ঢাকা : ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, রবিবার, ৩:৫১ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

ভারত না পাকিস্তান!

india-pakistan

কলামিস্ট পাঠান আজহারউদ্দীন প্রিন্স: ভারতীয় অংশে থাকা ‘কাশ্মীর’ কি ভারতের অঙ্গরাজ্য হিসেবেই টিকে থাকা উচিত ? নাকি পাকিস্তানভুক্ত হলেই ভালো হয় ? দুই দেশের ‘যুদ্ধ যুদ্ধ’ ভাব অবসানকল্পে এই মর্মে বিশ্ববিবেকের কাছে আমার কিছু প্রশ্ন ?
সেই আমার জন্মের পর থেকেই শুনে আসছি কাশ্মীরকে নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এন্তার সমস্যা , যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব, ইত্যাদিও চলছে ! এমন কিছু অঞ্চল নিয়ে শুধু যে ভারত বা পাকিস্তানেই সমস্যা হয়েছে বা হচ্ছে , তা কিন্তু নয় – বরং বিশ্বব্যাপী এই সমস্যা সৃষ্টিকারী ইংরেজরা নিজেরাও কিন্তু এমন সমস্যায় জর্জরিত!
আর এর জন্য দ্বায়ী বৃহৎ সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রগুলোর আগ্রাসী মনোভাব। প্রতিদ্বন্দী রাষ্ট্রগুলোকে ছোট ছোট টুকরো করে ভেঙ্গে দিয়ে দুর্বল করে , লুটেপুটে খাওয়া , নিজেরা (বৃহৎ রাষ্ট্রগুলো) বিশ্বে শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকা , তাদের নিজেদের স্বার্থ রক্ষায়, নামেমাত্র তথাকথিত ছোটছোট স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর ধর্মীয় সহ প্রায় সকল ‘আশা-আাঙ্কার’ প্রতি বৃদ্ধাগুলি প্রদর্শন করা, তথা শোষণ করা এবং সময় সুযোগে ওদের টুটি চেপে ধরে নিজেরা ইচ্ছে মতো লুটপাট করে খাওয়াই হলো ওদের মূল উদেশ্য।
আর আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে তথাকথিত সাহায্য প্রদানকারী ভারতের (আমাদের প্রতি) বর্তমান রূপ দেখেও কি আমরা এ ব্যাপারে সম্যক জ্ঞান অর্জন করতে স্বম হবো না ? আজ ঠিক তেমনি কোনো ঘটনা ও পরিস্থিতির শিকারই হলো এই ‘কাশ্মীর’ এবং তার জনগণ – যার সত্যিকার ও মানবিক একমাত্র সমাধান হওয়া উচিত ছিল জাতিসংঘের অধীনে একটি স্বচ্ছ ও নিরপে ‘গণভোট’ এবং আমার বিশ্বাস – যা হলে কাশ্মীরিরা আগ্রাসী ভারত কিংবা পাকিস্তানের জনগন গিয়ে নিজেদের স্বাধীনতাকেই বেছে নিবে।
কিন্তু তেমনটি না হয়ে আজ যদি কাশ্মীরিরা আমাদের একাত্তরের মতোই কারো সহযোগিতায় স্বাধীন হয়ও(?), তবে ভবিষ্যতে যে ওদের এই স্বধীনতার পরিণামও আজকের আমাদের স্বাধীনতার (?) মতোই হবে , তা বিলণ বলা যায়!
তাই আমি কাশ্মীরীদেরকে বলবো যে – যতই সময় লাগুক না কেন ওরা যেন নিজেদের স্বাধীনতায় আমাদের মতো ভুল করে অন্য কোনো আগ্রাসী শক্তির টোপে না পরে বা সহযোগিতার নামে আমাদের মত নিজেদেরকে কারো কাছে বিকিয়ে না দিয়ে – নিজেরাই নিজেদের যুদ্ধ চালিয়ে যায়।
সে যাই হোক, এবার মূল কথায় আসি। যা বলছিলাম , সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশের উত্তরাংশের কথা না হয় বাদই দিলাম, কানাডা সহ বিশ্বের শান্তিপ্রিয় ও ভদ্র এমন অনেক দেশই কিন্তু ওদের এমনতরো (স্বাধীনতার মত) সমস্যাগুলো গণভোটের মাধ্যমেই সমাধান করেছে। আমাদের স্বাধীনতার ব্যাপারেই বলিনা কেন? পাকিস্তানি মোটা মাথার শাসকরা যদি সেদিন (বর্তমান ভারতীয়দের কর্তৃক কাশ্মীরিদের মতোই) আমাদের উপর ধর্মীয় শ্লোগানের আড়ালে অমন সব হত্যা, জুলুম, শোষণ তথা নির্মমতা না চালিয়ে শান্তিপূর্ণ উপায়ে জাতিসংঘের মাধ্যমে একটি ‘গণভোটে’র উপর বিশ্বাস রাখতো – তবে হয়তো এই উপমহাদেশের ইতিহাস আজ অন্যরকমও হতে পারতো। যেটা করতে ভারতীয়দের ‘ট্রেপ’ ও ‘উস্কানিতে’ পড়ে তৎকালীন পাকিস্থানী শাসকগুষ্টি ব্যর্থ হয়েছিল।
অবাক করা বিষয় হলো এই যে – তথাকথিত বিশ্বশান্তি কামনায় গঠিত ঠুঁটোজগন্নাথ ‘জাতিসংঘ’ও কিন্তু বিশ্বের এমন সব অতিসহজ ও সাধারণ সমস্যার সমাধানে কোনোকালেই শক্তিশালী দেশগুলোর ইচ্ছার বাইরে গিয়ে কঠোর কোনো ভুমিকা রাখেনি। একবার ভেবে দেখুন তো বন্ধুরা – বিশ্ব নেতৃত্ব যদি সত্যিকার অর্থেই নিরপেক্ষ ও মানবিক চেতনাসম্পন্ন তথা মনোভাবাপন্ন হতো – তবে কি আজ ‘আমাদেরই দেশ’ , ‘আমাদেরই মাটি’ অথচ ‘আমাদেরই মতামতের’ উপর গণভোটের ব্যবস্থা না করে , বিশ্বব্যাপী এই সব বেহুদা রণহুংকার বেজে উঠতো?
সোস্যাল মিডিয়া সহ অন্যান্য মিডিয়ায় আজ যারা ভারত ও পাকিস্তানকে উস্কানি দিয়ে যুদ্ধে নামিয়ে দেয়ার পায়তারা করছে – ওরা কি বুঝে যে বর্তমান বিশ্বে দুটি পারমাণবিক শক্তির যুদ্ধের পরিনাম কি ভয়াবহ হতে পারে? তারা কি বুঝে যে, তথাকথিত বন্ধুত্বের নামে আমাদের দেশ যদি বিনা প্রয়োজনেই ভারত ও পাকিস্তানের মত মাথাগরম, অসম অথচ পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের যেকোনটির সাথে জড়িয়ে পড়ে তাহলে আমাদের নিজ দেশের কোটি কোটি লোক হত্যা, পঙ্গুত্ববরণসহ কতটা ধ্বংসসাত্মক ও ভয়াবহতার শিকার হতে পারে?

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

দু্র্নীতি বিরোধী কার্যক্রমে অবদান রাখায় টিআইবির সম্মাননা পেলেন সাংবাদিক সানী ইসলাম

দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার জন্য তরুণদের প্লাটফর্ম ইয়ুথ এনগেইজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস), ইয়েস ফ্রেন্ডস …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *