Mountain View

বিসিএস প্রিলির মার্কস কেন জানা যাবে না সোচ্চার হচ্ছেন চাকরিপ্রার্থীরা

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ২, ২০১৬ at ৩:০৪ অপরাহ্ণ

bpsc-rules

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বিডি টুয়েন্টিফোর টাইমস : বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন বিপিএসসির সেকেলে ফলাফল পদ্ধতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন লাখো চাকরিপ্রার্থী। গেল ১ নভেম্বর ৩৭ তম বিসিএস  প্রিলিমিনারি পরিক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে পিএসসি। সেখানে ধারনাতীত কম সংখ্যা প্রার্থীকে টিকানোর পর থেকেই সমালোচনার ঝর উঠে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইডেন কলেজ ও ঢাকা কলেজ ঘুরে সেসকল চাকরিপ্রার্থীদের কথা জানাচ্ছেন বিডি টুয়েন্টিফোর টাইমসের স্টার করেসপন্ডেন্ট জাহিদুল ইসলাম-

সাদিকুর রহমান নামের একজন চাকরিপ্রার্থী বলেন‘ ৩৪ তম বিসিএসে পিএসসি গোপনে প্রিলিতেই কোটা অ্যাপলাই করে। এ নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ দেথা দিয়েছিলো। এবারও যে প্রিলিতে কোটা অ্যাপলাই হয় নাই তার গ্যারান্টি কে দিবে? আমরা আরও স্বচ্ছতা দাবি করছি। এটা বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন। অার আমরা বাংলাদেশেরই নাগরিক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু হুজাইফা জাকারিয়া বলেন, ‘ আমি এই ফল কোন ভাবেই  মানতে  পারছি না। পিএসসি কিভাবে মাত্র ৮ হাজারজনকে বাছাই করল? এই অাট হাজারই কি বাকিদের চেয়ে যোগ্য? প্রার্থীদের যোগ্যতাম মাপার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হচ্ছে লিখিত পরীক্ষা। সেখানে বেশি করে প্রার্থীতে সুযোগ না দিলে প্রকৃত মেধাবীকে নিয়োগ দেয়া সম্ভব হবে না। বিগত ২০ বছরের ফলাফল দেখুন । বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রিলিমিনারিতে ২০ হাজার সংখ্যক প্রার্থীকে টেকানো হয়েছে। ৮ হাজার কোন ভাবেই মানতে পারছি না। পিএসসির কি সময়ের অভাব নাকি অর্থ ও লোকবলের অভাব? প্রতি বছর ২০ কোটি টাকা নিচ্ছে প্রার্থীদের কাছ থেকেই এরপরও তো অর্থ সংকট হওয়ার কথা নয়। তবে কেন ১৫-২০ হাজার প্রার্থীর লিখিত পরীক্ষা নিতে অনীহা?

অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন অ্যাক্ট এর বরাত দিয়ে শামিম ওসমান নামের এক চাকরিপ্রার্থী বলেন, ‘তথ্য জানার অধিকার সবারই আছে। আজকাল ভোটও হয়ে থাকে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে। আর পিএসসি পরে আছে সেই অন্ধকার যুগে। কার স্বার্থে নম্বর গোপন করা হচ্ছে? প্রয়োজন হলে আমরা কোর্টে যাব। তবু জাতির ভবিষ্যত নিয়ে এরকম লুকুচুরি খেলতে দেয়া হবে না। অামরা সবাই জানার অধিকার রাখি কে কত নম্বর পেয়েছে। নাকি পিএসসি ভয় পাচ্ছে গোমর ফাঁস হয়ে যাবে বলে? আমরা আমাদের নৈতিক দাবী আদায়ে আরও বেশি প্রচার প্রচারণা চালাব। আমরা চাই বিসিএসে হউক একটি স্বচ্ছ বাছাই প্রকিয়া।

সোহেল আরমান নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ মন চাইল আর ৭ হাজার ৮ হাজার জনকে টিকিয়ে বাকিদের বাতিল মাল করে দিলাম এমনটা তে পারে না। আমি হলফ করে বলতে পারি বাদ পরাদের অনেকই আছেন যারা লিখিত ও ভাইভাতে অনেক ভালো ফল করতে পারত। তাদের ভবিষ্যত নিজের মনের চাওয়া ও দায়িত্বের বোঝা কমাতে ধ্বংস করে দেয়ার অধিকার পিএসসির নেই। আমরা চাই নিা কোন গোপন নীতিমালা। আগেই থেকেই নির্ধারণ করে দেয়া হউক পোস্টের অনুপাতে কতজনকে প্রিলিতে টিকানো হবে। কিংবা মার্কস নির্ধারন করে দিকে ১০০ তে পাশ মার্ক। তাহলে বিষয়টা ক্লিয়ার হয়ে যায়।’

আলাল হোসেন  আবির নামের আরেক চাকরি প্রার্থী বলেন,‘ আমাদের মাত্র ২ টি নৈতিক দাবি। প্রথম দাবি প্রিলি থেকে – রিটেন নাম্বার প্রকাশ করতে হবে। দ্বিতীয় দাবী পোস্ট অনুযায়ী একটা অনুপাত নির্ধারন করে দিতে হবে। সেটা হতে পারে প্রিলিতে ১:১০ রিটেনে ১:৫ । এমনটা হলে বিসিএস নিয়ে কারও কোন অভিযোগ থাকবে না। মন চাইল আর ঘ্যাচাং করে ১০ হাজার মেধাবীর ভবিষ্যতকে কেটে ফেলে দিলাম এটা হতে পারে না। কারও মনগড়া আর ইচ্ছায় আমাদের ভবিষ্যত নির্ধারিত হতে পারে না। আমরা চাই প্রার্থী বাছাইয়ে সুস্পষ্ট ও আগাম নীতিমালা।

এমনটা হলে সবার জন্যই কল্যানকর হবে। কারণ বেশিরভাগই কিন্তু ৬/৭ বার বিসিএস পরীক্ষায় অবতীর্ন হন। সেখানে কোন কোন বিষয়ে কত মার্কস পেলেন সেসব দেখতে পেলে নিজেকে যোগ্য করে তোলার সঠিক নির্দেশনা পাবেন প্রার্থীরা। অন্যদিকে দেশও পাবে সেরা আমলাদেরকে।

জাহিদ/বিডি টুয়েন্টিফোর টাইমস/ ২ নভেম্বর

 

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View