ঢাকা : ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, বৃহস্পতিবার, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

মানসিক রুগী সাজলেও সাজা এড়াতে পারবেন না সুশান্ত পাল

 shushanto pal

জাহিদুল ইসলামজাহিদুল ইসলাম, বিডি টুয়েন্টিফোর টাইমস : আলোচিত কাস্টমস কর্মকর্তা সুশান্ত পালের বিরুদ্ধে এবার সেচ্ছায় মানসিক রুগী সাজার অভিযোগ উঠেছে। সম্ভাব্য ভয়াবহ পরিণতি আঁচ করতে পেরেই নাকি চমকপ্রদ লেকচারার থেকে স্বেচ্ছায় বনে গেছেন মানসিক রুগী! অভিযোগ উঠেছছে ৫৭ ধারায় মামলা হওয়ার পরথেকেই চাকরি বাঁচানোর জন্য নিজেকে মানসিক রুগী হিসেবে উপস্থাপন করে চলেছেন সুশান্ত পাল।

জাতীয় রাজস্ববোর্ড সে থেকে কিছুটা প্রভাবিত হয়ে তাকে অফিশিয়ালি মানসিক ‍রুগী হিসেবে চিহ্নিত করে ওএসডি করতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।  এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী তারেক মাহমুদ বলেন, ‘আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বিষয়টি যেহেতু আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে তাই আমরা আদালতের রায়ের অপেক্ষায় আছি। এর আগে সবাইকে বলতে চাই, ‘ যে লোকটা দুদিন আগেও সারাদেশে বিসিএস নামের আলাদীনের চেরাগ নিয়ে দারুন সব লেকচার দিয়ে মানুষকে বিমোহিত করতে পারেন আর যাই হউক কোন ভাবেই সে মানসিক রুগী হতে পারেন না। এটা কেবলই সাজা থেকে নিজেকে বাঁচানোর ব্যর্থ প্রয়াস।’

স্যার এএফ রহমান হলের আরেক কীর্তি শিক্ষার্থী,‘ মিসবাহ উদ্দিন সুমির বলেন,‘হাজারো তরুণ-তরুণীকে বোকা বানানোর পর সে এবার আদালতকেও বোকা বানাতে চাচ্ছে। বিষয়টা সত্যিই হাস্যকর। যতদূর জানি প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোন মানসিক বিকারগ্রস্থ ব্যক্তি কর্মরত থাকতে পারেন না। তাহলে তিনি কিভাবে কর্মরত অবস্থায় মানসিক রুগী হলেন। এসব করে সবাইকে ফাঁকি দেয়া গেলেও আদালতকে ফাঁকি দেয়া যায় না। এসব মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমুলক আচরণই বলে দিচ্ছ কতটা গভীর জলের মাছ এই সুশান্ত পাল। আমি তার দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি দাবি করছি। যেন ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে এমন কুরুচীপূর্ণ  মিথ্যা ও মনগড়া অপপ্রচার করতে না পারেন।’

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে হেয় প্রতিপন্ন করে অপপ্রচার চালানোর দায়ে কাস্টমস কর্মকর্তা সুশান্ত পালের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় অাইসিটি  আইনের আওতায় ৫৭ ধারায় একটি মামলা হয়েছে। যেখানে মামলায় বাদি হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি মুতাকাব্বির খাঁন প্রবাস।

ফেসবুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে অশোভন মন্তব্য ও কটূক্তি করার অভিযোগ ওঠার পর সরকারের একজন কাস্টমস কর্মকর্তাকে তাঁর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সুশান্ত পাল নামের ঐ কর্মকর্তাকে তাৎক্ষনিক ভাবে অবমুক্ত করা বা স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।

একই সাথে তাঁর মানসিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করারও আদেশ দেয়া হয়েছে বোর্ডের প্রজ্ঞাপনে। ঠিক কী কারণে মি. পালকে ওএসডি করা হয়েছে, সে সম্পর্কে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আদেশে কিছু বলা হয়নি। তবে এতে বলা হয়েছে যে ‘সুশাসন ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা কাঠামোর জিরো টলারেন্স নীতির’ আওতায় এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

তবে কাস্টমসের কর্মকর্তারা বলছেন, সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে ফেসবুকে অশোভন মন্তব্য করায় সহকারী কমিশনার অব কাস্টমস সুশান্ত পালকে এনবিআর ওএসডি করেছে।

তার ওএসডির সাথে মামলার কোন সম্পর্ক নেই বলেই মনে করছেন। কারণ এটা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিজস্ব এখতিয়ারে সুশান্ত পালের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেয়া হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো ৫৭ ধারায় করা সেই মামলা কি আছে সুশান্ত পালের ভাগ্যে? সে মামলার সর্বোচ্চ সাজা কিংবা সর্বনিম্ন সাজাই বা কি? বিডি টুয়েন্টিফোর টাইম ডট কম পাঠকদের জন্য সেসব বিষয়ই তুলে ধরছেন- জাহিদুল ইসলাম- চলুন দেখে নেই সেসব দিক ও সুশান্ত পালের সম্ভাব্য সাজা-

২০০৬ সালে জাতীয় সংসদ কর্তৃক প্রণীত এই আইনের ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে: ‘১. কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোন ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানি প্রদান করা হয় তাহা হইলে তাহার এই কার্য হইবে একটি অপরাধ।

কোন ব্যক্তি উপধারা (১)-এর অধীন অপরাধ করিলে তিনি অনধিক চৌদ্দ বৎসর এবং অন্যূন সাত বছর কারাদণ্ডে এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।’ আইনটি প্রণীত হয়েছিল ২০০৬ সালে। আইনটির ৫৪, ৫৬, ৫৭ এবং ৬১ ধারার অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল ১০ বছর কারাদণ্ড। তবে বর্তমান আওয়ামী লীগ আমলে প্রথমে ২০ আগস্ট ২০১৩ সালে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে ৫৪, ৫৬, ৫৭ ও ৬১ ধারার অপরাধে শাস্তিগুলো বাড়িয়ে সর্বাধিক ১৪ বছর ও অন্যূন ৭ বছর করা হয়। তৎপরবর্তী সময়ে ৯ অক্টোবর ২০১৩-তে সংশোধনী আইন পাস করে অধ্যাদেশের বর্ধিত সাজা আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

যে কারণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি চাকরিচ্যুত হতে পারেন : আদালত কোনো সরকারি চাকরিজীবীকে শাস্তি দিলেই তিনি চাকরিচ্যুত হবেন না। এ ছাড়া কোনো আদালত যে পরিমাণ অর্থদণ্ডই প্রদান করুন না কেন,  চাকরিচ্যুতি অথবা চাকরিতে বহাল রাখার বিষয়টি রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। এসব বিধান যুক্ত করেই ‘সরকারি চাকরিজীবী আইন-২০১৫’ এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

চাকরিচ্যুতির জন্য এক বছরের অধিক মেয়াদে কারাদণ্ড অথবা দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলনজনিত দণ্ডের শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে আইনের খসড়ায়। গত ১৩ জুলাই মন্ত্রিসভা এ আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন করেছে।

নতুন এই আইন কার্যকর হলে সরকারি চাকরিজীবীদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা হলেই পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করতে পারবে না। আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের আগে ফৌজদারি মামলার আসামি কোনো সরকারি চাকরিজীবীকে গ্রেপ্তার করতে হলে সরকারের অনুমতি নিতে হবে।

মামলার বিবরণীতে বাংলাদেশের ইতিহাস ও এতিহ্যের ধারক ও বাহক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে সুস্পষ্টভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও মানহানী এবং অপপ্রচারের কথা বলা হয়েছে। যার অর্থ হচ্ছে দোষী প্রমাণিত হলে মিস্টার পালকে কম করে হলেও ৭ বছর  কারাভোগ করতে হবে। বাংলাদেশের সিভিল সার্ভিস এর প্রচলিত  রীতি অনুযায়ী কোন সরকারি চাকরিজীবী যদি ১ বছরের কারাদন্ডভোগ করেন তাহলেই তিনি চাকরিচ্যুত হবেন।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

ফাইনাল না খেলতে পারলেও দল নিয়ে গর্বিত মাহমুদউল্লাহ

লিগ পর্বে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় অবস্থানে থেকেও বিপিএলের ফাইনালে ‍উঠা হলো না খুলনা টাইটানসের।প্রথম কোয়ালিফায়ার …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *