকবে এটা আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কোন ভাবেই মেনে নিতে পারিনা।

সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার উজ্জ্বল কুমার ঘোষ বলেন, গণ কবরটি সংস্কারের জন্য উপজেলা প্রশাসন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তা অতিদ্রুতই সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।

এ সম্পর্কিত আরও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *