Mountain View

মামলা খেয়েই ছাত্রলীগকে দোষারোপ করলেন সুশান্তের বন্ধু

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ২৭, ২০১৬ at ৮:২৪ অপরাহ্ণ

shushanto pal

জাহিদুল ইসলাম, বিডি টুয়েন্টিফোর টাইমসঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে অশালীন ও কুরুচিপূর্ন  মিথ্যা ও বানোয়াট মন্তব্য করার অপরাধে সুশান্ত পালের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার পরপরই ছাত্রলীগকে দোষারোপ করেছেন তার বন্ধু। চুয়েট থেকে পাশ করা কাজি আবদুল মুহিত নামে সেই বন্ধুটি শুধু ছাত্রলীগকে দোষারোপ করেই ক্ষান্ত হননি, অবমাননা করেছেন তথ্য ও যোগাগোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারাকেও ।

সেখানে তিনি বলেছেন ” সুশান্তের বিরুদ্ধে মামলাটা সাধারন ছাত্ররা করলে সত্যিই ভাবতাম ছাত্ররা বিশ্বাস করে ঢাকা বিশ্ব্যবিদ্যালয়ে রেগিং নাই। কিন্তু এখানেও ছাত্রলীগ। ৫৭ ধারা । shame

এমন খবরে হতাশা ব্যক্ত করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মোঃ মুহসীন হলের শিক্ষার্থী তারেক মাহমুদ বলেন, ” সুশান্ত পাল বিরোধী আন্দোলনের শুরু থেকেই ছাত্রলীগের কোন সক্রিয় অংশগ্রহন ছিল না । ছাত্রলীগের কোন কর্মী এখানে আসলেও তারা কেউই ছাত্রলীগের পরিচয়ে আসেনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করতেই সেদিন মানব বন্ধনে অংশ নিয়েছিলেন । “

স্যার এফ রহমান হলের শিক্ষার্থী মিসবাহ উদ্দিন সুমির বলেন, ” দক্ষিন এশিয়ার সর্ববৃহত ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ । বাংলাদেশের স্বাধীনতার সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেমন জড়িত তেমনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগও জড়িত । আর ২০০৮ সালের পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতির ধারক বাহক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। সেখানে সুশান্ত পালের কুরুচিপূর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট গল্পের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ছাত্ররাজনীতি ও র‍্যাগিং । কিন্তু সেখানে আমরা দেখলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তথা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রায় নিশ্চুপ । অথচ আমরা সাধারণ ছাত্ররা আশা করেছিলাম ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে কোন নিন্দামূলক বিবৃতি আসবে । সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, দিনশেষে কোন মন্তব্য না করেই দোষের কাতারে ছাত্রলীগ “

ছাত্রলীগকে দোষারোপ করা মুহিত

ছাত্রলীগকে দোষারোপ করা মুহিত

পাল ভক্তদের যে কেউই না বুঝে এ ধরনের অনাকাঙ্খিত  কথা বলতেই পারেন । কিন্তু তাই বলে নিজের টাইমলাইনে  ট্যাগ পারমিশন দিয়ে শেয়ার  দিয়ে পরোক্ষভাবে নিজেই ছাত্রলীগকে দোষারোপ করেছেন সুশান্ত পাল ।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ই অক্টোবর ফেসবুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে আদিম বর্বরতা চলে, হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এসব ব্যাপারে উদাসীন—এমন সব কথা লিখে সুশান্ত পাল  একটি পোস্ট দেন। পরে এ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলে সুশান্ত পাল তাঁর ফেসবুকে ক্ষমা চান।

তবে মামলায় অভিযোগ করা হয়, সুশান্ত পালের কুরুচিপূর্ণ, মিথ্যা, বানোয়াট ও নোংরা লেখায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী সবাই ক্ষুব্ধ হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ নিয়ে গত রোববার প্রতিবাদ ও মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ নামে ফেসবুকের গ্রুপ, যেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম, সেখানেও এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়।

মামলায় দ্রুত সুশান্তকে গ্রেপ্তার করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ভূমিকা নিয়ে গুণীজনদের ১৫ পৃষ্ঠার একটি লেখাও সংযুক্ত করা হয়।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক  বলেন, ‘সুশান্ত পালের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনে মামলা হয়েছে। আমরা এখন আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

এ সম্পর্কিত আরও