Mountain View

ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার স্ট্যাটাসে ৫ মন্দির ভাঙচুর, শতাধিক ঘরবাড়ি লুটপাট

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ৩০, ২০১৬ at ১০:১৭ অপরাহ্ণ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ধর্ম অবমাননা করে স্ট্যাটাস দেয়া নিয়ে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়া ওই যুবকের ফাঁসির দাবিতে স্থানীয়রা শনিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন। পরে স্থানীয়দের সঙ্গে বিক্ষোভে যোগ দেয় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত। এর পরই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। অন্তত পাঁচটি মন্দির ভাঙচুর, সংখ্যালঘু শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়িতে লুটপাট হয়েছে। এ কারণে রোববার এই এলাকায় এক প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও মোতায়েন করা হয়েছে র‍্যাব, পুলিশ ও এপিবিএন। আটক করা হয়েছে ছয় হামলাকারীকে। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
পুলিশ জানায়, শত শত লোক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নাসিরনগর সদরের দত্তবাড়ির মন্দির, নমঃশূদ্রপাড়া মন্দির, জগন্নাথ মন্দির, ঘোষপাড়া মন্দির, গৌরমন্দিরসহ পাঁচটি মন্দির গুঁড়িয়ে দেয়। তবে নাসিরনগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি আদেশ দেব জানান, ছোট-বড় মিলিয়ে ১৫টি মন্দির ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।
এ সময় হামলাকারীরা সংখ্যালঘু শতাধিক পরিবারের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। হামলায় বেশ কয়েকজন পূজারি আহত হন। তবে থানা পুলিশ এ সময় নির্বিকার ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রথমে এক প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। বিজিবি ১২-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল শাহ আলী জানান, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
নাসিরনগর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অঞ্জন দেব জানান, রোববার বিকেলের পর পরিস্থিতি দৃশ্যত শান্ত হলেও সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। খবর পেয়ে বিকেলে জেলা প্রশাসক রেজাওয়ানুর রহমান ও পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, একটি সুযোগসন্ধানী মহল সরকারকে বিব্রত করতে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি এ ঘটনার জন্য জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করে বলেন, এ ঘটনার নেপথ্যে যারা রয়েছে তাদের খুঁজে বের করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এরই মধ্যে ছয় হামলাকারীকে আটক করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রতিটি ভাঙচুরের ঘটনায় আলাদা আলাদা মামলার প্রস্তুতি চলছে।
জেলা প্রশাসক রেজাওয়ানুর রহমান বলেন, এলাকায় র‍্যাব, পুলিশ, এপিবিএন ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৬ জনকে ধরা হয়েছে। তদন্ত করে যারা দোষী হবেন তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে।
এদিকে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়া আটক রসরাজ দাসের ফাঁসির দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরেও বিক্ষোভ করেছে মাদরাসা শিক্ষার্থীরা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশও করে তারা।
নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের বাসিন্দা রসরাজ দাস নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ইসলাম ধর্মের অবমাননা করে স্ট্যাটাস দেয়া নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। তাদের অভিযোগ, ওই স্ট্যাটাসের মাধ্যমে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে পুলিশ স্ট্যাটাস দেয়া ওই ব্যক্তিকে আটক করে। পুলিশ তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View