Mountain View

বিসিএসে ফলাফল পদ্ধতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ১, ২০১৬ at ৮:৩৭ অপরাহ্ণ

bcs

স্টাফ রিপোর্টার, বিডি টুয়ন্টিফোর টাইমস : বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন পিএসসির ফলাফল প্রকাশের যে নীতি অনুসরণ করে আসছে সেটার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ৩৭ তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নেয়া চাকুরিপ্রার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ঘুরে বিশেষ প্রতিবেদনে সেসব দিক তুলে ধরছেন বিডি টুয়েন্টিফোর টাইমস ডট কমের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট।

বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা থেকে ভাইভা পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রেই এক অজানা কারণে কঠোর গোপনীয়তার নীতি অনুসরণ করে থাকে পিএসসি। ১০ বছর আগে সেটা অনেকটা স্বাভাবিক হলেও তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে এটা খুবই লজ্জাজনক ও বিব্রতকর হিসেবে দেখছেন চাকুররিপ্রার্থীরা।

মাকসুদুল আলম নামের একজন চাকরিপ্রার্থী বলেন, ‘ দেশে নাকি একসেস টু ইনফরমেশন আইন আছে! যদি সেটা থেকেই থাকে তাহলে পিএসসির এই ফলাফল পদ্ধতি অবশ্যই অবৈধ হতে হবে। পরীক্ষা দিলাম অথচ জানলামই না কত নাম্বার পেলাম। অনেককেই দেখা গেছে কম নাম্বার পেয়েও প্রিলিমিনিরীতে পার পেয়ে যায়। অনেকেই এক্ষেত্রে কোটা বিশেষ অবদানের কথা উল্লেখ করেন।

আবু সুলায়মান নামের আরেক চাকরিপ্রার্থীর অভিযোগ,‘ যেখানেই কোন কিছু লুকানোর চেষ্টা থাকে সেখানেই দূর্ণীতি থাকে। আমরা প্রিলিমিনারি পরীকক্ষায় নম্বর দেখতে চাই। আমরা রাষ্ট্রের কাছে স্বচ্ছতা দাবি করছি।

খাইরুল ইসলাম নামের আরেক চাকরিপ্রার্থী বলেন, ‘ এই দেশে আন্দোলন ও রিট ছাড়া কোন দাবী দাওয়া আদায় হয়নি। এটা যেহেতে রাষ্ট্রের ভবিষ্যত আমলাদের বাছাইয়ের মাধ্যম তাই আমি শতভাগ স্বচ্ছতা দাবী করছি। কে কত নম্বর পেয়েছি এটা জানার অধিকার সবার। পিএসসি যদি সেটা না করে তাহলে আমরা সেটা করাতে বাধ্য করব। দরকার হলে লাখো চাকরিপ্রার্থীদের নিয়ে এই জায়গাটিতে স্বচ্ছতা আনতে বাধ্য করব। দরকার হলে হােইকোর্টে রিট করব।’

 ধরে সেই মান্ধাতার আমলের ফলাফল প্রকাশের পদ্ধতি অবলম্বন করে আসার ধারাবাহিকতায় আরও একবার সেভাবেই ৩৭ তম বিসিএস প্রিলিমিনারী পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে।  কিন্তু ডিজিটাল যুগে এসে কেন সেই মান্ধাতার আমলের মত ফলাফল প্রকাশ। কার স্থার্থে রাষ্ট্রের সামর্থ্য থাকা সত্বেও কেন এত গোপনীয়তা? এমন প্রশ্নই সবার মুখে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে দেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলো যেখানে ২/৩ দিনের মধ্যে রেজাল্ট প্রকাশ করে । সেই সাথে পরীক্ষার্থীরা কে কেন বিষয়ে কত মার্কস পেল সেটাও জানতে পারে। সম্মিলিত মেধাতালিকাও প্রকাশ থাকে সেখানে। যার সবকিছুই জানতে পারেন পরীক্ষার্থীরা। কিন্তু বিসিএস পরীক্ষার বেলায় কিসের যেন এক অদৃশ্য গোপনীয়তা ভর করে আছে পিএসসিতে। যেটা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে যার কোন পরিবর্তন নেই। অথচ পিএসসি চাইলেই পারে উত্তীর্ন সবার প্রাপ্ত নম্বর সহ ফলাফল প্রকাশ করতে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের কৃতী শিক্ষার্থী আবু হুজাইফা জাকারিয়া বলেন,‘ যারা বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেন সবাই মেধাবী। এদের অনেক হয়থ প্রিলিতে ভালো করতে পারেন আবার অনেকে রিটেনেও ভালো করতে পারেন। কিন্তু ফলাফল নিয়ে পিএসসির এই গোপনীয়তা কিসের উদ্দেশ্যে? আমরা যদি পরীক্ষা দিয়ে নাই দেখতে পারলাম কে কত পেয়েছি তাহলে তো এখানে স্বচ্ছতার প্রশ্ন থেকেই যায়। আমরা প্রিলিমিনারিতেই প্রাপ্ত নম্বর দেখতে চাই।’

বিষয়টি নিয়ে এত দিন তেমন আলোচনা-সমালোচনা না হলেও ৩৭ তম প্রিলিমিনারিতে মাত্র ৮ হাজার ৫০০ জনের মতকে লিখিত পরীক্ষার জন্য বিবেচিত করায় অনেকের মধ্যেই দেখা গেছে তীব্র ক্ষোভ আর নিন্দা। সবার দাবি একটাই প্রিলি থেকে রিটেন সব জায়গাতেই নম্বর প্রকাশ করা হউক। অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন অাইনের আওতায় এটা জানার আধিকার আমাদের আছে।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View