Mountain View

ঢাবির ‘এমবিএ সনদ’ হারাতে পারেন সুশান্ত পাল

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ২৪, ২০১৬ at ১:০৬ পূর্বাহ্ণ

du

বিডি টুয়েন্টিফোর টাইমস : কুরুচিপূর্ণ একটি লেখার জন্য কাস্টমস কর্মকর্তা সুশান্ত পালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ’র সনদপত্র বাতিল হতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তার সনদপত্র বাতিলে উদ্যোগ নেওয়া হবে এমন আশ্বাস দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শিক্ষার্থীরা বিডি টুয়েন্টিফোর টাইমসকে জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সুশান্ত পালের সনদপত্র বাতিলের আশ্বাস তাদের দিয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আমজাদ আলী  বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীরা আমার কাছে এসে তাদের লিখিত অভিযোগ দিয়ে গেছে। লেখাগুলো আমি দেখেছি। এ বিষয়ে উপাচার্য স্যারের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাকেও এ নিয়ে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’

এমবিএ’র সনদপত্র বাতিলের প্রসঙ্গে প্রক্টর বলেন, ‘একজন সাবেক শিক্ষার্থীর সনদপত্র বাতিলের এখতিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে। সুশান্ত পালের অপরাধ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদি সনদপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত আসে, তাহলে প্রক্রিয়া অনুযায়ী উদ্যোগ নেওয়া হবে’।

এর আগে শনিবার রাতে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।

রোববার সন্ধ্যায় এ নিয়ে কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা বসেছিলাম। এখন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।

সিদ্ধান্ত কবে নাগাদ আসতে পারে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এটা এখনই বলা যাচ্ছে না, সময় লাগতে পারে’।

du

সুশান্ত পাল চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) থেকে স্নাতক করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ করেন।

এদিকে রোববার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সুশান্ত পালের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, সুশান্ত পাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতিকে অস্বীকার করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ধারণ করেন না। তিনি চুয়েট থেকে স্নাতক করে এসে এখানে এমবিএ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে নোংরা লেখার মাধ্যমে তিনি তার ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করেছেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা সুশান্ত পালের এমবিএ’র সনদপত্র বাতিলের দাবি জানান। একই সঙ্গে সুশান্তের বিরুদ্ধে তথ্য ও প্রযুক্তি আইনে মামলারও দাবি করেন তারা।

মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কার্যালয়ে তথ্যপ্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ ও দাবি জানান। এর আয়োজন করে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ নামের ফেসবুক গ্রুপ, যেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ প্লাটফর্ম।

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ লেখা পোস্ট করেন সুশান্ত পাল। এর পরই ফেসবুকে এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তীব্র প্রতিবাদ আর ক্ষোভের মুখে পড়ে পোস্টটি ফেসবুক থেকে মুছে ফেলেন সুশান্ত। পরে ক্ষমা চেয়ে আরেকটি পোস্ট দেন কাস্টমসের এই কর্মকর্তা

 

এ সম্পর্কিত আরও