ঢাকা : ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, শুক্রবার, ৬:০১ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

সুশান্ত পালের বিরুদ্ধে ২ টি মামলা করবে আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

shushanto case

তারেক মাহমুদ ও শাহরিয়ারর মান্নান : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে হেয় প্রতিপন্ন করে অপপ্রচার চালানোর দায়ে কাস্টমস কর্মকর্তা সুশান্ত পালের বিরুদ্ধে ২ টি বড় ধরনের মামলা করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। সোমবার রাত ১১ টার দিকে শাহবাগ থানায় গিয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন করে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ এ বিদ্যাপীঠ।

মামলার সবকিছু চূড়ান্তও হয়ে যায় তখন।  আজ মঙ্গলবার  সকালেই শাহবাগ থানায় তথ্য প্রযুক্তির ৫৭ ধারায় একটি মামলা দায়ের হওয়ার কথা। অন্যদিকে জজ কোর্টে মানহানির আরেকটি মামলাও দায়ের করবে মামলার বাদী হিসেবে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। প্রক্টর স্যার এই বিষয়ে তদারক করছেন। সাবেক-বর্তমান অনেক শিক্ষার্থী এগিয়ে এসেছেন।

পাল বিরোধী এ আন্দোললে নেতৃত্ব দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের এডমিন শাহরিয়ার প্রামাণিক, এসএম রাসেল  ও মতাকাব্বির খান প্রবাস। তাদের সমর্থনে ছিলেন পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য তার একটি ফেইসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফেটে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গত ১৮ অক্টোবর সকাল ১১ টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কটাক্ষ করে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেয় বর্তমানে কাস্টমস অফিসার হিসাবে কর্মরত সুশান্ত পাল।

চলুন দেখে নেই- কি লিখেছিলেন সুশান্ত পাল-

ফেইসবুক স্ট্যাটাসটি ছিলো এরকম, ‘একটা ছেলে ঢাবি নিয়ে স্বপ্ন দেখা অবস্থায় এখানে ভর্তি হয়ে তারপর ক্যাম্পাসে এসে দোজখের মধ্যে পড়ে। চান্সপ্রাপ্ত শারীরিক প্রতিবন্ধিদের নিয়ে তাদের ক্লাসমেটরা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য ও হাসি-ঠাট্টা করে।’

হলের পরিবেশ নিয়ে সুশান্ত পাল লেখেন, ‘হলের গেস্ট রুমে গাঁজাখোর তথাকথিত বড় ভাইয়েরা সদ্য চান্সপ্রাপ্ত ছেলেটাকে আন্ডারওয়্যার পড়িয়ে নাচায়, ন্যাংটা করে উঠবস করায়। গেস্ট রুমে মাস্টারবেট করতে বাধ্য করেই ক্ষান্ত হন না এরপর তা ভিডিও ধারণ করেন। গাঞ্জাখোর বড় ভাইয়েরা বইপত্র ছুঁড়ে ফেলে দেয়। চায়ে বীর্য ঢেলে দিয়ে সেটা জুনিয়রকে খেতে বাধ্য করায়। এখানে মেয়ে নামক কিছু কুত্তিও আছে এরাও এসব কাজ করে। আর বলতে পারছিনা ভাই, নিজ দায়িত্ব নিয়ে পড়ুন।’

এসব অবান্তর লেখালেখিকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে ফেসবুকে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ গ্রুপটি সরগরম হয়ে উঠে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। সুশান্ত পালকে নিন্দা জানিয়ে ও তাকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসা অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

সমালোচনার ঝড় শুরু হলে সুশান্ত পাল তার ফেইসবুকে আউডি ডি-এক্টিভেট করে ফেলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মনে হয় ওনাকে আইনের আওতায় এনে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করে শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। তথ্য বিকৃতি, কোন প্রতিষ্ঠানকে অকারণে হেয় করে লেখনি প্রকাশ করা কি বাংলাদেশের আইনে দন্ডনীয় অপরাধ নয়?’

তাসফিয়ান নাহিদ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘সুশান্তের কিসের এত গর্ব? তার মত ক্যাডার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছর বিসিএসে হাজারটা জন্ম দেয়’

আরেক শিক্ষার্থী হাসিব মীর বলেন, ‘আমার দেখা মতে তিনি একমাত্র ব্যক্তি, যিনি জনপ্রিয়তার আড়ালে একজন নোংরা মানুষ। সবাই তার উপরের চেহারাটাই দেখে, কিন্তু ভেতরেরটা দেখে না। যারা তার সাথে মিশেছেন তারা হয়তো জানতে পেরেছেন উনি কেমন বাজে প্রকৃতির মানুষ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে কটুক্তি করা, মেয়েদের সাথে ফ্লার্ট করা, ক্যারিয়ার ভাবনার আড়ালে নিজের মার্কেটিং করা তার বাজে অভ্যাস।’

সোহরাব হাসান ‘আবাল, চারাল, দালাল’ এসব বলে সুশান্ত পালকে নিন্দা জানান। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘এই আবাল নাকি বিসিএসে প্রথম হয়েছিল?’

ঢাবি শিক্ষার্থী শাহীন আলম বলেন, ‘বেচারা পাল! শেষ পর্যন্ত ফেসবুক আইডি ডি-এক্টিভেট করেছে। সম্ভবত আজ পর্যন্ত কোন বিসিএস ক্যাডারকে নিজের ভুলের কারণে আইডি ডি-এক্টিভেট করতে হয়নি।’

সুশান্ত মেয়েদের ফেইসবুকে নক করে নাম্বার নিয়ে কু-প্রস্তাব দেয় এবং মেয়েদের জন্মদিনে বাজে প্রস্তাব দিয়ে উইশ করেন বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক শিক্ষার্থীর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘সুশান্ত পাল মেয়েঘেঁষা লোক।’

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

সুলতান সুলেমান দেখব না কেন?

২০১৫ সালের নভেম্বরে প্রচারে এসেছে দীপ্ত টিভি। শুরুর দিন থেকেই প্রচার করছে তুরস্কে নির্মিত টেলিভিশন …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *