মেহেদী হাসান মিরাজ ভারতের অনেক বড় উপকার করে দিলেন

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ১, ২০১৬ at ৬:৫০ অপরাহ্ণ

mehedi-miraj

‘মেহেদি হাসান মিরাজ ডাজ ইন্ডিয়া আ বিগ ফেবার বিফোর ইংল্যান্ড সিরিজ’। ভারতের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের অনলাইন সংস্করণের শিরোনামেই অকপট স্বীকারোক্তি। মিরাজ বড় উপকার করে দিলেন ভারতের।

এবার মিরাজের দেওয়া সূত্র মেনেই তো ইংলিশদের ভোগাবে ভারত! প্রায় অভিন্ন শিরোনাম তারা দিয়েছে তাদের ছাপা সংস্করণের বিশাল সংবাদে।

৩২ বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ টেস্টের সিরিজ খেলতে যাচ্ছে ভারত। নিজেদের মাঠে তাদের সূত্র জানাই। স্পিনের ঘূর্ণিতে প্রতিপক্ষের মাথা ঘুরিয়ে দাও। এ সূত্র দিয়ে আর রবিচন্দ্রন অশ্বিনের আঙুলের জাদুতেই তো একের পর এক সাফল্য কুড়িয়ে নিচ্ছে তারা। রেসিপি তো পুরোনোই। তাহলে মিরাজ কীভাবে ভারতের উপকার করলেন?

ভারতের ভিডিও অ্যানালিস্টদের এখন পুরোনো ভিডিও ঘাঁটার কোনো প্রয়োজন নেই। মিরাজের বোলিং দেখলেই চলবে। তাহলেই তাঁরা বুঝে যাবেন, কার বিপক্ষে বল ফেলতে হবে কোথায়, কেমন হবে সেই বল। নিজের অভিষেক সিরিজে ১৯ উইকেট নিয়ে যেভাবে অ্যালিস্টার কুকের মতো স্পিনের বিপক্ষে অনায়াস ব্যাটসম্যানকেও ভুগিয়েছেন, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস লিখেছে, “সফরকারী অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুককে হয়তো নাম মনে করতে বারবার কষ্ট করতে হচ্ছিল, মিরাজকে উল্লেখ করছিলেন ‘ওদের ওই বোলারটা’, কিন্তু এই ঘূর্ণিচক্করে পড়ার দুঃসহ স্মৃতি দ্রুত ভুলে যাওয়ার কোনো সুযোগ কুকের নেই।”

মিরাজের যে আদতে পুরোদস্তুর স্পিনার নন, সেটি উল্লেখ করেছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। তিনি আগে ব্যাটসম্যান, তারপর বোলার। কিন্তু তার পরও কী দুর্দান্ত বোলিং! প্রশংসা করে পত্রিকাটি মিরাজের সাফল্যের ব্যাখ্যাও দিয়েছে, ‘মিরাজের প্রধান অস্ত্র ছিল বিরামহীনভাবে নিখুঁত বোলিং করে যাওয়া। তাঁর বোলিংয়ে খুব বেশি বৈচিত্র্য হয়তো নেই, ওর হয়তো আর্ম বলের মতো অস্ত্র নেই, কিন্তু এ ধরনের উইকেটে যেখানে প্রতিপক্ষ আত্মবিশ্বাসই হারিয়ে ফেলে উইকেটের ঘূর্ণি দেখেই, সেখানে নিখুঁত বোলিং করে যাওয়াটাই যথেষ্ট।’

কদিন পর যে সিরিজটা শুরু হচ্ছে, ভারতীয় স্পিনারদের কাছে এটাই যেন মিরাজের শিক্ষা। পত্রিকাটি তা-ই লিখেছে, মিরাজের এই সাফল্যে সবচেয়ে খুশি হওয়ার কথা ভারতের স্পিনারদের, ‘ওর মতো আনকোরা স্পিনার যদি এভাবে এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিতে পারে, তাহলে এখনকার বিশ্বের সেরা স্পিনার অশ্বিন কিংবা রবীন্দ্র জাদেজাদের কী করার আছে, সে তো সহজেই অনুমেয়।’

শুধু মিরাজের প্রশংসাই করেনি, পত্রিকাটি এই ১৯ বছর বয়সীকে দিয়েছে একটি বার্তাও। এখন নিশ্চয়ই ঘোরের মধ্যে কাটছে তাঁর সময়। কিন্তু মিরাজ দুই মাস সময় পাবেন সবকিছু নতুন করে ভাবার। সামনে বাংলাদেশ দল যাবে নিউজিল্যান্ডে। প্রতিকূল উইকেট, তাঁকে নিয়ে প্রতিপক্ষ দলগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ, দুর্বলতা-শক্তি আবিষ্কার করে ফেলা। সেটিও জয় করাই তো এখন মিরাজের আসল চ্যালেঞ্জ।

এ সম্পর্কিত আরও