Mountain View

বঞ্চনা বিজয়ীদের গল্পে মুগ্ধ ইংলিশ ক্রিকেটাররা

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ২৫, ২০১৬ at ১০:১৭ অপরাহ্ণ

english-cricketer-1তাদের একজন এসিডে ঝলসানো মুখ নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন, আরেকজন মাদকাসক্তি থেকে ফিরে হয়েছেন মাদক আর বাল্যবিয়েবিরোধী আন্দোলনের সংগঠক; আরেকজন ফুটবল টিম নিয়ে খেলার পাশাপাশি লড়েন নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের এমনই চারজন বঞ্চনা বিজয়ীর গল্প শুনে মুগ্ধ হয়েছেন ইংল্যান্ড দলের ক্রিকেটাররা।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকায় ব্রিটিশ হাই কমিশনে ইউকেএইডের সহযোগিতার প্রকল্পে ঘুরে দাঁড়ানো এসব নারী-পুরুষকে বিদেশি ক্রিকেটারদের সামনে আনা হয়।

তাদের কথা শুনে ইংল্যান্ড টেস্ট দলের অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুক বলেন, “আপনাদের গল্পগুলো শুনে আমরা মুগ্ধ হয়েছি। এগুলো সাহসী হওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাবে।”

অনুষ্ঠানে এসিড সারভাইভার্স ফাউন্ডেশনের কর্মসূচি কর্মকর্তা তাহমিনা ইসলাম তুলে ধরেন ১৬ বছর আগে এসিডে মুখ ঝলসানোর পর এখন আক্রান্তদের জন্য কাজ করার গল্প।

২০০০ সালে বান্ধবীর সঙ্গে রিকশায় যাওয়ার সময় এসিড আক্রমণের শিকার হয়ে এ পর্যন্ত দেশ-বিদেশে অন্তত ১৮ বার সার্জারি নেওয়ার কথা জানান তিনি। বখাটের লক্ষ‌্য তার বান্ধবী থাকলেও এসিড এসে তার মুখে পড়েছিল।

তাহমিনা বলেন, “এসিড আক্রমণের পরে পরিবার থেকে সহযোগিতা না পাওয়া, সমাজের বঞ্চনার শিকার হওয়া মূল সমস্যা। দোষ না করেও কটূক্তি শুনে সময় পার করতে হয়। তবুও আমি ঘুরে দাঁড়িয়েছি। এখন কাজ করছি তাদের জন্য যারা আমার মতো আক্রমণের শিকার হয়।”

নড়াইলের ‘বাঁচতে শেখো’ সংগঠনের বালিকা ফুটবল দলের সদস্য রণি পাঠক শোনান কীভাবে ২৮ জনের ফুটবল দল নিয়ে ইভটিজিং, নারী নির্যাতন ও বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তারা।

“আমরা প্রশিক্ষণ নিয়েছি। এখন কোথাও বাল্যবিবাহ হলে কিংবা ইভ টিজিংয়ের ঘটনা ঘটলে আমরা একসঙ্গে মিলে সেখানে যাই। এর মাধ্যমে এসব অপরাধ কমিয়ে আনতে পেরেছি আমরা।”

অনূর্ধ্ব-১৪ ও অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল দলে খেলার সুযোগ পাওয়ার কথা জানিয়ে রণি বলেন, “আগে আমাদের পরিবার ও সমাজ এটাকে ভালো চোখে দেখতো না। এখন তারা আমাদের কার্যক্রম দেখে মেনে নিয়েছে।”

রণির গল্প শুনে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা প্রধান রেজ ডিকেসন জানতে চান, “ক্রিকেট দলের মাধ্যমে এ ধরনের কার্যক্রম সম্ভব কি না। দেশে নারীদের ক্রিকেটে আগ্রহ কেমন?”

তার উত্তরে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ প্রকল্প পরিচালক বনশ্রী মিত্র নিয়োগী বলেন, ক্রিকেটে আগ্রহী মেয়েদের নিয়ে দেশের নানাপ্রান্তে এ ধরনের কয়েকটি দল গঠন করেছেন তারা।

অনুষ্ঠানে নড়াইলের কবিতা বিশ্বাস বলেন ১৩ বছর বয়সে স্বামীর ঘরে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করতে গিয়ে বেঁচে ফেরার কথা।

“খেতে দিত না, যা পারত তাই করত। আমি আত্মহত্যা করতি যাই। হাসপাতালে ২২ চিকিৎসার পর বাইচা ফিরে আসছি। এরপর বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে কাজ করতে আমি শুরু নিজেই একটা সংগঠন করছি। এখন বাল্যবিবাহ দূর করতে এখন আমরা কাজ করি।”

নদীভাঙনে ঘরছাড়া হয়ে মাথা গোঁজার আশায় ঢাকামুখী হন দক্ষিণবঙ্গের ভ্যানচালক ইব্রাহিম খলিল। কিন্তু ঢাকায় ফিরে মিশে যান মাদকাসক্তদের সঙ্গে।

মাদকাসক্তি থেকে স্বামীকে ফেরাতে উদ্যোগী তার স্ত্রী দ্বারস্থ হন বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার। সংস্থাটির কাউন্সিলিংয়ের ফলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে খলিল এখন মাদকাসক্তি আর বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সোচ্চার হয়েছেন।

খলিল বলেন, “আমরা ২০ জনের একটি দল গঠন করেছি কল্যাণপুর এলাকায়। এখন বস্তির কোথাও বাল্যবিবাহের খবর এলে আমরা সেখানে ছুটে যাই। পুলিশ আর মানবাধিকার সংস্থার সহযোগিতায় সেটা বন্ধ করি।”

বঞ্চনা বিজয়ীদের গল্প শুনে তাদের বিভিন্ন প্রশ্ন করেন ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাহী টম হ্যারিসন, ক্রিকেটার জনি বেয়ারস্টো, জ্যাপ আনসারীসহ কয়েকজন।

গল্প বলার শেষে ইংল‌্যান্ডের ক্রিকেটারদের কাছে বাংলাদেশে আসার অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশ দল টেস্টে কেমন করছে সে বিষয়ে জানতে চান তাহমিনা।

অ্যালিস্টার কুক বলেন, “বাংলাদেশ ওয়ানডেতে ঘরের মাঠে টানা ছয়টি সিরিজ জিতে তাদের শক্তিমত্তার কথা জানান দিয়েছে। টেস্টেও তারা অনেক উন্নতি করেছে। সফরের প্রথম টেস্টে ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছে।”

এ সম্পর্কিত আরও