Mountain View

জাল-সনদপত্র দিয়ে প্রধান শিক্ষকের পদে ২৪ বছর ধরে শিক্ষকতার অভিযোগ

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ১, ২০১৬ at ১০:২৬ অপরাহ্ণ

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাড়াইর হাজী চেরাগ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল হাশেম জাল-সনদপত্র দিয়ে প্রধান শিক্ষক পদে ২৪ বছর ধরে শিক্ষকতা করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে ওই শিক্ষকের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ইস্যুকৃত বিএসএস পরীক্ষার সাময়িক সনদপত্রটি তদন্ত করলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ সনদটি জাল বলে প্রমাণিত করে।
জানা গেছে, কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের চেরাগ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে স্থানীয় মো. আবুল হাশেম ১৯৯২ সনে যোগদান করেন। পরে তিনি ২০১০ সালের প্রথম দিকে প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন। তখন স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠে আবুল হাশেম বিএ পাশ ভুয়া সনদপত্র দিয়ে প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন। অভিযোগ উঠলে প্রধান শিক্ষক আবুল হাশেম স্থানীয়দেরকে জানায়, তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিএসএস পরীক্ষায় পাশ করেছেন এবং যার সাময়িক সনদপত্র দিয়ে চাকরিতে যোগদান করেন।
এ অভিযোগ পেয়ে, শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. হেমায়েত উদ্দিন ১ আগস্ট ২০১৫ কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার বাড়াইর হাজী চেরাগ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা করেন। পরিদর্শনে প্রধান শিক্ষক মো. আবুল হাশেমের ইনডেক্স নং ২৬২১৬৬-এর বিএপাশ সাময়িক সনদটির অভিযোগের বিষয়ে যাচাই করার জন্য ২০১৫ সালের ২৯ নভেম্বর প্রেরণ করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। যা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন হতে ১৯৯৪ সালের অক্টোবর মাসে ইস্যুকৃত।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক যাচাই-বাছাই করে ওই তদন্ত কমিটিকে জানিয়ে দেয় সনদপত্রটি জাল। যার কোন অস্তিত্ব চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। অপর দিকে ওই তদন্তকারী পরিদর্শনের টিমটি প্রধান শিক্ষক মো. আবুল হাশেম বিএ পাশের সনদটি ভুয়া হওয়ায় এমপিও ভুক্তির তারিখ ১৯৯৪ সালের ১ জুলাই হতে তার বেতন বাবদ উত্তোলনকৃত সরকারি টাকা ১৯ লাখ ১২ হাজার ৮শ ২৪ টাকা ৮৭ পয়সা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।
এ ব্যাপারে, প্রধান শিক্ষক আবুল হাশেমের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার সনদপত্রটি সঠিক না জাল জানতে চাইলে তিনি প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান, এবং এ ধরনের কোন চিঠি স্কুল কর্তৃপক্ষ বা পরিচালনা কমিটির লোকজন ও তিনি পাননি বলে জানান। তিনি আরো বলেন, এ বিষয়ে লেখালেখির প্রয়োজন নেই আমি আপনার সঙ্গে দেখা করব।
এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মুহাম্মদ শহীদুল করিম বলেন, শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিদর্শকগণ পরিদর্শন করে এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তল্লাশি চালিয়ে প্রধান শিক্ষকের বিএ পাশের সাময়িক সনদপত্রটি ভুয়া বা জাল প্রমাণ পেয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে যে ধরনের নির্দেশ দেবেন আমরা সে অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেব।

এ সম্পর্কিত আরও