যমুনা সার কারখানায় অডিট নিষ্পত্তির নামে অর্ধকোটি টাকা চাঁদাবাজি

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ১, ২০১৬ at ১:৫১ অপরাহ্ণ

received_1793553480917677

জাহিদ হাসান, জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে অবস্থিত বৃহৎ ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানার (জেএফসিল) অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির নামে শ্রমিক-কর্মচারীদের কাছ থেকে অর্ধকোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠেছে। কারখানার সিবিএ নেতারা প্রতি সেকশনে নির্ধারিত প্রতিনিধির মাধ্যমে সাত শতাধিক শ্রমিকের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে যোগসাজশে আত্মসাতের পায়তারা করছেন বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, যমুনা সার কারখানার বিভিন্ন সেকশনে প্রতি বছর উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ অডিট তদন্তে আসে। অডিটে কয়েক বছরে বিভিন্ন সেকশনে নানা আপত্তি ধরা পড়ে। কারখানা কর্তৃপক্ষ অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিলে সিবিএ নেতাদের বানিজ্য শুরু হয়। অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজের কথা বলে কারখানার সাত শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রতিজনের কাছে চার হাজার টাকা চাঁদা ধার্য্য করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্রমিক-কর্মচারীরা জানান, সিবিএ সভাপতি রবিউল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক শাহজাহান আলী, সহ-সভাপতি মোসলেম উদ্দিন ও প্রচার সম্পাদক আব্দুল কাদেরের নেতৃত্বে কারখানার প্রতিটি সেকশনে একজন করে প্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট শ্রমিক-কর্মচারীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছেন। গত সপ্তাহ থেকে শুরু করে চলতি সপ্তাহের প্রথম দিকে চাঁদা উত্তোলন শেষ হয়। সিবিএ নেতারা অর্ধকোটি টাকা চাঁদাবাজি করে যোগসাজশে আত্মসাত করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে চাঁদার হাত থেকে কোন কোন অফিসার, সাবেক সিবিএ বা শ্রমিক লীগ নেতাকর্মী, সদ্য যোগদানকৃত বা অসুস্থ্য কেউও রক্ষা পায়নি। প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি চললেও নির্যাতন, বদলি ও চাকরি হারানোর ভয়ে সাংবাদিকদের সাথে কেউ কথা বলতে চাননি। তবে এ নিয়ে নীরব ক্ষোভে ফুসে ওঠছে স্থানীয় শ্রমিক-কর্মচারীরা।
এ ব্যাপারে সিবিএ সভাপতি রবিউল ইসলামের বক্তব্য জানতে মোবাইলে চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। অভিযোগ অস্বীকার করে সাধারন সম্পাদক শাহজাহান জানান, ‘অডিট নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে, তবে কারো কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়নি।’ কারখানার এমডি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির নামে কেউ চাঁদাবাজি করেছে কী-না তা জানা নেই। কেউ সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দিলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া।’

এ সম্পর্কিত আরও