ঢাকা : ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, রবিবার, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

লর্ডস থেকে মিরপুরে মুশফিক

২০০৫ সালের ২৬ মে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৭ বছর ৩৫১ দিন বয়সে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল মুশফিকের। ১১ বছর তিন মাস পর ২৯ বছর বয়সে আবারও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫০তম টেস্ট খেলত নামছেন বর্তমানে টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। ক্রিকেট ক্যারিয়ারে মুশফিকের অভিজাত ফরম্যাটটি শুরু হয়েছিল লর্ডসেই। অনেক ইতিহাসের সাক্ষী এই মাঠে এত কম বয়সে অভিষেক হয়নি আর কোনও ক্রিকেটারের। যেই রেকর্ডটি টিকে আছে এখনও। আর লর্ডস থেকে শুরু হয়ে এখনও চলছে মুশফিকের যাত্রা। মিরপুরে যখন অ্যালিস্টার কুকের সঙ্গে টস করলেন মুশফিক। ঠিক তখনই নতুন এক মাইলফলক পৌঁছে গেলেন। বাংলাদেশের হয়ে খেলতে যাচ্ছেন ৫০তম টেস্ট।

গত ১৬ বছর বাংলাদেশ টেস্ট খেলেছে ৯৪টি। কিন্তু ৫০ কিংবা তার ওপরে টেস্ট খেলা ক্রিকেটারের সংখ্যা মাত্র তিনজন। সবচেয়ে ৬১টি টেস্ট খেলেছেন সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল। এছাড়া বর্তমান নির্বাচক হাবিবুল বাশার খেলেছেন ৫০টি টেস্ট।

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক মুশফিক শুক্রবারের ম্যাচ বাদে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২৫টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন। যার মধ্যে ৪টি ম্যাচে জয় দেখেছে বাংলাদেশ। বাকি ১২টিতে হার এবং ৯টি ড্র হয়েছে। মুশফিকের পরেই আছেন হাবিবুল বাশার। তিনি ১৮টি ম্যাচ নেতৃত্ব দিয়ে এক জয়ের পাশাপাশি ৪টি ড্র এনে দিতে সমর্থ হয়েছেন।

মুশফিক ২০০৫ সালে প্রথমবারের মতো সাদা পোষাকে জাতীয় দলে সুযোগ পান। আর ইংল্যান্ডের মাটিতে ওটাই ছিল বাংলাদেশের প্রথম সফর।  অপরিচিত পরিবেশ এবং স্বাগতিকদের পেস বোলিং মোকাবেলায় বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের স্বাভাবিকভাবেই যথেষ্ট ভুগতে হয়েছিল। প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলে মুশফিক পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিয়েছিলেন। প্রস্তুতি ম্যাচে ইংলিশ কাউন্টি দল সাসেক্সের বিপক্ষে তিনি ৬৩ রানের ইনিংসও খেলেছিলেন। অন্যদিকে আরেক কাউন্টি দল নটিংহ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে অপরাজিত ১১৫ রানের ঝকঝকে এক ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন তিনি।

এরই পুরস্কার হিসেবে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে জায়গা করে নেন মুশফিক। সেদিনের তরুণ ছেলেটি প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯ রানেই আউট হয়েছিলেন। আর বাংলাদেশ দল অলআউট হয়ে গিয়েছিল ১০৮ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৩ রান করেই ইংলিশ অলরাউন্ডার অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফের বলে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন মুশফিক। তবে গোড়ালির ইনজুরিতে পড়ে সিরিজের বাকি ম্যাচগুলো তার পক্ষে আর খেলা সম্ভব হয়নি।

 শুরুটা অবশ্য মসৃণ হয়নি মুশফিকের। ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় দফা সুযোগ পেয়ে দুই ইনিংস মিলে দুই রান করে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়লেন এই উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান। ১৬ মাস পর একই দলের বিপক্ষে ফের সুযোগ পান তিনি।

প্রথম টেস্টে একাদশের বাইরে থাকলেও, দ্বিতীয় টেস্টে খালেদ মাসুদের জায়গায় প্রথমবারের মতো সুযোগ মিলল উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান হিসেবে।  কলম্বোর পি সারা ওভালে সেই ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ৮০ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের পর আর থামতে হয়নি মুশফিককে। এরপর ২০০৭ সালের জুলাই থেকে বাংলাদেশের সবকটি টেস্ট (৪৭টি) খেলেছেন তিনি।

৫০তম টেস্ট ম্যাচ খেলতে নামার আগে তিনি বলেছেন, ‘এমন মাইল ফলকের সামনে দাঁড়িয়ে খুবই ভালো লাগছে। বাংলাদেশের হয়ে ৫০টি টেস্ট খেলা খুব সহজ নয়। চেষ্টা করবো ব্যক্তিগতভাবে ভালো খেলতে এবং দল যেন ভালো করে।  দলের ভালোর জন্য আমার যা যা করা দরকার আমি তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।’

বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম সফল এই অধিনায়ক নিজের যোগ্যতা ও প্রতিভার প্রমাণ রেখেই ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন। বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে তিনিই প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন।

২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩২১ বল খেলে ২২ চার ও ১টি ছয়ের সাহায্যে ২০০ রান করেছিলেন মুশফিকুর রহিম। পাকিস্তানের বিপক্ষে গত বছর খুলনা টেস্টে তামিমের ২০৬ রানের আগে এটাই ছিল টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর।  টেস্টের ইতিহাসে মুশফিক অষ্টম উইকেটরক্ষক হিসেবে এবং ৬ নম্বরে ব্যাট করতে নামা নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরিটি করার কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন।

২০০৬ সালে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে মুশফিক বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যুব দল কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত খেলার গৌরব অর্জন করেছিল। একই বছর জিম্বাবুয়ে সফরে মুশফিক আবার জাতীয় দলে সুযোগ পান। সে সফরে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মুশফিক তার প্রথম অর্ধশতকের দেখা পেয়েছিলেন। পরের বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ক্রিকেটের জন্য খালেদ মাসুদের স্থলাভিষিক্ত হন। এর পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক ম্যাচ খেলে যাচ্ছেন; দলকে উপহার দিচ্ছেন অসংখ্য সাফল্য।

মুশফিক ২০১০ সালের ২১ জানুয়ারি ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছিলেন। এখন পর্যন্ত ৪৯ টেস্টে ৩২.৫৮ গড়ে ২,৭৩৭ রান করেছেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে করা ওই ২০০ রান। ৩টি সেঞ্চরির পাশাপাশি মুশফিকের রয়েছে ১৫টি হাফসেঞ্চুরি। মুশফিক অস্ট্রেলিয়া ছাড়া টেস্ট খেলুড়ে সবগুলো দলের বিপক্ষেই টেস্ট খেলেছেন। ভারতের বিপক্ষেই তার সাফল্য বেশি। প্রতিবেশী দেশটির বিপক্ষে তার ব্যাটিং গড় ৬১.৬৬।

১৯৮৭ সালের ৯ মে বগুড়া শহরে জন্মগ্রহণ করেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তিনি দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। যদিও বর্তমানে কেবল টেস্ট দলের নেতৃত্বেই রয়েছেন তিনি।  মূলত ২০০৪ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (এইচপি) প্রোগ্রাম থেকে উঠে আসেন জাতীয় দলের এই তারকা ব্যাটসম্যান।  আর জাতীয় দলে তার অন্তর্ভুক্তির পর থেকেই মিডলঅর্ডার ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের জন্য অন্যতম নির্ভরতার নাম মুশফিকুর রহিম।  শুধু তাই নয়, খালেদ মাসুদ পাইলটের পর বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সফল উইকেটকিপার কাম ব্যাটসম্যানের আসনটি নিজ দখলে নিয়েছেন ‘রান মেশিন’ বলে খ্যাতি অর্জন করা মুশফিক।  মুশফিক এছাড়াও বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) ছাত্র ছিলেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মুশফিক ইতিহাস বিভাগে পড়াশোনা শেষ করেছেন।

মুশফিকের ৫০ টেস্ট :

প্রতিপক্ষ ম্যাচ ইনিংস মোট রান সর্বোচ্চ গড় সে/হা.সে
ইংল্যান্ড ১২ ৩৫৬ ৯৫ ২৯.৬৬ ০/২
ভারত ১৮৭ ১০১ ৪৬.৭৫ ১/০
নিউজিল্যান্ড ১১ ২৫৩ ৭৯ ২৩.০০ ০/২
পাকিস্তান ১৯০ ৫৩ ২৩.৭৫ ০/১
দ.আফ্রিকা ১০ ২৩৮ ৬৫ ২৩.৮০ ০/২
শ্রীলঙ্কা ১৬ ৫৮২ ২০০ ৪১.৫৭ ১/৩
ও.ইন্ডিজ ১৬ ৫৫৮ ১১৬ ৩৯.৮৫ ১/২
জিম্বাবুয়ে ১২ ৩৭৩ ৯৩ ৩৩.৯০ ০/৩
সর্বমোট ৪৯ ৯০ ২৭৭৩ ২০০ ৩২.৫৮ ৩/১৫

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বিশাল ১০ টি ছক্কা (ভিডিও)

জাহিদুল ইসলাম, বিডি টোয়েন্টিফোর টাইমস : ক্রিকেটকে বলা হয় রানের খেলা। আর সেই রানের সবচেয়ে …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *