ঢাকা : ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, সোমবার, ৬:৪০ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

তামিম–মুমিনুলের পর তাসের ঘর

তামিম ইকবাল হাসবেন, না কাঁদবেন! চেহারায় এই তৃপ্তির ঝলক, তো পরক্ষণেই বিষণ্নতার ছায়া। সংবাদ সম্মেলনের মঞ্চটা যেন সিটি করপোরেশনের দৃষ্টির আড়ালে চলে যাওয়া কোনো জীর্ণ ল্যাম্পপোস্ট। এই আলো জ্বলে তো এই নেভে। কখনো তামিম সেঞ্চুরির আলোয় আলোকিত, কখনো বা দলের ব্যাটিং-ব্যর্থতায় মলিন।

বাংলাদেশ দলের ইনিংসে অবশ্য আলো একবারই জ্বলেছিল। যখন ব্যাট করছিলেন তামিম আর মুমিনুল হক। এরপর সেটা এমনভাবেই নিভে গেল যে মনে হলো জাতীয় গ্রিডই বুঝি বিপর্যয়ে পড়ল! ১ উইকেটে ১৭১ রান থেকে কোনো দল ২২০ রানে অলআউট হয়ে গেলে আর কীই-বা বলার থাকে? ৪৯ রানে পড়েছে শেষ ৯ উইকেট, ৩০ রানে শেষ আটটি। সবকিছু চোখের সামনেই ঘটছিল। তবু বিশ্বাস হচ্ছিল না, এ রকম আসলেই হতে পারে। ব্যাটসম্যানদের ভুলে সম্ভাবনাময় একটি ইনিংসের অপমৃত্যু ৬৪তম ওভারেই।

৪২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ইংল্যান্ডের দিনটাও শেষ হয়েছে নড়বড়ে থেকে। সময়ের সঙ্গে উইকেটে বেশি টার্ন মিলছে। এক পেসারের বাংলাদেশ তাই নতুন বল তুলে দেয় দুই ‘হাসান’ মেহেদী ও সাকিবের হাতে। মুশফিকুর রহিমের পরিকল্পনা সফল করে দ্বিতীয় ওভারেই আঘাত আনেন বাঁহাতি স্পিনার সাকিব। ওপেনার বেন ডাকেট কট বিহাইন্ড। চট্টগ্রাম টেস্টের বিস্ময় মেহেদীর অফ স্পিনে এরপর ফিরে যান অ্যালিস্টার কুক আর গ্যারি ব্যালান্সও। স্কোরবোর্ডে ৩ উইকেটে ৫০ রান নিয়ে আজ শঙ্কিত পায়ে ব্যাট করতে নামবেন দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান জো রুট ও মঈন আলী। অবশ্য বৃষ্টির ঝাপটায় কাল দিনের ১১ ওভার ৩ বল আগে খেলা শেষ না হলে ইংল্যান্ডের জন্য আরও কঠিন হতে পারত আজকের দিনের শুরুটা।

টেস্ট ক্রিকেটে নিজের অষ্টম সেঞ্চুরি, দ্বিতীয় উইকেটে মুমিনুল হকের সঙ্গে ১৭০ রানের জুটি এবং শেষ বিকেলে ইংল্যান্ডের ওই কাঁপাকাঁপিই যা একটু হাসি ফুটিয়েছে তামিমের মুখে। নইলে দিন শেষের সংবাদ সম্মেলনে বারবারই এসেছে দলের ব্যাটিং-ব্যর্থতার প্রসঙ্গ। ১৩ উইকেট পড়ার মতো ব্যাটিং-বিরাগি দিনেও উজ্জ্বলতম ব্যতিক্রম তামিমের হাসি মিলিয়ে যাচ্ছিল সে কারণেই।

বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে পরিণত মনে হয় এখন এই তামিমকেই। উইকেটে কখনোই দ্বিধাগ্রস্ত নন। এই বাঁহাতি জানেন কী তাঁর পরিকল্পনা এবং কী তাঁকে করতে হবে। দিনের তৃতীয় ওভারে সঙ্গী ওপেনার ইমরুল কায়েসকে হারানোর পরও অবিচল তামিমের দেহভঙ্গি, সাবলীল ব্যাটের ভাষা। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে মুমিনুলকে সঙ্গী করে এমন আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলে গেলেন যে শুরুর ধাক্কার কথা কারও মনেই থাকল না। ১ উইকেটে ১ রান থেকে স্কোর ওই ১ উইকেটেই ১৭১!

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তামিমের ব্যাট সব সময় হেসেই কথা বলে। এ নিয়ে ষষ্ঠ টেস্ট খেলছেন, তাতেই তিনটি সেঞ্চুরি। কাল অবশ্য ৭২ রানের সময় আদিল রশিদের বলে জনি বেয়ারস্টোর হাত থেকে জীবন পেয়েছেন। এর আগে ব্যক্তিগত ৬৬ রানের সময় তিন বলের মধ্যে সামলেছেন দুটো ঝড়। বেন স্টোকসের ওই ওভারের প্রথম বলে আম্পায়ার ক্যাচ আউটের সিদ্ধান্ত দিলেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান। এক বল পর স্টোকসের বাউন্সার আঘাত করে পাঁজরের কাছাকাছি। হাঁটু গেড়ে ক্রিজে বসে পড়েছিলেন। আঘাতটা গুরুতর ছিল না বলেই মাঠ ছাড়তে পেরেছেন সেঞ্চুরি করে।

অন্য অনেকের আউটের মতো নিজের আউট নিয়েও হতাশা আছে তামিমের। মঈনের বলটা কী মনে করে ছেড়ে দিয়েছিলেন, নিজেও জানেন না। ১০৪ রান করে নিরীহ-দর্শন ওই বলেই এলবিডব্লু হয়ে ফিরেছেন। তবে আউট হওয়ার আগ পর্যন্ত ফর্মটা ভালোভাবেই বুঝিয়েছেন। টেস্টের মেজাজে খেলেও এক ডজন বাউন্ডারি। যার তিনটি আবার ক্রিস ওকসের এক ওভারে।

১৭১ রানে তামিমের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ইনিংস। তবে বাজে শট খেলে আউটের শুরুটা ইমরুলের হাত ধরে। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে ক্রিস ওকসকে কাট করতে গিয়ে ক্যাচ দেন পয়েন্টে। ব্যাখ্যা নেই বেন স্টোকসের বলে মাহমুদউল্লাহ ও সাব্বিরের আউটের এবং ওকসের বলে শুভাগত, সাকিবের ফিরে যাওয়ারও। মিরপুর টেস্টটাকে হঠাৎ করে হয়তো ওয়ানডেই ভাবতে শুরু করেছিলেন তাঁরা।

বাংলাদেশের ইনিংসে ধস নামে মূলত দ্বিতীয় সেশনে। ১ উইকেটে ১১৮ রান নিয়ে লাঞ্চ করতে যান দুই ব্যাটসম্যান।  কিন্তু লাঞ্চের পর থেকে চা-বিরতির আগ পর্যন্ত মাত্র ৮৭ রানে পড়ে ৫ উইকেট। চা-বিরতির পর আর ৭ ওভার ৫ বল খেলে গোটা ইনিংসই শেষ!

কৃতিত্বটা ইংল্যান্ড মঈন আলীকেই দেবে। শেষ ৯ উইকেটের পাঁচটিই নিয়েছেন এই অফ স্পিনার। তাতে ব্যাটসম্যানদের ভুলগুলোও হয়তো মিশে আছে। কিন্তু সেসব তো আর স্কোরকার্ডে লেখা থাকবে না। তবে মুশফিকের আউটটি ব্যতিক্রম। মঈনকে ফ্লিক করতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লেগে ক্যাচ উঠে যায় লেগ স্লিপে। অন্য অনেক সময়ই হয়তো সেটি ধরা যেত না। তবে কাল দ্বিতীয় চেষ্টায় বল তালুবন্দী করে ফেলেন অ্যালিস্টার কুক।

স্টোকসের বাউন্সারে তার আগেই একটু এলোমেলো হয়ে থাকবেন মুশফিক। হেলমেটের পেছন দিয়ে ঘাড়ে আঘাত করে বল। বেশ কিছুক্ষণ মাটিতে শুয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত উঠে দাঁড়ান বাংলাদেশ অধিনায়ক।

চট্টগ্রাম টেস্টে ভালো করতে না পারলেও কাল নিজেকে ফিরে পাচ্ছিলেন মুমিনুল। তামিমের সঙ্গে বড় জুটি গড়ায় তাঁর নির্ভার ব্যাটিংয়ের অবদান অনেক। কিন্তু ৬৬ রান করে এই বাঁহাতিও মঈনের শিকার। মঈনের আরেক শিকার মেহেদী হাসান। সুইপ শট খেলতে গিয়ে এলবিডব্লু। ইংল্যান্ডের আবেদনে আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা প্রথমে সাড়া না দিলেও রিভিউতে আবারও বদলে যায় তাঁর সিদ্ধান্ত। শেষ ব্যাটসম্যান কামরুল ইসলামকে ফিরিয়ে টেস্টে দ্বিতীয়বারের মতো পঞ্চম উইকেটের দেখা পান মঈন। প্রথমবার পেয়েছিলেন ভারতের বিপক্ষে, ২০১৪ সালের হোম সিরিজে।

মঈনের সাফল্যই এখন বাংলাদেশের প্রেরণা। আসলে প্রেরণা ধীরে ধীরে আরও স্পিনবান্ধব হয়ে ওঠা মিরপুরের উইকেট!

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

asia_cup1

পাকিস্তানকে হারিয়ে ভারতের মেয়েরাই চ্যাম্পিয়ন

ভারতের মেয়েরা দাবিটা তুলতেই পারেন। বলতে পারেন, আগামীবার থেকে এশিয়া কাপের নাম হবে তাদের নামে! …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *