Mountain View

আজ সর্বকালের সেরা ফুটবলার ম্যারাডোনার ৫৬ তম জন্মদিন

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ৩০, ২০১৬ at ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ

আজ ৩০ অক্টোবর  সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার দিয়াগো ম্যারাডোনার জন্মদিন।আজ তিনি ৫৫ বসন্ত পার করে এখন ৫৬ বসন্তে পা দিলেন।

১৯৬০ সালের এই দিনে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেসের অদূরে দারিদ্রপীড়িত এক পরিবারে জন্ম নেন ফুটবলের ঈশ্বর। ৬ ভাই-বোনের মধ্যে ম্যারাডোনা ছিলেন চতুর্থ।দারিদ্র তার অমিত প্রতিভাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি।diay

শৈশব থেকে ফুটবল পায়ে তার কারিকুরি দেখিয়ে মুগ্ধ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের।পেশাদার ফুটবলের মোহময় জগতে তার উত্থান ১৯৭৬ সালে। সেই থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত মাঠের ভেতর যেমন দেখিয়েছেন তার ফুটবল নৈপূণ্য, তেমনি মাঠের বাইরের নানা ঘটনায় ব্যক্তিগত জীবনকে করেছেন বর্ণিল।

তার ফুটবল প্রতিভা নিয়ে কারা সন্দেহ নেই। কিন্তু মানুষ ম্যারডোনার দিকে তাকালে তাকালে বিভ্রান্ত না হয়ে উপায় নেই। মাঠের ‘অফুটবলীয়’ কাণ্ডকারখানার জন্য তো বটেই, লাগামহীন জীবন-যাপনের জন্যও বরাবর সমালোচিত হয়েছেন তিনি।

ছোট বেলা থেকে ফুটবলের প্রতি ম্যারাডোনার তীব্র আকর্ষন। বাড়ির পেছনে চতুর্থ লীগের এক ফুটবল দলের স্টেডিয়ামে সারাদিন পড়ে থাকতেন। সন্ধ্যা হলে ছেলেরা যখন বাড়ি ফিরে যেত, ম্যারাডোনা তখনও মাঠে পড়ে থাকতেন। দুটি কাঠি দিয়ে গোলপোস্ট বানিয়ে অন্ধকারে কিকের পর কিক করে যেতেন। মাঝারি গঠনের এ মিড়ফিল্ডার দৈহিক চাপ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা রাখতেন। ছোট ছোট পাযে দ্রুত দৌড়াতে পারতেন। যতক্ষণ না দ্রুত শট নেওয়ার মত জায়গা খুঁজে পাচ্ছেন বা কোনো সতীর্থ আক্রমনাত্মক দৌড় শুরু করছেন, ততক্ষন তিনি বল পায়ে রাখতে পারতেন।
প্রতিভাবান এ খেলোয়াড় ‘আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সে’র নিয়মিত খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৭৬ সালের ২০ অক্টোবর অভিষেক হয়। এ ক্লাবের হয়ে ম্যারাডোনা ১৬৭ খেলায় ১১৫ টি গোল করেন। এর পরে তিনি বার্সেলোনার হয়ে খেলেন। কিন্তু নাপোলিতে যোগদানের পর থেকে ম্যারাডোনার ফুটবল শৈলী পূর্ণ বিকশিত হয়ে ওঠে। ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার প্রথম অভিষেক। কিন্তু এ বিশ্বকাপে তেমন কোনো নৈপুন্য দেখাতে পারেননি। তবে ১৯৮২ বিশ্বকাপের গ্লানি মুছতে আজেন্টিনা ম্যারাডোনার নেতৃত্বে বিশ্বকাপে আসেন ১৯৮৬ সালে।dia1
এবার খালি হাতে ফেরেননি, ফিরেছিলেন বিশ্বকাপ জয় করে। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ছিল ম্যারাডোনার পূর্ণ আধিপত্য। নিজে ৫টি গোল করে এবং ৫টি গোলে সহায়তা করে জিতেছিলেন গোল্ডেন বল। তাছাড়া এ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডর বিপক্ষে ‘হ্যান্ড অব গড’ যেমন ম্যারাডোনাকে বিতর্কিত করেছিল, তেমন ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ তাকে তুলে ধরেছিল অনন্য উচ্চতায়।
ম্যারাডোনার থলেতে রয়েছে অনেক অর্জন। তবে পেলে নাকি ম্যারাডোনা- কে সর্বকালের সেরা ফুটবলার, তা নির্ধারণ করার জন্য ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা ২০০০ সালে একটি ভোটের আয়োজন করেছিল। সেই ভোটে পেলেকে হারিয়ে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হয়েছিল ম্যারাডোনা। কিন্তু পরবর্তীতে ফুটবল বোদ্ধাদের অনুরোধে ফিফা ম্যারাডোনা ও পেলে দুজনকেই সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে ঘোষনা দেয়।

 

এ সম্পর্কিত আরও

আপনিও লিখুন .. ফিচার কিংবা মতামত বিভাগে লেখা পাঠান [email protected] এই ইমেইল ঠিকানায়
সারাদেশ বিভাগে সংবাদকর্মী নেয়া হচ্ছে। আজই যোগাযোগ করুন আমাদের অফিশিয়াল ফেসবুকের ইনবক্সে।