ঢাকা : ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, শনিবার, ৩:৫৫ অপরাহ্ণ
সর্বশেষ
রামগঞ্জে ১১টাকার জন্য স্কুলছাত্রকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন রোহিঙ্গাদের সহায়তা দেয়ার অনুমতি চাচ্ছে জাতিসঙ্ঘ : সাড়া দিচ্ছে না সরকার এবার রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ৩ কোটি ১০ লাখ ডলার হ্যাকড বাচা-মরার লড়াইয়ে টস জিতে ব্যাটিংয়ে রংপুর রাইডার্স শীর্ষস্থান সহ শীর্ষ দশের বাংলাদেশেরই সাত কারখানা প্রতিবন্ধীদের সাথে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে : প্রধানমন্ত্রী দেশের ভেতরে রোহিঙ্গার সমস্যার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দুষলেন সু চি ৫৫০ ছবি নিয়ে আজ থেকে স্বল্পদৈর্ঘ্য ও মুক্ত চলচ্চিত্র উৎসব রোহিঙ্গাবোঝাই চারটি নৌকা ফেরত পাঠিয়েছে বিজিবি মনে হচ্ছিল এটা আইপিএল ম্যাচ: ব্রাভো
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

রামপাল হঠাও সুন্দরবন বাঁচাও!

