ঢাকা : ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, সোমবার, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

টেস্টে আরো একটি আক্ষেপের পরাজয় হবে কি?

akhep

সাল গুলো ২০০৩ ঠিক তিন বছর পর ২০০৬ সবশেষে ২০০৮ এই তিন সাল হয়ত অনেক ক্রিকেট প্রেমিদের এখনো মনে আছে।আনন্দের না হলেও যে এই সালগুলো আক্ষেপের পরাজয় বহন করে আছে বাংলাদেশ ক্রিকেটে।

টেস্টে প্রতিপক্ষকে একেবারে হাতের নাগালে পেয়েও নাটকীয় ভাবেই হার মানতে হয় টাইগারদের।২০০৩ এ পাকিস্তান এরপরেই ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়া তারপরেই নিউজিল্যান্ড তাদেরকে কাঁপিয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট জয় লিখতে যাচ্ছিল বাংলাদেশ, কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আক্ষপের পরাজয় বহন করতে হয় টাইগারদের।এখন ঠিক ৮ বছর পর এমনই এক দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ।প্রতিপক্ষ শক্তিশালি ইংল্যান্ড যাদেরকে দুই ইনিংসেই ২০ টি উইকেট তুলে নিয়ে অল আউট করে দেয় বাংলাদেশ।এখন বাংলাদেশের জিততে হলে ৩৩ রান করতে হবে।নয়ত আরো এক আক্ষেপের পরাজয়ের খাতায় নাম লেখতে হবে টাগারদের।

নিম্মে সেই তিন আক্ষেপের টেস্টের কথা তুলে ধরা হলোঃ

আজ  থেকে ১৩ বছর আগে মুলতানের ওই টেস্টটি জিতে গেলে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাস অন্যভাবেই লেখা হতো। আমাদের ক্রিকেট ওই জয়টিকে কেন্দ্র করে এগিয়ে যেতে পারত আরও অনেক দূর। একেবারে নিশ্চিত এক জয় সেদিন বাংলাদেশের হাত থেকে বেরিয়ে যাওয়া সদ্যভূমিষ্ঠ এক শিশুর জন্য কেবল বড় আঘাত হয়েই আসেনি, বাংলাদেশের ক্রিকেটকেও পিছিয়ে দিয়েছিল বেশ কিছুটা পথ। মুলতানের এই পরাজয়ের দেড় বছরের মাথায় ২০০৫ সালের জানুয়ারি মাসে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট পেয়েছিল প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ। কিন্তু মুলতানের ওই পরাজয় এ দেশের ক্রিকেটের শরীরে যে চিরস্থায়ী ক্ষতচিহ্ন এঁকে দিয়েছিল, সে ক্ষতচিহ্নের ব্যথা হয়তো এ দেশের ক্রিকেটকে বয়ে বেড়াতে হবে আরও বহুকাল।251197-4

মুলতান টেস্ট ছিল ওই বছর পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের শেষ টেস্ট। টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর ২০০৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষেই বাংলাদেশ প্রথম ও শেষবারের মতো তিন টেস্টের সিরিজ খেলার সুযোগ পেয়েছিল। করাচি ও পেশোয়ারের প্রথম দুই টেস্টে বাংলাদেশ পরাজিত হলেও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে জয় করেছিল ক্রিকেট-বিশ্বের হূদয়। অথচ পাকিস্তানের বিপক্ষে ওই সিরিজের আগেই ক্রিকেট-বিশ্বে চলছিল বাংলাদেশের টেস্ট মর্যাদা নিয়ে তীব্র বিতর্ক। টেস্টে একের পর এক অসহায় আত্মসমর্পণ ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসিকেও ফেলে দিয়েছিল বিব্রতকর অবস্থানে। তারাও গুরুত্ব দিয়ে ভাবছিল, বাংলাদেশকে টেস্ট মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করার সিদ্ধান্তটি আদৌ সঠিক ছিল কি না।

এমন একটা পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ হয়েই এসেছিল। চিরাচরিত পারফরম্যান্স থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা যেন এই সিরিজে নিজেদেরও উতরে গিয়েছিলেন। প্রথম দুই টেস্টে রাজিন সালেহ, জাভেদ ওমর, হাবিবুল বাশার, মোহাম্মদ রফিক, তাপস বৈশ্য, অলক কাপালি, মাশরাফি বিন মুর্তজা, খালেদ মাহমুদ, খালেদ মাসুদরা নিজেদের প্রমাণ করেছিলেন। করাচি টেস্টে সমানে-সমান লড়েও পাকিস্তানের অভিজ্ঞতার কাছে হার মানতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। পেশোয়ারে তো গোটা তিনটি দিন পাকিস্তানের বুকের ওপর বসে আধিপত্য গড়ে তুলেছিল বাংলাদেশ। শেষে ‘রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস’খ্যাত শোয়েব আখতারের একটা দুর্দমনীয় স্পেলে গুঁড়িয়ে যায় বাংলাদেশের সব প্রতিরোধ, সব আধিপত্য। মুলতান টেস্টেও সেই পারফরম্যান্স ধরে রেখে বাংলাদেশ চলে গিয়েছিল অসাধারণ এক জয়ের দ্বারপ্রান্তে। কিন্তু ভাগ্যদেবীর নির্মম খেয়ালে মুলতান পরিণত হয় বাংলাদেশের দুঃখগাথায়।

টসে জিতে মুলতান টেস্টে প্রথমে ব্যাট করেছিল বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে দলগত পারফরম্যান্সের মিশেলে বাংলাদেশ স্কোরবোর্ডে তোলে ২৮১ রান। হাবিবুল বাশারের ব্যাট থেকে আসে সর্বোচ্চ ৭২ রান। জাভেদ ওমর করেছিলেন ৩৮, আর রাজিন সালেহ ৪৯ রান করে রান আউট হয়েছিলেন। এই তিনটি মাঝারি ইনিংসের বাইরে আরও বেশ কটি ছোট ইনিংসে বাংলাদেশ মোটামুটি লড়াকু একটা স্কোর দাঁড় করায়। খেলা জমে যায় পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসেই। বাংলাদেশের ২৮১ রান সহজেই টপকে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে মোহাম্মদ রফিকের অসাধারণ বোলিংয়ে পাকিস্তান অল আউট হয়ে যায় ১৭৫ রানে। রফিকের ৫ উইকেটের পাশাপাশি অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ ৩৭ রানে ৪ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে এনে দিয়েছিলেন শতাধিক রানের লিড।

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থ হয়েছিল। মাত্র ১৫৪ রানেই শেষ হয়েছিল বাংলাদেশের ইনিংস। তবে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস ছিল শ্রীলঙ্কান আম্পায়ার অশোকা ডি সিলভার বাজে আম্পায়ারিংয়ে কলঙ্কিত। তিনি অলক কাপালিকে ব্যক্তিগত ২২ রানে কট বিহাইন্ড ঘোষণা করেছিলেন। অথচ পাকিস্তানের পক্ষে অভিষিক্ত পেসার ইয়াসির আলীর বল কাপালির ব্যাট ছুঁয়ে পড়েছিল উইকেটরক্ষক রশিদ লতিফের সামনে। লতিফ প্রতারণা করে বলের ওপর রোল করে বলটি মাটি থেকে তুলে আউটের আপিল করেছিলেন। লতিফের এই প্রতারণা সেদিন টেলিভিশনের মাধ্যমে একরাশ লজ্জা নিয়ে অবলোকন করেছিল লক্ষ-কোটি মানুষ। লতিফের প্রতারণায় বিভ্রান্ত অশোকা আউট ঘোষণা করেন কাপালিকে। টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর বাংলাদেশ যতবার আইসিসির এলিট প্যানেলের আম্পায়ারদের বাজে সিদ্ধান্তের শিকার হয়েছে, অশোকা ডি সিলভার ঘটনাটি ছিল সবচেয়ে নিকৃষ্ট। আরও বাজে ব্যাপার ছিল, লতিফের প্রতারণামূলক আচরণটি বারবার টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখানো হলেও তাঁর বিপক্ষে কোনো অখেলোয়াড়সুলভ আচরণের কোনো অভিযোগ আনেননি ওই ম্যাচের ম্যাচ রেফারি।

অলক কাপালির বিরুদ্ধে অশোকার ওই সিদ্ধান্তটি শেষ পর্যন্ত মুলতান টেস্টের জয়-পরাজয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণিত হয়েছিল। দারুণ ব্যাট করতে থাকা কাপালি ওই সময় ২২ রানে আউট না হলে হয়তো বাংলাদেশের সংগ্রহ আরও বাড়তে পারত। পাকিস্তানের সামনেও বাংলাদেশ ছুড়ে দিতে পারত আরও বড় লক্ষ্যমাত্রা।

অলক কাপালির আউট নিয়ে পাকিস্তানের অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক রশিদ লতিফ আর ম্যাচের আম্পায়ার অশোকা ডি সিলভা বিরাট নাটক করলেও আসল নাটক শুরু হয় পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে। জয়ের জন্য ২৬০ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান শুরু থেকেই পড়ে যায় বিপর্যয়ের মধ্যে। তবে পাকিস্তানের শুরুটা ছিল চমত্কার। সালমান বাট ও মোহাম্মদ হাফিজের মধ্যে ৪৫ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ে ওঠার পর প্রথম আঘাত হানেন বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মঞ্জুরুল ইসলাম। মঞ্জুর বলে ব্যক্তিগত ৩৭ রানে অতিরিক্ত ফিল্ডার মাশরাফি বিন মুর্তজার হাতে ধরা পড়েন বাট। মোহাম্মদ হাফিজও ১৮ রান করে ওই মঞ্জুরুলের বলেই মাশরাফির হাতে ধরা পড়েন। ইয়াসির হামিদ ফেরেন খালেদ মাহমুদের বলে।

ঠিক এই সময় ব্যাট করতে মাঠে নামেন ইনজামাম-উল হক। ইনজামাম তখন একেবারেই ফর্মের বাইরে। পুরো সিরিজেই তাঁর ব্যাট বাংলাদেশের জন্য কোনোমতেই হুমকি হয়ে দেখা দেয়নি। তিনি উইকেটে এসে শুরু করলেন ইনিংস মেরামত। ৭৮ রানে ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ২৬০ কে তখন অনেক দূরের বিষয় মনে হচ্ছে পাকিস্তানের। আর মুলতানসহ গোটা বাংলাদেশ তখন এক অনন্য অঘটনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায়। বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশার পারদ আরও ওপরে তুলে শূন্য রানে ফিরে যান ইউনুস খান। পাকিস্তানের সংগ্রহ তখন ৮১। ইনজামামের সঙ্গে ভুল-বোঝাবুঝিতে ইউনুস পড়েন রান আউটের খড়্গে। দলীয় ৯৯ রানে ফারহান আদিলকে ফিরিয়ে দেন মোহাম্মদ রফিক, হাবিবুল বাশারের ক্যাচে। ব্যাট করতে নামেন অধিনায়ক রশিদ লতিফ। কিন্তু বাংলাদেশের অধিনায়ক খালেদ মাহমুদের বলে রশিদ লতিফ এলবির ফাঁদে পড়েন ব্যক্তিগত ৫ রানে। ১৩২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান তখন ভয়াবহ গাড্ডায়। অতি আশ্চর্যকর কিছু না ঘটলে মুলতান টেস্ট তখন বাংলাদেশের হাতের মুঠোয়। পাকিস্তানের পরাজয়ের শঙ্কা, আর বাংলাদেশের উত্সবের অপেক্ষা নিয়ে শেষ হয় টেস্টের তৃতীয় দিন।

জয়ের জন্য প্রয়োজন ১২৮ রান, হাতে ৪ উইকেট। একই সঙ্গে আছে গোটা দুটি দিন। এমন একটা সমীকরণ মাথায় রেখে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে পাকিস্তান। উইকেটে তখন স্বীকৃত ব্যাটসম্যান বলতে ওই ইনজামামই। কিন্তু ইনজামাম ধীরলয়ে শুরু করলেন খোলস পাল্টানো। অসাধারণ সব শটে পাল্টা লড়াইটা চালিয়ে গেলেন। সাকলাইন. সাব্বির আহমেদ, ইয়াসির আলী ও উমর গুলের মতো টেইল-এন্ডারদের আড়াল করে নিজের অভিজ্ঞতার সর্বোচ্চটা দিয়ে তখন বাংলাদেশের বোলারদের বিপক্ষে লড়ছেন ইনজামাম।

বাংলাদেশের বোলারদের লক্ষ্য তখন বাকি চার ব্যাটসম্যান। চতুর্থ দিনের শুরুতেই ব্যক্তিগত ১১ রানে আউট হয়ে গেলেন সাকলাইন মুশতাক। খালেদ মাহমুদের বলে উইকেটরক্ষক খালেদ মাসুদের হাতে ধরা পড়েন তিনি। উইকেটে এসে সাব্বির আহমেদ কিছুক্ষণ সঙ্গ দেন ইনজামামকে। তিনিও যথাসাধ্য চেষ্টা করে ব্যক্তিগত ১৩ রানে ফিরে যান। এবার উমর গুল কম্পমান হস্তে এসে হাল ধরেন পাকিস্তানের স্বপ্নের। এদিকে, টেলিভিশনের সামনে গোটা বাংলাদেশ তখন অধীর অপেক্ষায়। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তখন অনেকেই শুরু করে দিয়েছে উত্সবের প্রস্তুতি। মুলতানের মাঠেও তখন বাংলাদেশের জয় ভিন্ন অন্যকিছু ভাবার মতো লোকের সংখ্যা খুব বেশি নেই।

কিন্তু ক্রিজে ইনজামাম তখন ভাবছেন অন্যকিছু। ভাবছেন জীবনের সেরা ইনিংসটি খেলার। টেইল-এন্ডারদের লক্ষ্য বানালেও ইনজামাম তখন অতিক্রম করে ফেলেছেন পঞ্চাশ। সাব্বির যখন আউট হন, জয় থেকে পাকিস্তান তখনো ৫৫ রান দূরে।

ঠিক এমন একটি সময়ে মুলতানে মঞ্চস্থ হয় আরও এক নাটক। বল হাতে ওই মুহূর্তে তখন মোহাম্মদ রফিক। একটি দ্রুত রান নিতে গিয়ে ক্রিজ ছেড়ে অনেক দূর বেরিয়ে গিয়েছিলেন উমর গুল। রফিক বল করা বন্ধ করে দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লেন। গুল তখন ক্রিজ ছেড়ে অনেক দূরে। রফিক গুলকে সাবধান করলেন। ফিরে আসতে বললেন ক্রিজে। হাতের মুঠোয় আরও একটি উইকেট পতনের সুযোগ পেয়েও রফিক তা কাজে লাগালেন না কেবল খেলোয়াড়ি উদারতার পরিচয় দিয়ে। নতুন জীবন পেয়ে উমর গুল প্রতিজ্ঞা করলেন ইনজামামকে শেষ পর্যন্ত সহায়তা দিয়ে যাওয়ার। তিনি খেললেন ৯৯টি বল। মাত্র ৫ রান করলেও গুলের ওই ইনিংসটি ঠিক ওই মুহূর্তে দারুণ গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়েছিল। সেই গুল যখন রান আউট হন, তখন পাকিস্তান জয় থেকে মাত্র ৩ রান দূরে।

শেষ পর্যন্ত ইনজামাম পুল করে বল বাউন্ডারির বাইরে আছড়ে ফেলে বাংলাদেশের হত থেকে কেড়ে নেন জয়। স্থিতধী ইনজামাম তাঁর জীবনের সেরা ইনিংসটি খেলে যখন ভাবলেশহীন মুখে প্যাভিলিয়নে ফিরছেন, তখন পাকিস্তানি সমর্থকেরা আনন্দের আতিশয্যে উদ্বেল। গ্যালারি থেকে তখন ইনজামামের প্রতি বর্ষিত হচ্ছে ফুলেল শুভেচ্ছা। নিশ্চিত জয় হাতছাড়া করে বাংলাদেশ দল তখন হতবিহ্বল। অশ্রুসিক্ত। টেলিভিশনের সামনে গোটা বাংলাদেশ তখন স্তব্ধ, বিষণ্ন। ফুঁপিয়ে কাঁদছে তখন গোটা বাংলাদেশ। ২০০৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বরের মতো অমন বিষণ্ন দুপুর খুব বেশি দেখেনি বাংলাদেশের মানুষ।

মুলতান টেস্টের সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসঃ ২৮১/১০(হাবিবুল বাশার ৭২ এবং রাজিন সালহে ৪৯)

পাকিস্তান প্রথম ইনিংসঃ ১৭৫/১০ (ইয়াসির হামিদ ৩৯ এবং ইউনুস খান ৩৪)

বাংলাদেশ ২য় ইনিংসঃ ১৫৪/১০ (রাজিন সালহে ৪২ এবং অলক কাপালি ২২)

পাকিস্তান ২য় ইনিংসঃ ২৬২/৯ (ইনজামাম ১৩৮ এবং সালমান বাট ৩৭)

সেদিন ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন ইনজামাম উল হক।bangaldesh-aus

মুলতান টেস্টের হতাশার তিন বছর পরেই আরেক জেতা ম্যাচ পরাজয় বরন করে বাংলাদেশ।তবে একটি টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে দারুণভাবে চেপে ধরেছিল বাংলাদেশ। সেবারই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে লিড নিয়েছিল টাইগাররা। স্বপ্ন দেখছিল অসিদের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়ের।

কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং ব্যর্থতা ও রিকি পন্টিংয়ের ব্যাটিং দৃঢ়তায় অসিদের বিপক্ষে ১০ বছর আগে টেস্ট ম্যাচ জেতার স্বাদ পায়নি বাংলাদেশ। ইতিহাসের পাতা থেকে চলুন ঘেটে দেখি সেই টেস্ট ম্যাচটি:-

২০০৬ সালের  ৯ এপ্রিল। দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে নারায়ণগঞ্জের খান সাহেব ওসমান আলী ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি বংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া। টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন। ব্যাট করতে নেমে শাহরিয়ার নাফিসের ১৩৮, বাশারের ৭৬, রাজিন সালেহর ৬৭, মোহাম্মদ আশরাফুল ও আফতাব আহমেদের ২৯ রানের ইনিংসে ভর করে প্রথম ইনিংসে ৪২৭ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। এই ইনিংসে বাংলাদেশের ১০টি উইকেটের ৮টিই নিয়েছিলেন স্টুয়ার্ড ম্যাকগিল। বাকি দুটি উইকেট নেন জ্যাসন গিলেস্পি।

জবাবে অস্ট্রেলিয়া তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে মোহাম্মদ রফিকের বোলিং তোপে পড়ে ২৬৯ রানে অলআউট হয়ে যায়। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডাম গিলক্রিস্ট সর্বোচ্চ ১৪৪ রান করেন। বাকি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ২৬ রানে বেশি কেউ করতে পারেননি। বল হাতে বাংলাদেশের মোহাম্মদ রফিক ৫টি উইকেট নেন। ২টি করে উইকেট নেন মাশরাফি মোর্তজা ও এনামুল হক জুনিয়র। অপর উইকেটটি নেন শাহাদাত হোসেন রাজিব।

১৫৮ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। কিন্তু নিদারুণ ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। শেন ওয়ার্ন ও গিলেস্পির বোলিং তোপে বাংলাদেশ অলআউট হয়ে যায় ১৪৮ রানে! ব্যাট হাতে বাংলাদেশের শাহরিয়ার নাফিস ৩৩, রাজিন সালেহ ৩৩, জাভেদ ওমর ১৮ ও আফতাব ১৭ রান করেন। বল হাতে শেন ওয়ার্ন ও গিলেস্পি ৩টি করে উইকেট নেন। ১টি করে উইকেট নেন ব্রেট লি, ম্যাকগিল ও স্টুয়ার্ড ক্লার্ক।

প্রথম ইনিংসে ১৫৮ রানের লিড পাওয়ায় বাংলাদেশ জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সামনে ৩০৬ রানের টার্গেট ছুড়ে দেয়। এই রান নিয়ে বাংলাদেশ সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়ের স্বপ্ন দেখতেও শুরু করে। কিন্তু অসি অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে স্বপ্নভঙ্গ হয় বাংলাদেশের। শেষ পর্যন্ত রিকি পন্টিংয়ের অপরাজিত ১১৮ ও ম্যাথু হেইডেনের ৭২ রানে ভর করে ৭ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। জয় পায় ৩ উইকেটের ব্যবধানে।

বল হাতে বাংলাদেশের রফিক ৪টি উইকেট নেন। দুই ইনিংস মিলিয়ে তিনি ঝুলিতে পোড়েন ৯টি উইকেট। যা তাকে স্টুয়ার্ড ম্যাকগিলের সঙ্গে যৌথভাবে এই টেস্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তকমা দেয়। ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন অ্যাডাম গিলক্রিস্ট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :
বাংলাদেশ:
প্রথম ইনিংস- ৪২৭/১০ (নাফিস ১৩৮ ও বাশার ৭৬; ম্যাকগিল ৮/১০৮)।
দ্বিতীয় ইনিংস- ১৪৮/১০ (নাফিস ৩৩ ও রাজিন ৩৩; গিলেস্পি ৩/১৮)।

অস্ট্রেলিয়া:
প্রথম ইনিংস- ২৬৯/১০ (গিলক্রিস্ট ১৪৪ ও গিলেস্পি ২৬; রফিক ৫/৬২)।
দ্বিতীয় ইনিংস-৩০৭/৭ (পন্টিং ১১৮* ও হেইডেন ৭২; রফিক ৪/৯৮)।

ফল : অস্ট্রেলিয়া ৩ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচসেরা : অ্যাডাম গিলক্রিস্ট (অস্ট্রেলিয়া)।

পাকিস্তান অস্ট্রেলিয়ার পর আরো একবার আক্ষেপের পরাজয় এসে হাজির হয় টাইগারদের সামনে।সেটা ২০০৮ সালে চট্রগ্রামে নিউজিল্যান্ডের সাথে।bd-newziland-copy

বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট করে ২৪৫ রানে অল আউট হয়ে গেলোও নিউজিল্যান্ডকে মাত্র ১৭১ রানেই প্রথম ইনিংসে অল আউট করে দেয় টাইগাররা।ফলে ২য় ইনিংসে লিড নিয়েই মাঠে নামে বাংলাদেশ।কিন্তু বরাবরের মতো এবারো ব্যাটিং ব্যর্থতায় মাত্র ২৪২ রানে ঘুটিয়ে যায়।ফলে নিউজিল্যান্ডকে ৩১৭ রানের টার্গেট দেয় টাইগাররা।প্রথম ইনিংসের মতো ২য় ইনিংসেও চাপে ফেলতে পেরেও শেষ পর্যন্ত রাখতে পারেনি।নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক ডেনিয়েল ভেট্টরির অসাধারণ নেতৃত্ব ও পারফর্মন্সে তিন উইকেট হাতে থাকতেই ৩১৭ রান করে জয় তুলে নেয় নিউজিল্যান্ড ফলে আরো একটি অপূর্ব জয় থেকে বঞ্চিত হয় বাংলাদেশ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস-২৪৫/১০ (মেহরাব হোসেন ৮৩ ও মুশফিকুর রহিম ৭৯)

নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংস- ১৭১/১০ (ডেনিয়েল ভেট্টরি ৫৫* ও ম্যাককুলাম ২৫)

বাংলাদেশের ২য় ইনিংস- ২৪২/১০ ( সাকিব আল হাসান ৭১ ও মাশরাফি ৪৪)

নিউজিল্যান্ডের ২য় ইনিংস- ৩১৭/৭ (রেমন্ড ৭৯, ভেট্টরি ৭৬)

ম্যাচটিতে ডেনিয়েল ভেট্টরিই ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন।akhem

এখন সাল ২০১৬ ওয়ানডে অনেক দূর এগোলে নিয়মিত টেস্ট খেলা হয় না বিধায় এখন টেস্টে অন্য দলের তুলনায় অতটা শক্তিশালী নয়।কিন্তু বাংলাদেশ বনাম ইংল্যান্ডের সাথে এবারের সিরিজ টা একটু অন্যরকম বলা চলেই। অভিষিক্ত মেহেদি হাসান মিরাজ এর ৬ উইকেট সাকিবের ২য় ইনিংসে ৫ উইকেটের কল্যাণে ইংল্যান্ডে প্রথম ২য় ইনিংসে অল আউট করে দেয়।কিন্তু ২৮৬ রানের টার্গেটে এখন ব্যাট করছে বাংলাদেশ।জিততে শুধু মাত্র প্রয়োজন ৩৩ টা রান হাতে আছে আরো দুইটি উইকেট।ক্রিজে আছে টি-টুয়েন্টি ওয়ানডে স্পেশালিষ্ট ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমান ৫৯ রানে অপরাজিত।

পারবে কি জয় ছিনিয়ে এনে আনন্দ ভাসাতে সারা দেশকে? নাকি আরো একবার আক্ষেপের পরাজয়ে নাম লেখবে বাংলাদেশ? সেই প্রশ্ন কালকের জন্য তোলা থাকলো।

তথ্যসূত্রঃইন্টারনেট

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

23cac260e0e06efa81849ba8495e00cfx236x157x8

টেস্ট ক্রিকেট রক্ষার ওষুধ বলে দিলেন টেন্ডুলকার

আধুনিক যুগের ক্রিকেটে টেস্ট ম্যাচ এখন বলতে গেলে দর্শকহীন। তবে মাঠে দুর্দান্ত প্রতিন্দ্বন্দিতাই আবারো টেস্ট …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *