Mountain View

নিজের বাবা-মাকে চিনতে পেরেছেন নার্গিস

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ২৫, ২০১৬ at ১০:১৮ অপরাহ্ণ

nargis

বাবা-মাকে চিনতে পেরেছেন খাদিজা বেগম।  আজ তাঁর বাবাকে ‘আব্বু’ বলে ডেকেছেন। গত ৩ অক্টোবর থেকে অচেতন অবস্থায় ছিলেন। স্বজনেরা জানিয়েছেন এ খবর।

সৌদিপ্রবাসী মাশুক মিয়া মেয়ের ওপর হামলার খবর পেয়ে ৬ অক্টোবর দেশে ফেরেন। একই দিনে দেশে আসেন খাদিজার ভাই শাহীন আহমেদ। চীনের একটি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী শাহীন সোমবার চীনে ফিরে গেছেন।

গত ৩ অক্টোবর সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের (ডিগ্রি) ছাত্রী খাদিজা বেগম পরীক্ষা দিয়ে ফেরার পথে বদরুল আলমের নির্যাতনের শিকার হন। মাথায় মারাত্মক আঘাত নিয়ে প্রথমে খাদিজাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর অচেতন অবস্থাতেই খাদিজাকে ওই দিন দিবাগত রাতে তাঁর স্বজনেরা স্কয়ার হাসপাতালে আসেন।

রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খাদিজা বেগম এখন হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে আছেন। তাঁর শরীর থেকে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের যন্ত্রপাতি ও খাওয়ানোর জন্য যন্ত্রপাতি খুলে নেওয়া হয়েছে। শারীরিক অবস্থার আরও উন্নতি হওয়ায় হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট থেকে খাদিজাকে কেবিনে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

খাদিজা বেগমের চিকিৎসক স্কয়ার হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের পরামর্শক রেজাউস সাত্তার জানিয়েছেন, মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর খাদিজার শরীরের ডান দিকে সাড়া ফিরলেও, খাদিজা বাম হাত-বাম পা নাড়তে পারছিলেন না। এই সপ্তাহের শুরু থেকে খাদিজা বাম পাও সামান্য নাড়তে পারছেন। তবে বাম পা নাড়তে তাঁর খুব কষ্ট হচ্ছে।

আজ (মঙ্গলবার) রাতে খাদিজার বাবা মাশুক মিয়া  সাংবাদিকদের বলেন, খাদিজা আজ আমাকে আব্বু বলে ডেকেছে।  ও আমাকে ওর মা কে ও আমাদের আত্মীয়-স্বজনদেরও হালকা-হালকা চিনতে পারছে।

আমি নিজে শুনেছি। আমার মনে হলো  ব্যথা পেলে গোঙাচ্ছে। চিকিৎসকেরা আমাদের বলেছেন, দু/চার দিনের মধ্যেই ওকে কেবিনে দিয়ে দেবেন।’

তিনি আরও জানান, খাদিজা এখন কোনো কৃত্রিম যন্ত্রের সাহায্য ছাড়াই অল্প-স্বল্প খাওয়া দাওয়া করছেন। বেশির ভাগ সময়ই তাঁকে তরল খাওয়ার দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে মাশুক মিয়া বলেন, তাঁরা ধারণ করছেন দু/তিন মাস পরে খাদিজার শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View