sorbonasj
শুরুতেই বলি, যেহেতু সংবিধান অনুযায়ী দেশের মালিকানা দাবি করতে পারব না সেহেতু তো দেশের কোন সিন্ধান্ত কিভাবে নেয়া হবে সেটা সম্পর্কে কোন কথা বলার অধিকারও নাই। এবং, যেহেতু পরিবেশবিদ্যা কিংবা ফরেস্ট্রির কোন ছাত্রও আমি না, সেহেতু সুন্দরবনের পরিবেশ নিয়ে কথা বলার অধিকারও আমার নাই।
এই দুটো বিষয় মেনে নিয়েই, আমি বলছি; মূলত যেহেতু আমার দেশ নিয়ে কথা বলার অধিকার নেই, তাই আমি অন্যজনের কথাই বলছি এবং সেটা এই দেশ সম্পর্কিত নয়। তার আগে চলুন অক্সফাম সম্পর্কে জেনে নেই, অবশ্য মোটামুটি সবাই জানিই। মুক্তিযুদ্ধের সময়, যুক্তরাষ্ট্রের দাতব্য ত্রান সংস্থা ‘অক্সফাম’ শরণার্থীদের সাহায্যে প্রবলভাবে এগিয়ে এসেছিল। বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষনের জন্যে তারা কেনেডি, মাদার তেরেসা সহ পৃথিবীর বিখ্যাত ৬০ জন সাংবাদিক – লেখক – শিল্পীর বিবরণ নিয়ে “Testimony of Sixty” নামক এক সংকলন প্রকাশ করেছিল। “Its their record, their voice, their testimony of a tragedy।”
নয় বছরের কয়টা বাচ্চা মেয়ে বাংলাদেশকে সাহায্য করার জন্যে অক্সফামের কাছে একটা চিঠি সহ ৫৬ পাউন্ড ১৫ পেনি সহ পাঠিয়েছিল। সে যাই হোক, এগুলো সবাই জানেন। এই ‘অক্সফাম’ ২০১৫ সালে ‘Let them Eat coil” শিরোনামে একটা রিপোর্ট প্রকাশ করে, সেখানে ভূমিকাতে বলা হয়েছে, Coal is the single biggest driver of catastrophic climate change – responsible for one-third of all CO2 emissions since the industrial revolution. Moving beyond it is the first acid test of whether we will win the fight against runaway climate change. Each coal power station can be seen as a weapon of climate destruction – fueling ruinous weather patterns, devastating harvests, driving food price rises and ultimately leaving more people facing hunger. With these climate impacts falling disproportionately on the most vulnerable and least food-secure people, the burning of coal is further exacerbating inequality. Without urgent action, climate change could put back the fight against hunger by several decades. আরো বলা আছে – G7 coal power stations emit twice as much fossil fuel CO2 as the whole of Africa, and their contribution to global warming will cost Africa alone more than $43bn per year by the 2080s and $84bn by 2100, and lead to several million tonnes of staple crops lost worldwide. বাংলাদেশ বিষয় আনতে চাচ্ছিলাম না, কিন্তু সেখানেও বলা আছে – ‘Every tonne of coal that is burnt adds to the climate change burden on Bangladesh and other vulnerable nations – stealing land with sea level rise and making food harder to grow.’
‘অক্সফাম’ আমাদেরকে আরো জানাচ্ছে যে, পৃথিবীর অনেকগুলো দেশ ও অর্থনৈতিক সংস্থা সমূহ ধীরে ধীরে তাঁদের পুরনো পলিসি থেকে বের হয়ে আসছে। নতুন কোন কয়লা প্ল্যান্ট এর অনুমতি এবং অর্থনৈতিক সাহায্য দিচ্ছেনা কিংবা বন্ধ করে দিচ্ছে।
পরিবেশ বিদ্যার ছাত্র না ঠিক, তবে এটা বুঝতে পারি যে, কয়লা জিনিসটা খারাপ; ভয়ংকর খারাপ এবং সবাই এর বিকল্পের রাস্তা খুজছে। শুরুর দিকে আবারো ফিরে যাই, আমি সংবিধান অনুযায়ী দেশের মালিক নাও হতে পারি, কিন্তু দেশের নাগরিক এটা নিশ্চিত, কেননা, আমার পিতা মাতা দুজনেই বাংলাদেশি। এবং গণতান্ত্রিক দেশের নাগরিক হিসেবে অন্তত দু একটা প্রশ্ন তো করতে পারি!
কয়লা কে যেহেতু পরিবেশের জন্যে ক্ষতিকর বস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে পৃথিবীব্যাপি এবং অন্যান্য দেশ সমূহ এই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে ধীরে ধীরে, সেখানে আমরা কেন একেবারে আমাদের সবচেয়ে স্পর্শকাতর জায়গা ‘সুন্দরবন’ এর পাশেই এটা করতে হবে?
আসুন আমরা সবার জন্য কাজ করি- সকল যুক্তি-তর্ক-গবেষণা আর উদাহরণের বিপরীতে কোটি টাকা খরচ করে বিজ্ঞাপণ বানিয়ে সরকারী মিথ্যাচারের প্রচার এখন কেবলই ৪০০ বছর আগের ক্যাথোলিক চার্চের ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যেখানে বিজ্ঞানকে চোখ রাঙ্গানী দিত ক্ষমতার রসে ফুলে থাকা যাজক সম্প্রদায় যারা নিজেদের গোমর ফাঁস হয়ে যাবার ভয়ে সে সময়ে উদ্ভাবিত সৌরকেন্দ্রিক মহাবিশ্বের ধারণা শুধু প্রত্যাখ্যানই করেনি বরং এর উদ্ভাবক গ্যালিলিওর শেষ দশ বছরের জীবন নরক বানিয়ে রেখেছিল। আপনারা যদি এখন ঐ যাজককুলকে তিরস্কার করেন তবে আজকের দিনে এই তথ্যপ্রবাহের কালে আমাদের সরকারকে কী বলবেন?
বিশ্বের দেশে দেশে পরিত্যাজ্য কয়লা’কে যে উনারা প্রায় সোনার পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছেন।উনারা ভারতের ৬০ শতাংশ কয়লা বিদ্যুতের কথা বলেন। কিন্তু আপনারা কী কখনও পাল্টা যুক্তি দিয়ে দেখিয়েছেন যে ভারত সরকার কয়লার অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে ২০২২ সালের মধ্যেই ১ লক্ষ ৭৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানী থেকে উৎপাদনের জন্য কাজ করছে?
আমাদের সরকার চীনের কয়লা প্রীতির কথা বলেন কিন্তু আপনারা কী কখনও দেখিয়েছেন যে দূষণ থেকে রক্ষা পেতে সেখানে ১ হাজার সক্রিয় কয়লা খনি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে? যদি আপনি এইসব প্রশ্ন না করে টিভি সেটের সামনে বসে চুপচাপ রামপালের বিজ্ঞাপন গিলতে থাকেন তবে জেনে রাখুন সুন্দরবন হত্যার রক্তের দাগ আপনার হাতেও লেগে থাকবে।
যেমনিভাবে, ষোড়শ শতাব্দীর ক্যাথোলিক চার্চের হাতে লেগে আছে গ্যালিলিওর আরও আবিষ্কার সম্ভাবনা খুনের দাগ। সবাই ভাল থাকবেন।
লিখেছেন পাঠান আজহারউদ্দীন প্রিন্স।
{লেখাটি একান্তই লেখকের এর জন্য বিডি২৪ টাইমস কোন ভাবেই দায়ী থাকবে না}

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

habibah

রবির বিজ্ঞাপনে কৌশলে জাতীয় পতাকার অবমাননা?

যেকোনো পণ্যের প্রচারের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হচ্ছে বিজ্ঞাপন। হোক তা টিভি পর্দায় কিংবা লোকাল বাসে …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *