ঢাকা : ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, বুধবার, ১০:৪০ অপরাহ্ণ
সর্বশেষ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

বাঁ পায়ে সাড়া ফিরেছে, স্মৃতিশক্তি ফেরার অপেক্ষা

574788c26b9f2886d7c8469375cc10db-96_sylhet-kadiza-pic-001সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা বেগমের বাঁ পায়েও সাড়া ফিরে এসেছে। স্বাভাবিক খাবার খাচ্ছেন তিনি। শরীর থেকে সব নল খুলে ফেলা হয়েছে। তাঁর ভাই শাহীন আহমেদ গতকাল শনিবার প্রথম আলোকে এ কথা জানান।
খাদিজা বেগম সিলেট এমসি কলেজ থেকে পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ছাত্রলীগ নেতা ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বদরুল আলমের হামলার শিকার হন। বদরুলের চাপাতির উপর্যুপরি কোপে খাদিজা গুরুতর আহত হন। আহত অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজে প্রথম দফা জরুরি অস্ত্রোপচারের পর ওই দিনই দিবাগত রাতে স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয় খাদিজাকে।
এর আগে গত সোমবার খাদিজার ডান হাতে চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচার করেন। অস্ত্রোপচারের পর স্কয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, খাদিজার জ্ঞান ফিরে আসছে। তবে তিনি তাঁর শরীরের বাঁ পাশটা নাড়াতে পারছেন না। বাঁ হাতে অস্ত্রোপচার জরুরি হলেও তাঁরা অনুভূতি ফিরে আসার অপেক্ষায় আছেন। খাদিজার ভাই শাহীন আহমেদ বলেন, বাঁ পায়ে ব্যথা দিলে খাদিজা এখন সাড়া দিচ্ছেন। তবে বাঁ হাত একেবারেই অচল। মাঝে মাঝে খাদিজা চোখ মেলছেন। কিন্তু তাঁর স্বজনদের ধারণা, জ্ঞান ফিরলেই তাঁর হয়তো ওই দিনকার ঘটনা মনে পড়ছে। চোখ-মুখ দেখে তাঁদের মনে হয়, খাদিজা ভয় পাচ্ছেন। তাঁর চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছে।
মেয়ে গুরুতর আহত হওয়ার পর খাদিজার মা মনোয়ারা বেগম গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিছুটা সামলে উঠে তিনি ঢাকায় এসেছেন গত বুধবার। মেয়েকে স্পর্শ করলেও সাড়া পাননি। এই কষ্টে কাতর তিনি। গতকাল স্কয়ার হাসপাতালের লাউঞ্জে বসে তিনি প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর চোখে-মুখে এখনো উদ্বেগ। মেয়ের জীবন বাঁচে কি না, সে নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন। এখন তাঁর উৎকণ্ঠা মেয়ের জ্ঞান ফিরে আসা নিয়ে। তিনি বলেন, ‘বাচ্চার মুখও চাইলে জানে দখ খরিয়া উটে। ফুরিয়ে মাতে না। খেউরে চিনে না। খিতা বুঝতাম খেমন আছে!’
চীনের একটি মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র শাহীন আহমেদ বলেন, সিলেটের রক্ষণশীল যৌথ পরিবারের মেয়ে হয়েও খাদিজা লেখাপড়া চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তাঁর ইচ্ছার কাছে যৌথ পরিবারের বেঁকে বসা সদস্যরাও একসময় হার মেনেছিলেন। তাঁকে এভাবে হাসপাতালের বিছানায় পড়ে থাকতে হবে, তা কেউ কল্পনাও করেননি। শাহীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর অনেকেই পড়ালেখার আর দরকার নেই বলে মত দিয়েছিলেন। খাদিজা যখন আমাকে বলল, ও অর্থনীতি পড়ে ব্যাংকার হতে চায়, আমি ওকে সমর্থন দিয়েছিলাম। অনার্স পড়ার সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু সহশিক্ষায় আবার অনেক আপত্তি ছিল। শেষ পর্যন্ত সিলেট সরকারি মহিলা কলেজে ভর্তি হলো।’ তিনি যেন সুস্থ হয়ে আবারও লেখাপড়ায় ফিরতে পারেন, তাঁর ব্যাংকার হওয়ার স্বপ্ন যেন পূরণ হয়, সে জন্য খাদিজার পরিবার দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে।
গতকাল খাদিজার পরিবারের সদস্যরা আশা করেন, বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে। সম্প্রতি সিলেট থেকে মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা এসে খাদিজার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছেন। খুব দ্রুতই অভিযোগপত্র দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
স্কয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকেরা খাদিজার স্বজনদের বলছেন, খাদিজা পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন কি না, সে বিষয়ে জানতে আরও মাস দেড়েক সময় লাগবে। তবে চলতি সপ্তাহে হয়তো হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিট থেকে খাদিজাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হতে পারে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে খাদিজার ভাই বলেন, গ্লাসগো কোমা স্কেলে খাদিজার সচেতনতার স্কোর ছিল ১৫ তে ৬, সেটি এখন ১১ তে দাঁড়িয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

বান্দরবানে বাড়ছে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ :সতর্ক অবস্থানে প্রশাসন

  বি.কে বিচিত্র, বান্দরবান প্রতিনিধি: মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সমস্যা দিন-দিন জটিল আকার ধারণ করছে। সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *