Mountain View

টাকা দিয়ে ঢাবির অনুষ্ঠানে বক্তা হতে চেয়েছিনে সুশান্ত পাল

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ২৪, ২০১৬ at ৩:৪৫ অপরাহ্ণ

susanto

হাবিবুর রহমান জুয়েল : ঢাবিতে  একটা লেখা প্রতিযোগিতা হয়েছিল। সেটির পুরস্কার দেওয়া নিয়ে কথা বলার ফাঁকে নাদিম(তখনকার এডমিন) একদিন বলল, “ভাই টিএসসি তে একটা সেমিনার করতে চাচ্ছি। সেখানে দিয়ে দিবো।” তখন সে বক্তা হিসেবে একজন ব্যক্তির নাম বলল। যেহেতু বিসিএস কিংবা অন্য চাকরি নিয়ে আমার কোন খোঁজ খবর নেই। তাই স্বাভাবিক ভাবেই নাম শুনে প্রথমে একটু খটকা লাগলো।

দেশের এত বড় মানুষ অথচ তার নাম জানি না আমি। হতেই পারে! আমার জ্ঞানের স্বল্পতাই ধরে নিলাম। নাদিম কয়েকবার টাইপিং মিস্টেক করে লিখেছিল, “সুধান্ত পাল”। একবার সে “সুশান্ত”ও লিখেছিল। আমি ধরে নিলাম হয়তো “সুকান্ত পাল” হবে ভুল করে “সুধান্ত” আর “সুশান্ত” লিখেছে। নাদিমকে বললাম, তোমাদের যে কোন ভালো কাজের পাশে আমি আছি। এর আগে কম্বল বিতরণে পঞ্চাশটি কম্বল দিয়েছিলাম। ওদের উদ্যোগগুলো আমার ভালো লাগছিল।


সেমিনারের কথা বলতে গিয়ে নাদিম বলল, পনের হাজারে মতো খরচ হবে। জন প্রতি দশ টাকা করে নিবে। আমি বললাম, টাকা নেওয়ার দরকার নাই। আমি পনের হাজার টাকা দিয়ে দিবো তুমি আয়োজন করো। এর পর একদিন জানতে পারলাম অনেক বড় প্রোগ্রাম হবে। দুই লাখ টাকা খরচ হবে। টাকার যোগান দিবেন “সুশান্ত পাল”


শুনে থ হয়ে রইলাম কিছু সময়। এ কেমন বক্তা যিনি নিজে এত টাকা দিয়ে বক্তব্য দিতে আসতে চান! তারপর পজিটিভলি ভাবতে লাগলাম যে, নিশ্চয়ই অনেক ভালো লোক হবে, নয়তো নিজের পকেটের টাকা দিয়ে ছাত্র ছাত্রীদের স্বপ্ন দেখাবার কথা শোনাতে কেন আসবেন!

নাদিম একদিন বলল, “চলেন বসুন্ধরা যাই সেখানে সুশান্ত পাল আসবে, মিটিং হবে।” এবার আমি সঠিক নামটি ধরতে পারি। যে নাম সুকান্ত পাল নয়, সুশান্ত পাল। ফেসবুকে ঢুকে তার কয়েকটি লেখাও পড়লাম। অন্যদের মতো আমারও ভালো লাগলো। মিটিং এ নাদিম আমাকে পরিচয় করিয়ে দিলো। আমি বন্ধু সজিবের কথা বললাম(২৯তম বিসিএস এ কাস্টমস, ইতিহাস বিভাগে আমার সহপাঠি ছিল) সুশান্ত পাল সজিবকে চিনতে পারলেন। খাবার দাবার ও সেল্ফি তোলা শেষে সুশান্ত পাল আমাকে তার মোবাইল নম্বরটি দিয়ে মাঝে মধ্যে ফোন দিতে বললেন। হাঁটতে হাঁটতে নাদিমকে বললাম, “বেশ ভালো লোক বটে।”

নাদিম বলল, “ভাই, সব ফেমাস হওয়া আর মেয়ে খাওয়ার ধান্ধা। চরম মেয়ে খোর!” “বল কি! তাহলে এই লোককে কেন বাছাই করলে?” “পোলাপাইন চায়, আর খুব ভালো বক্তা। মেয়েরা খুব পছন্দ করে। ভেতরের খবর ক’জন জানে।” ততদিনে প্রোগ্রাম এর কাজ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। সুশান্ত পাল বসুন্ধরা সিটির ডাচ বাংলার বুথ থেকে তুলে বোধহয় ত্রিশ হাজার টাকা নাদিম এর হাতে দিলেন।

আমরা চলে এলাম। একদিন রাতে পোস্টারিংও করা হলো। আমিসহ আট দশজন মিলে পোস্টািরিং করলাম। নাদিম এর আগ্রহ আমার ভালো লাগলো। সুশান্ত পালের ব্যক্তিগত চরিত্র কী সেটা হয়তো আমার মতো সেও মাথায় নেয় নি। তার বক্তব্য সবাই শুনে। সবাই তাকে পছন্দ করে এটিই তখন মূল বিবেচনার বিষয়। তার ফেসবুকের লেখা পড়েও তাই মনে হলো আমার কাছে। ঢাবির শিক্ষার্থীদের দেখলাম তাকে দেবতা মানে। তার পোস্টে হুমড়ি খেয়ে পড়ে সবাই।
এরপর একদিন শুনলাম প্রোগ্রাম হবে না। নাদিমের মতো আমারও খারাপ লাগলো। “নাদিম ও একটি চড়ের গল্প” নামে সেটি নিয়ে গ্রুপে পোস্টও দিয়েছিলাম।

গত ফেব্রুয়ারিতে আমার বের হওয়া বইটি আমি সুশান্ত পালকে উৎসর্গ করার জন্য মনও স্থির করে ফেলেছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব কিছু বিচার করে দেখলাম, তিনি আপাদমস্তক চরম প্রকৃতির একজন বেয়াদব। মানুষকে ছোট করা, হেয় ও তুচ্ছ তাচ্ছিল্ল করা তার অন্যতম কাজ। এত মূল্যবাণ জিনিস আর যাই হোক একজন নিচু প্রকৃতির বেয়াদবের ঝুলিতে যেতে পারে না….।
আদব কায়দা ও মানুষকে শ্রদ্ধা করার শিক্ষা মূলত আমরা পরিবার থেকে পাই। তার পরিবার তাকে কী শিক্ষা দিয়েছে তা সহজেই অনুমেয়…। পেশায় বিসিএস ক্যাডার হলেও অস্ত্রধারী ক্যাডারদের মতোই যাকে তাকে তুই তাঙ্গারি ও ব্লক মারার হুমকি ধামকি দিতে তাকে দেখা যায়।

সর্বশেষ ঢাবিকে নিয়ে তার লেখাটি পড়ে মনে হলো সে শুধু বেয়াদবই নয়, অতি নিম্ন শ্রেণির কীট, পুঁজের মতো নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত তার চিন্তা চেতনা। কত বড় মাপের অসভ্য হলে ঢাবির মেয়েদের সে “কুত্তি” হিসেবে আখ্যায়িত করতে পারে ভেবে পাই না। তার মায়ের কথা ভেবে আজ আমার সত্যি কষ্ট হয় যে, তিনি এমন এক অপদার্থকে পৃথিবীর আলো দেখিয়েছেন, যে কিনা নারীদের “কুত্তি” বলে গালি দেয়।

ধিক সুশান্ত পাল। ধিক আপনার শিক্ষা। ধিক আপনার সভা-সেমিনার। ধিক আপনার লেখনি। ধিক আপনার বিসিএস। ধিক। ধিক। ধিক। শত ধিক। হাজার ধিক। লক্ষ কোটি ধিক….. ঢাবি ও এর শিক্ষার্থীদের অপমান করার জন্য আইনের আওতায় এনে আপনার বিচার করা হবে। জাস্ট ওয়েট এন্ড সি

এ সম্পর্কিত আরও