ঢাকা : ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, বৃহস্পতিবার, ১০:০৬ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

ঐতিহাসিক জয়ের পর বিশেষ সাক্ষাৎকারে যা বললেন সাকিব

14900456_1174747449265943_5346416317552444412_n

স্পোর্টস ডেস্ক: বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন, সবচেয়ে বড় ভরসার নামও সাকিব আল হাসান। তবে ক্রিকেটে একাই ম্যাচ জিতিয়ে দেওয়ার যে তত্ত্ব, তাতে ভিন্ন মত এই অলরাউন্ডারের। তারেক মাহমুদকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ দলের নতুন চেহারাটাই তুলে ধরেছেন তিনি

 

 ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডেতে ভালো করার আশা ছিল। কিন্তু ১৫ মাস পর টেস্ট খেলতে নেমে তাদের হারিয়ে দেবেন, এটা কি ছিল প্রত্যাশার সীমার মধ্যে?

 

সাকিব আল হাসান: সেভাবে আশা করিনি। এটা হবে-ওটা হবে, এটা চাই-ওটা চাই…আমি আগে থেকে অত বেশি চিন্তাও করি না। আমরা একটা পরিকল্পনা করেছিলাম, সেই পরিকল্পনায় অটল থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম; তারপর যেটা হওয়ার সেটা হবে…এ রকমই ছিল ব্যাপারটা। দুই টেস্টে একই পরিকল্পনা ছিল। চট্টগ্রামে সফল হতে পারিনি, ঢাকায় সফল হয়েছি। এটাই পার্থক্য।

 

 পরিকল্পনার বড় অংশ জুড়েই তো ছিল উইকেট। বাংলাদেশ দলের সাফল্যে সেটার অবদানই কি বেশি হয়ে গেল না?

 

সাকিব: সত্যি কথা বলতে গেলে সবচেয়ে বড় সাহায্যটা আমরা উইকেট থেকেই পেয়েছি। যদিও বোলাররা ভালো করে বল না করলে উইকেট পেত না, তবু সবচেয়ে বড় সাহায্যটা উইকেট থেকেই এসেছে। আমরা যখন দেখলাম উইকেটে টার্ন আছে, বোলারদের মধ্যে একটু হলেও আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। ফ্ল্যাট উইকেটে খেলা হলে তো মানসিকতাও ওই রকম থাকে… দূর, কখন উইকেট পড়বে! ব্যাটসম্যান কখন ভুল করবে! তবে বোলারদেরও কৃতিত্ব দিতে হবে, ভালো জায়গায় বল ফেলে উইকেটের সুবিধা কাজে লাগানোর জন্য। একইভাবে ব্যাটসম্যানদেরও কৃতিত্ব আছে।

 

 ইয়ান বোথাম তো এই সিরিজের উইকেট নিয়ে অনেক সমালোচনা করলেন। বাংলাদেশকে বিদেশের মাটিতে গিয়ে ভালো খেলার

চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন সাবেক এই ইংলিশ অলরাউন্ডার…

 

সাকিব: বিশ্ব ক্রিকেটেই খুব বেশি দেশ নেই, যারা দেশের বাইরে গিয়ে খুব বেশি ভালো করেছে। বিশেষ করে এখনকার ক্রিকেটে। এটা নিয়ে এত বেশি মাথা ঘামানোর কিছু আছে বলে মনে করি না। বোথামের মনে হয়েছে, তাই বোথাম বলেছেন।

 

 সিরিজের আগে কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে বলেছিলেন, টেস্ট জিতলে সেটা বাংলাদেশ দলের জন্য বোনাস হবে। বাংলাদেশের বোলারদের ইংল্যান্ডের ২০ উইকেট নেওয়ার সামর্থ্য নেই, যদিও সে অনুমান আপনারা ভুল প্রমাণ করেছেন। নাকি কোচের কথাই জেদ বাড়িয়ে দিয়েছিল বোলারদের?

 

সাকিব: আমি এই কথাকে কোনোভাবেই নিইনি। অন্য কে কীভাবে নিয়েছে জানি না। সত্যি বলতে কি, এটাকে আমার ভাবার মতো কোনো বিষয়ই মনে হয়নি। সে জন্য ওই কথা নিয়ে চিন্তাও করিনি।

 

 

 একসময় বলতে গেলে বাংলাদেশের জয়-পরাজয় আপনার ওপরই নির্ভর করত। বাংলাদেশ দল পরিণত হয়েছিল আপনার ‘ওয়ানম্যান শো’তে। কিন্তু গত এক বছরে মোস্তাফিজুর রহমান এবং এবার মেহেদী হাসান মিরাজকেও সে ভূমিকায় দেখা গেল…

 

সাকিব: দেখেন, দলে আমরা ১১ জন খেলি। জেতার জন্য সবার অবদানই দরকার আছে। কেউ রান করবে, কেউ উইকেট পাবে। দিনশেষে খেলাটা দলীয়। দল জিতলে সব ঠিক, দল না জিতলে কিছুই

 

 

না। যে যত কিছুই করুক আরেকজনের একটা রান, একটা রান চেক, একটা রান আউট বা একটা ক্যাচ না হলে কেউ কোনো দিন জিততে পারত না। এ নিয়ে অন্যরা যেভাবেই চিন্তা করুক না কেন, আমরা চিন্তা করি অন্যভাবে। খেলোয়াড়েরা জানে সবারই দলে একেকটা ভূমিকা আছে। সে তার ওই ভূমিকা অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করে। কেউ সফল হয়, কেউ হয় না। বাইরে থেকে একেকজন একেকভাবে মনে করতে পারে। কিন্তু দলের চিন্তা সে রকম নয়। এ জন্যই দেখবেন এখন আর কেউ খুব বেশি ভালো খেললেও খুব বেশি উৎফুল্ল হয় না, আবার কেউ খুব বেশি খারাপ করলেও বেশি ভেঙে পড়ে না। আমরা জানি, সবার সব দিন ভালো যাবে না। তবে যেদিন যার দিন আসবে, সে বড় কিছু করবে, বাকিরা নিজেদের মতো অবদান রেখে তাকে সাহায্য করবে।

 

 বাংলাদেশ দলে ম্যাচ উইনারের সংখ্যা বাড়ছে, এটাকে কীভাবে দেখেন?

 

সাকিব: একজন যে একাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিচ্ছে, সেটা আমি মনে করি না। আগেও বলেছি, ক্রিকেটে তিন-চারজনের অবদান ছাড়া কেউ কখনো ম্যাচ জেতে না। কেউ যতই ভালো খেলুক, এমন তো নয় যে সে একাই ১০ উইকেট নিয়ে নিচ্ছে বা একাই তিন শ রান করছে। একজন ৮৫ করে, একজন ১০ করে, আরেকজন ৪০ করে। যে ওই ১০ রান করেছে, সে তো অনেকটা সময় উইকেটে থেকে এই রানটা করেছে এবং তাঁর ওই অবদানও দলের জয়ের পেছনে কাজ করে। এই জিনিসগুলো হয়তো সবাই বুঝবে না। যারা খেলেছে, যাঁরা জানেন, তাঁরা বুঝবেন।

 

 এভাবে চিন্তা করলে তো দলের সবাই-ই পারফরমার…

 

সাকিব: আসলে ছোট ছোট অনেক অবদান থাকে দলে। একটু আগে যেটা বললাম, এক-দুইজন হয়তো অনেক ভালো করবে। কিন্তু আশপাশের ১৫ রান, ২০ রান, ১ উইকেট, একটা ভালো ক্যাচ ধরা—এগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এমনিতে হয়তো এসব কারও চোখে পড়ে না, তবে যারা খেলে, তারা এসব উপলব্ধি করতে পারে।

 

 ইংল্যান্ড সিরিজে মাঠে কিছু ঘটনা ঘটেছে, যেগুলো বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের নতুনভাবে চিনিয়েছে। উইকেট পাওয়ার পর আপনাদের উদ্যাপন বা এমনিতেও বিভিন্ন সময় খেলোয়াড়দের শরীরী ভাষায় তা প্রকাশ পাচ্ছে। মানসিকতা পরিবর্তনের এটাও কি একটা লক্ষণ?

 

সাকিব: এই মানসিকতা অনেক আগে থেকেই আসতে শুরু করেছে খেলোয়াড়দের মধ্যে। এটা তো আর এক-দুই দিনের ব্যাপার না। আমি চার-পাঁচ বছর ধরেই এটা দেখছি। তবে সবকিছু নির্ভর করে পরিস্থিতির ওপর। আপনি যখন বুঝবেন আপনার দল ভালো কিছু করতে পারে, তখন এই মানসিকতা আসে। কিন্তু যখন অনুভব করবেন যে আসলে কিছু করা সম্ভব নয়, তখন এই মানসিকতা কারও মধ্যে থাকে না।

 

 তাহলে এই জিনিসগুলোও খেলার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত? খেলে ভালো করার আত্মবিশ্বাস ভেতরে থাকলেই শরীরী ভাষায় এগুলো আসে?

 

সাকিব: হ্যাঁ, যখন আপনি ভালো পারফর্ম করতে থাকবেন, তখনই এসব কথা বলার বা কিছু করার সাহস আসবে। ভালো খেললেই এমন সাহস আসে। আপনি কখনো দেখবেন না একটা খেলোয়াড় শূন্য রান করে এগুলো করছে বা খারাপ বল করে এগুলো করছে। তখন আর ওই মানসিকতা কারও থাকে না।

 

 আপনার বিখ্যাত হয়ে যাওয়া ‘স্যালুট’টাও কি তাহলে সেভাবেই এসেছে?

 

সাকিব: (হাসি) কী জানি। বলতে পারব না।

 

 আপনার স্ত্রী কিন্তু ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, আপনি বাসায় তাঁকে এভাবেই ‘স্যালুট’ করেন…

 

সাকিব: তাহলে সেটাই। বউ যা বলবে তা-ই…(হাসি)।

 

 অধিনায়ক মুশফিক ম্যাচ শেষে ধারণা করে বলেছিলেন, হয়তো স্টোকসকে আউট করার নীরব উদ্যাপনই ছিল সেটা। আসলেই সে রকম কিছু?

 

সাকিব: তা-ও জানি না ভাই…আমি আসলে বলতে পারব না।

 

 সেদিন খেলা শেষে টুইটারে ইংল্যান্ডকেও স্যালুট করলেন বাংলাদেশে আসার জন্য। আর কোনো কারণ কী ছিল?

 

সাকিব: খেলা শেষে আগে বেন স্টোকস টুইট করে ভালো একটা সিরিজ উপহার দেওয়ার জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ দিয়েছিল। এরপর আমাকেও স্যালুট দিয়েছিল। বাংলাদেশের নিরাপত্তাব্যবস্থাকেও ‘স্যালুট’ করে সে ওই টুইটারে। সে জন্য আমিও টুইট করে ইংল্যান্ডকে স্যালুট করি।

 

 টেস্ট সিরিজে নিজের পারফরম্যান্সে কতটা সন্তুষ্ট?

 

সাকিব: ব্যাটিংয়ে ভালো রান করতে পারলে আরও বেশি খুশি হতাম। বোলিংয়ে যা করেছি ঠিক আছে।

 

 চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে যেভাবে আউট হলেন, ওটা নিয়ে কোনো আফসোস বা অনুশোচনা আছে?

 

সাকিব: আমি যদি এক শ করে আউট হই, তা-ও আমার মধ্যে অনুশোচনা আসবে, এটাই স্বাভাবিক।

 

 কিন্তু ওই সময় ওভাবে আউট হওয়াটা তো ভিন্ন ব্যাপার ছিল। আপনার ওপর অনেক দায়িত্ব ছিল। কী ভেবে ও রকমভাবে খেলতে গিয়েছিলেন?

 

সাকিব: এ রকম শট অনেক অনেকবার খেলেছি। এগুলো নিয়ে আসলে বেশি কিছু ভাবি না। ধরে নিতে পারেন এটা হঠাৎ করে ফেলা একটা ভুল।

 

 ইংল্যান্ড সিরিজটা অসাধারণ খেললেন দুই ওপেনার তামিম আর ইমরুল। সতীর্থ হিসেবে তাঁদের পারফরম্যান্সকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

 

সাকিব: আমাদের সাফল্যে তাদের অবদান অনেক বেশি। এই উইকেটেও যে রান করা সম্ভব, সেই বিশ্বাসটা আমাদের ওরা দুজনই দিয়েছে। ওপেনিং ব্যাটসম্যানরা দ্রুত আউট হয়ে গেলে পরের ব্যাটসম্যানদের জন্য আরও কষ্ট হতো রান করা। ওরা ড্রেসিংরুমে এই বিশ্বাসটা দিয়েছে যে রান করা সম্ভব। ওই রান নিয়ে জেতাও সম্ভব। কারণ বোলিং করা দল তখন মনে করে, উইকেটে এত কষ্ট করে রান করতে হচ্ছে, নিশ্চয়ই তাদেরও সমস্যা হবে। কারণ বোলারদের সাহায্যের কথা ভেবে উইকেটটা তৈরি করা হয়েছে।

 

 ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ড সফর। এত ভালো একটা সিরিজ শেষে সেখানে আপনাদের কী প্রমাণ করার আছে?

 

সাকিব: যেখানে আছি, সেখান থেকে আরেক ধাপ ওপরে যাওয়া—এটাই। এটা সবাই চায়। শুধু ক্রিকেট নয়, দুনিয়াতে যত খেলা আছে, সব খেলাতেই সবাই চায় প্রতিদিন উন্নতি করতে। আমাদের জন্যও বিষয়টা সে রকম।

 

 ওখানে তো কন্ডিশন ভিন্ন থাকবে। বিশেষ করে টেস্টে ধারাবাহিকতা ধরে রাখা কতটা সহজ হবে?

 

সাকিব: কঠিন হবে অবশ্যই। অপরিচিত যেকোনো কিছুই কঠিন। তারপরও আমরা ভালো একটা প্রস্তুতির সুযোগ পাব। প্রস্তুতি ভালো হলে আমার বিশ্বাস ভালো কিছু করতে পারব। গত বছর অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের বিশ্বকাপে আমরা ভালো খেলেছি। ওখানে ভালো একটা স্মৃতি আছে।-প্রথম আলো

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

নেইমারের কাছে নিজের যায়গা হারালেন রোনালদো

  ২০১৬ ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে ফেভারিট তকমা পেলেও বিশ্বের সবচেয়ে দামি একাদশে জায়গা পাননি …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *