Mountain View

ছবিতে দেখুন কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরের সব কিছু

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ৩, ২০১৬ at ১০:৫৭ অপরাহ্ণ

dhaka-kendrio-karaf

১০০ টাকার বিনিময়ে আপনিও ঘুরে দেখতে আসতে পারেন দুইশ বছরের পুরনো কারাগারটিতে।মোঃ রাজিব রজ্জব,বিডি টুয়েন্টিফোর টাইমসের রিপোর্টার আজ আপানদের সামনে নিয়ে এসেছে এর ভেতরের অনেক ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকা এই কারাগারের যে কক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোথায় ছিলেন, তার ব্যবহৃত থালা, বিছানা, চেয়ার ,এছাড়া জাতীয় চার নেতার জাদুঘর।সেই সাথে ফাঁসির মঞ্চ।কোথায় বানানো হত খাবার।দেখতে পারবেন বন্দীশালা।তাহলে জানা যাক কারাগার সম্পর্কে কিছু কথা সেই সাথে আজকের দিনের তোলা কিছু ছবিও।

ঢাকা শহরের প্রধান কারাগার এটি পুরনো ঢাকার চানখাঁরপুলে অবস্থিত। ঢাকা বিভাগের এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন আদালতে সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের এখানে দন্ডপ্রদানের জন্য আটক রাখা হয়। এছাড়াও ঢাকা শহরের বিভিন্ন থানার মামলায় বিচারাধীন লোকদিগকে, বিচারকালীন সময়ে আটক রাখার স্থান হচ্ছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার। বিচারাধীন আটক ব্যক্তিকে বলা হয় হাজতী। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর এই কারাগারে আটক জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়।

এটি দেশের প্রাচীনতম এবং সর্ববহৎ কারাগার । মুগল সুবাদার ইব্রাহিম খান ঢাকায় বর্তমান চকবাজারে একটি দুর্গ নির্মাণ করেন। পরবর্তী সময়ে দুর্গটি ঢাকার নায়েব নাজিমের আবাসস্থল ছিল।  ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আমলে ১৭৮৮ সালে দুর্গের অভ্যন্তরে একটি ক্রিমিনাল ওয়ার্ড নির্মাণ করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত দুর্গটিকে কারাগারে রূপান্তর করা হয়।1950

চিত্রঃ ১৯৫০ সালের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ছবি

আঠার শতকের শেষদিকে ঢাকা কারাগারে দশটি ওয়ার্ড ছিল এবং সে সময়ে গড়ে ৫০০ থেকে ৫৫০ জন বন্দি সেখানে অবস্থান করত। প্রথমদিকে একজন বন্দির খাদ্য সরবরাহ বাবদ দৈনিক বরাদ্দ ছিল দু’ পয়সা। ১৭৯০ সালে তা বাড়িয়ে এক আনা করা হয়।

পরবর্তী সময়ে কারাগারটির ব্যাপক সম্প্রসারণ করা হয়। এটিই বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার। বেঙ্গল জেল কোডে যে কয়টি কারাগারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার অন্যতম। প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে এবং বন্দি সংখ্যার আধিক্য বিবেচনায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ কারাগার।

hater

উপরের এই ছবিটা আপনি মূল গেইট দিয়ে ঢুকার পরেই হাতের বাম দিকে দেখতে পাবেন।সেখানে একটি চশমা এবং চুরুট।যা বঙ্গবন্ধুর চশমা এবং চুরুটকে বোঝানো হয়েছে।mosjid

আর একটু আগালেই দেখা যায় মসজিদ আকৃ্তি দিয়ে বানানো নিচে লেখা রয়েছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার।

এখন জানা যাক ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের আকার গঠনঃ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভূমির পরিমাণ ৩৬.৭৬ একর। এর মধ্যে পেরিমিটার ওয়ালের ভেতরে অর্থাৎ কারা অভ্যন্তরে জমির পরিমাণ ১৭.৫৫ একর, পেরিমিটার ওয়ালের বাইরে ১৯.২১ একর। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ওয়ার্ড ৪৮টি, সেল ভবন ১২ টি, সেলের কক্ষ ২৩৩ টি, রান্নাঘর ৫টি, ওয়ার্ক সেড ৬টি, মেরামত প্রশিক্ষণ শেড ৪টি, কারা বেকারি ১টি, ডে-কেয়ার সেন্টার ১টি ও মাল্টিপারপাস শেড আছে ১টি। তাছাড়া বন্দিদের সাক্ষাতের জন্য একটি দ্বিতল ভবন ও প্রধান ফটক সংলগ্ন অফিস ভবন রয়েছে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে একজন সিনিয়র জেল সুপার, একজন ডেপুটি জেল সুপার, একজন জেলার, আট জন ডেপুটি জেলার, তিন জন সহকারি সার্জন, দুজন ফার্মাসিস্ট, একজন উচ্চমান সহকারি, দশ জন কারা সহকারি, তিন জন জ্যেষ্ঠ প্রধান কারারক্ষী, ত্রিশ জন প্রধান কারারক্ষী, একজন মেট্রন, ৭০৩ জন কারারক্ষীসহ সর্বমোট ৭৮৩ জন কর্মকর্তাকর্মচারী কর্মরত আছেন।

amdani-sel

এটা আমদানী সেল  কারাগারে আসা নতুন বন্দীদের প্রথমে এই সেলে রাখা হতো।এরপর সেলের সামনে স্থাপিত কেইস টেবিলে নতুন আসামীর অপরাধের ধরন এবং সংক্ষিপ্ত বিবরণ লিপিবদ্ধ করে রাখা হত।এর পর তাকে হাজত খানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

কারাগারে আগত বন্দিরা মূলত হাজতি ও কয়েদি দুই ভাগে বিভক্ত। বন্দিদের ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে সিভিল বন্দি, বিচারাধীন বন্দি, মহিলা বন্দি, ২১ বছরের কম বয়স্ক পুরুষ বন্দি, বয়ঃসন্ধিতে উপনীত হয়নি এমন পুরুষ বন্দি এবং সাজাপ্রাপ্ত পুরুষ বন্দি হিসেবে ছয় ভাগে বিভক্ত করে কারাগারে আটক রাখা হয়। তবে বিভাজনকৃত কোন বন্দি কোন ওয়ার্ডে অবস্থান করবে তা কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করেন।

bondishala

এটাই বন্দীশালা নামে পরিচিত।এখানে এক সাথে অনেক আসামীকে রাখা হতো।

sakkhat-kar

চিত্রঃ সাক্ষাত কক্ষ ।এখানে আসামীর সাথে দেখা করার জন্য আসামীর আত্নীয়-স্বজন দেখা সাক্ষাত করত।sakkhat-kar2

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারটি মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ৮ জন পুরুষ, ডিটেনশন প্রাপ্ত ৫ জন পুরুষ, বিচারাধীন ৫৭৪ জন পুরুষ ও ৮০ জন মহিলা, ১৮৬৮ জন পুরুষ ও ৫৪ জন মহিলা সাজা প্রাপ্ত এবং ১০০ জন অন্যান্য পুরুষ শ্রেণির অর্থাৎ সর্বমোট ২৬৮২ জন বন্দি ধারণক্ষমতা সম্পন্ন একটি কারাগার। কিন্তু বর্তমানে এ কারাগারে প্রতিদিন গড়ে ধারণ ক্ষমতার প্রায় চার গুণ বন্দি আটক থাকে।1-no-ranna-ghor

চিত্রঃ ১নম্বর রান্না ঘর 

যেমন ছিল খাবারের ব্যবস্থাঃ বন্দিদের বিধি মোতাবেক সকালের নাস্তায় রুটি ও গুড়, দুপুর ও রাতে ভাত ও সবজি/মাছ/মাংস/ডাল দেয়া হয়। তবে সাধারণ শ্রেণির বন্দির চেয়ে ১ম ও ২য় শ্রেণির বন্দিরা অপেক্ষাকৃত ভাল খাবার পেয়ে থাকে। অসুস্থ ব্যক্তিদের রোগের প্রকৃতি অনুযায়ী খাদ্য সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে একজন কয়েদি প্রতিদিন আটা ১১৬.৬৪ গ্রাম, চাউল ২৯১.৬০ গ্রাম, মসুরের ডাল ১৪৫.৮০ গ্রাম, আখের গুড় ১৪.৫৮ গ্রাম, সবজি ২৯১.৬০ গ্রাম, লবণ (ডায়েট) ৩৫.৫২ গ্রাম (সাধারণ-২৯.১৬ গ্রাম), পিয়াজ (ডায়েট) ৫.১২ গ্রাম (সাধারণ ৪.১০ গ্রাম), মরিচ (ডায়েট) ২.২৭ গ্রাম (সাধারণ-১.৮২ গ্রাম), হলুদ (ডায়েট) ১.১৩ গ্রাম (সাধারণ-০.৯১ গ্রাম), ধনিয়া (ডায়েট) ০.০৫৬ গ্রাম (সাধারণ ০.০৪৫ গ্রাম), ভোজ্য তেল (ডায়েট) ২২.৭৭ গ্রাম (সাধারণ-১৮.২২ গ্রাম), মাছ (ডায়েট) ৭২.৯০ গ্রাম (সাধারণ খাসির মাংস) পেয়ে থাকে। হাজতি আসামীর ক্ষেত্রে অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য একই পরিমাণ নির্ধারিত থাকলেও তাদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন আটা ৮৭.৪৮ গ্রাম, চাউল ২৪৭.৮৬ গ্রাম ও খাসির মাংসের পরিবর্তে গরুর মাংস সরবরাহ করা হয়।

hdr

চিত্রঃ কারা বেকারি, এখানে রুটি বানানোর যন্ত্রপাতি রয়েছে।কয়েদীরা এখানে রুটি বানাতো।

প্রতি শুক্রবারে বন্দিদের কাপড়চোপড় পরিষ্কার করা ও আনুষঙ্গিক প্রয়োজন মিটানোর জন্য কয়েদিদের প্রত্যেককে ৩৪৯.৯২ গ্রাম জ্বালানি কাঠ, ১৪.৫৮ গ্রাম কাপড় কাচা সোডা, ১০.৯২ গ্রাম সরিষার তেল, ২৯.১৬ গ্রাম নারিকেল তেল (মহিলাদের জন্য), প্রতিমাসে ১টি সাবান (মহিলাদের জন্য) সরবরাহ করা হয়।khabar-ghor

এটাও আরো একটি রান্না ঘর।যা সবার দেখার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে

তাছাড়া হাজতিদের ক্ষেত্রে জ্বালানি কাঠ, মহিলাদের জন্য নারিকেল তেল ও সাবানের পরিমাণ কয়েদিদের অনুরূপ হলেও তাদের (হাজতিদের) কাপড় কাচা সোডা ১০.৯২ গ্রাম এবং সরিষার তেল ৩.৬৪ গ্রাম সরবরাহ করা হয়ে থাকে।kara-kantin

চিত্রঃকারা ক্যান্টিন

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিদের চিকিৎসার জন্য ডাক্তার, ফার্মাসিস্ট ও নার্স নিয়োজিত আছেন। কারা অভ্যন্তরে বন্দিদের চিকিৎসা ও ঔষধ সরবরাহ করা হয়। কারা অভ্যন্তরে ১টি হাসপাতাল আছে। বন্দিরা কর্তৃপক্ষের নিকট জমাকৃত ব্যক্তিগত অর্থের বিনিময়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থিত ক্যান্টিন হতে ফলমূল, টয়লেট্রিজ, শুকনা খাবার, চা, সিঙ্গারা, সামুচা, পুরি ইত্যাদি খরিদ করতে পারে।

vip-jail

চিত্রঃ এখানে ভিআইপি বন্দীরা বন্দী থাকত।

প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা কার্যক্রম  বন্দিদের পুনর্বাসন ও দক্ষ জনশক্তি হিসেবে সমাজে ফিরিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেষণা মূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু আছে। এ প্রশিক্ষণের আওতায় মহিলা বন্দিদের জন্য সূচিশৈলী, টেইলারিং, কাঁথা সেলাই, কাগজের প্যাকেট, বাজারের ব্যাগ, খাম তৈরি এবং পুরুষ বন্দিদের জন্য ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি মেরামত, কাগজের প্যাকেট তৈরি, ব্যানার-সাইনবোর্ড লিখন, মৎস্য চাষ ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্জিত লভ্যাংশ সংশ্লিষ্ট বন্দির ব্যক্তিগত নামে জমা থাকে এবং এ অর্থের মাধ্যমে বন্দিরা কারা অভ্যন্তরে ক্যান্টিন সুবিধার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য নিজ একাউন্টে অর্থ জমা রাখতে পারে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সকল বয়সী নিরক্ষর বন্দিদের অক্ষরজ্ঞান ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রদানের কার্যক্রম চালু আছে। একজন কারা শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে বন্দিদের অক্ষরজ্ঞান এবং কারা মসজিদের ইমামের মাধ্যমে বন্দিদের ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হয়।chiled-day-care

চিত্রঃ চাইল্ড ডে কেয়ার

ডে-কেয়ার সেন্টার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ৩০ জুন ২০০৪ সালে ডে-কেয়ার সেন্টারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কেন্দ্রটিতে আসন সংখ্যা ১০০। এখানে শিশুদের সুষম খাদ্য পরিবেশন করা হয়। এ বাবদ যাবতীয় খরচ কারাগারের বাজেট হতে নির্বাহ করা হয়। প্লে, নার্সারি ও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা শ্রেণিতে বিভক্ত করে শিশুদের ধর্মীয় ও প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হয়। এ কেন্দ্রটিতে শিশুদের খেলাধুলার জন্য ক্যারম, বল, লুডু, ব্যাডমিন্টন, দোলনা, পুতুল সহ বিভিন্ন প্রকার খেলনা সামগ্রী রয়েছে। তাছাড়া শিশুদের চিত্ত বিনোদনের জন্য রঙ্গিন  টেলিভিশন, ভিসিডি, কার্টুন, নাচ-গান, ছড়া বলা ও চিত্রাঙ্কনের ব্যবস্থা রয়েছে। একজন সমাজসেবা কর্মকর্তা ও একজন সহকারি সার্জন এখানে প্রেষণে নিয়োজিত রয়েছেন। তাছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দুজন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে দুজন শিক্ষক, কারা অধিদপ্তর থেকে চারজন মহিলা কারারক্ষী, পাঁচজন আয়া ও চারজন সুইপার ডে-কেয়ার সেন্টারে নিয়োজিত আছেন।

গ্রন্থাগার ব্যবস্থা  ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে একটি গ্রন্থাগার আছে। উক্ত গ্রন্থাগারে ধর্মীয়, সাহিত্যসহ বিভিন্ন ধরণের বই আছে। বন্দিগণ এ গ্রন্থাগার হতে বই নিয়ে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি সময় অতিবাহিত করতে পারে।bichar-boithok

এখানেই বিচার বৈঠক করা হয়।

দরবার পদ্ধতি  ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে  দরবার পদ্ধতি চালু আছে। দরবারের মাধ্যমে কারা প্রশাসনে সর্বস্তরের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়। এ কার্যক্রমের সময় কর্তৃপক্ষের নিকট কারাগারে চাকুরিরত কর্মকর্তাকর্মচারী নিজেদের সুবিধা-অসুবিধা বা অভাব-অভিযোগ তুলে ধরেন। কারা বিভাগের দুর্নীতি দমনেও দরবার পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কেন্দ্রীয় কারাগার হিসেবে সংশ্লিষ্ট ডিআইজি দরবার চলাকালে অভিযোগের শুনানী গ্রহণ করেন।

এখন দেখা যাক ফাঁসির মঞ্চঃ

fashir-moncho1

এটাই ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার রাস্তা।কিন্তু এখানে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে যার কারণে এর ভিতরে এবং ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার  সৌভাগ্য হয়নি।অনেক মানুষের দেখার মূল কেন্দ্র ছিল এটাই।সেখানে যেতে না পারায় অনেকে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।অনেকে ভেবেছিলেন দেখতে দেয়া হবে কিন্তু সেই ব্যবস্থা করা হয়নি,তাই নিরাশ হয়ে সবাইকে ফেরত যেতে হয়েছে।

fashir-moncho

চিত্রঃফাঁসির মঞ্চ

ফাঁসির মঞ্চ  মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামীদের দন্ড কার্যকর করার জন্য ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ১টি ফাঁসির মঞ্চ আছে। বিধি মোতাবেক একজন ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট, ডাক্তার, জেলসুপারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়ে থাকে।

 

hdr

এখানেই মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামীদের বন্দী করে রাখা হতো।

মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার দিন-ক্ষণ নির্ধারণের পর দন্ডকার্যকর করার পূর্বে ডাক্তার দ্বারা দন্ডিত ব্যাক্তির শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করা হয়। তারপর জল্লাদ তাকে ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যায়।

যাওয়া যাক জাতীয় চার নেতার জাদুঘরের সামনেঃ

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার ভয়াল কালরাতের পর ৩ নভেম্বর আরেকটি নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতাকে।

অবৈধভাবে ক্ষমতাদখলকারী প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাক এবং বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি ফারুক ও রশিদ সেই রাতে পুরো চক্রান্ত সম্পর্কেই জানতো। খুনি মোশতাকের নির্দেশেই ৩ নভেম্বর রাতে কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর  বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জমানকে রাষ্ট্রীয় শক্তির মদদ ও সমর্থনেই হত্যা করা হয়েছিল।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে থাকা শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের এমন পরিকল্পিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড সারা পৃথিবীতেই বিরল ঘটনা। জাতীয় এই চার নেতা ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও অনুসারী।

তারা স্বাধীনতার পর নতুন করে দেশ বিনির্মাণে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছর পর সেই স্বাধীন দেশের কারাগারেই বন্দি অবস্থায় হত্যার শিকার হতে হয়েছিল জাতীয় এই চার নেতাকে।

যা ঘটেছিল সেই রাতে: ভোর তখন প্রায় ৪টা। বাইরে খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর লোকজন ট্যাংক নিয়ে পুরো ঢাকায় মহড়া দিচ্ছে। ঐ সময় বঙ্গভবনে একটি ফোন বেজে উঠলো। ফোনটি ধরলেন বঙ্গবন্ধুর খুনি শাহরিয়ার রশিদ খান।

রশিদের ভাষায়-   টেলিফোনের অন্যপ্রান্ত থেকে এক ভারী কণ্ঠে বলছে, ‘আমি ডিআইজি প্রিজন কথা বলছি, মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আমি আলাপ করতে চাই।’

রশিদ খন্দকার মোশতাককে টেলিফোনটি দিলে, তিনি কিছুক্ষণ ধরে কেবল হ্যাঁ, হ্যাঁ করতে থাকনে। তার কথা পরিষ্কার বুঝা না গেলেও যেকোনো ব্যাপারেই হোক তিনি সম্মতি দিয়েছিলেন। ’

টেলিফোনে যখন আলাপ শেষ হলো তখন ঘৃণ্য পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য রিসালদার মুসলেহউদ্দিন তার দলবল নিয়ে কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশের অপেক্ষায়। কারাগারের প্রবেশ করা নিয়ে ডিআইজি প্রিজনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শেষে রাষ্ট্রপতির অনুমতি সাপেক্ষে কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করে। তখন ভোর সাড়ে ৪ টা।

তাজউদ্দিন আহমেদ এবং সৈয়দ নজরুল ইসলাম কারাগারের একটি সেলেই ছিলেন। মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামান ছিলেন পাশের সেলে। তাদেরকে একত্রিত করে তাজউদ্দিনের সেলে আনা হয়। একত্রিত অবস্থায় খুব কাছ স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের গুলিতে তাদেরকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

জাতীয় চার নেতাকে একত্রে গুলি করা হলে তিনজন সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তাজউদ্দিন আহমেদের পায়ে ও পেটে গুলি লাগার কারণে তিনি গুলির পরও অনেক সময় বেঁচে ছিলেন। রক্তক্ষরণের ফলে আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে পরে মারা যান।

পাশের সেলে কারাবন্দিরা জানিয়েছিল, গুলির পরও প্রায় ঘন্টাখানেক ধরে একজনের আর্তনাদ শুনেছিলেন তারা। আর  ‘পানি, পানি’ বলে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কাঁতরানোর মর্মভেদী শব্দ তাদের কানে আসছিলো।

কিন্তু বর্বর ঘাতক মুসলেউদ্দিন  গ্যাং চলে যাবার আগে সেলটিকে খুব শক্তভাবে তালাবদ্ধ করে রেখে যাওয়ায় মৃত্যুর আগে তাজউদ্দিন আহমেদের মুখে এক ফোঁটা পানিও কেউ তুলে দিতে পারেনি। ওই পিপাসা নিয়েই মৃত্যুর কোলে ঢলে পরেন তাজউদ্দিন আহমেদ।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালের ৯ মে বঙ্গবন্ধু ও চার নেতার স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন করেন।

4-neta-musium

চিত্রঃ জাতীয় চার নেতার স্মৃতি জাদুঘর

bulet

দেখা যাচ্ছে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করার সময় ঘাতকের বুলেটের চিহ্ন।

4-neta-musium1

চিত্রঃ জাতীয় চার নেতা

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতার কারা স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। জাতীয় চার নেতা  সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ,  ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মনসুর আলী ও  আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামারুজ্জামান ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের যে সেলে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হন, সে সেলে এ স্মৃতি জাদুঘর স্থাপন করা হয়।

বঙ্গবন্ধুর কারা স্মৃতি জাদুঘরঃ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দীর্ঘদিন কারাবন্দি ছিলেন। তাঁর স্মৃতি রক্ষার্থে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের দেওয়ানি সেলকে বঙ্গবন্ধু কারা স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়।bangdu-bandhu-jadugho1

চিত্রঃ বঙ্গবন্ধুর ব্যবহার্য জিনিসপত্র

সেলটির বাইরে পর্যাপ্ত জায়গা থাকলেও সেলের ভেতরে তেমন জায়গা নেই। জাদুঘরটিতে বঙ্গবন্ধুর ব্যবহার্য জিনিসপত্র সংরক্ষণ করা হয়েছে। এসব জিনিসের গায়ে লেবেল দিয়ে ব্যবহার করার সময় উল্লেখ রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর জেল জীবনের ইতিহাস জানতে এখানে গড়ে তোলা হয়েছে একটি গ্রন্থাগার।

bandhuসেলের সামনে খোলা জায়গাটিতে বসানো হয়েছে বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ মূর্তি। বঙ্গবন্ধু কারা স্মৃতি জাদুঘরে বঙ্গবন্ধুর ব্যবহার্য জিনিসপত্রের মধ্যে আছে নামাজের চৌকি, জায়নামাজ, অজু করার ঘটি, ময়না পাখির খাঁচা, বিছানাপত্র, খাবারের টিনের থালা, হাঁড়ি-পাতিল, কাপ-পিরিচ, পড়াশোনার ছোট্ট কাঠের টেবিল, কাঠের চেয়ার, কিছু পুরনো কাপড়চোপড় এবং চুলা। জাদুঘর প্রাঙ্গনে ৬টি স্তম্ভে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক উত্থাপিত ছয় দফাকে তুলে ধরা হয়েছে।kamini

চিত্রঃ এই সেই কামিনী গাছ যা বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে লাগানো

জাদুঘর প্রাঙ্গনে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে লাগানো একটি কামিনী ফুল গাছ ও একটি সফেদা গাছ। বঙ্গবন্ধুর স্নানাগার ও রান্নাঘরটিও সংরক্ষণ করে এ জাদুঘরের অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে।
bideshi-bondshishala1

এখানে বিদেশী বন্দীদের রাখা হত যা বিদেশী নদীর নামেই রাখা হয়েছে নীল নদ।

পুরনো ঢাকার ব্যস্ততা, ভিড়, কারাগারের নিরাপত্তা ও অধিক সংখ্যক বন্দির অবস্থান বিবেচনায় ইতোমধ্যে গাজীপুর জেলার কাশিমপুরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-১ ও পার্ট-২ তৈরি করা হয়েছে। কারাবিধি মতে একজন বন্দি ঘুমানোর জন্য ওয়ার্ডে ৩৬ বর্গফুট জায়গা পাবে। কিন্তু ২৬৮২ জন বন্দি ধারণক্ষমতা সম্পন্ন এ কারাগারে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দশ হাজার বন্দি আটক থাকায় তাদের দাঁড়িয়ে, বসে বা পালাক্রমে ঘুমিয়ে রাত কাটাতে হয়। kendrio

চিত্রঃ পুলিশের কড়া পাহারায় বন্দীদের নেয়া হয়েছে নতুন কারাগারে।

new-karagar

এবছরের গত ২৯ জুলাই নাজিমউদ্দিন সড়কে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সকল বন্দীদের এশিয়ার বৃহত্তম আধুনিক কারাগার কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর করা হয়েছে।তখন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ৬ হাজার ৪০০ বন্দী ছিলেন বলে জানা গেছে।

musume-poridhorshon

জাতীয় চার নেতার জাদুঘর দেখছে আগত দর্শনার্থীরা।

vip-jail1

দর্শনার্থীরা জেলের ভিতরে যেয়ে ছবি তুলে রাখছে।

thikana

২২৮ বছর পর ঠিকানা বদল তা টাঙ্গিয়ে রাখা হয়েছে জেলের ভিতরে।

4-netar-mito-deho-1

জাতীয় চার নেতার লাশ হস্তান্তর পূর্ব পর্যন্ত এখানেই রাখা হয়েছিল তাদের লাশ।

সবাইকে জানানো যাচ্ছে যে আপনিও ১০০ টাকার বিনিময়ে কারাগার দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে আগামী ২ থেকে ৫ নভেম্বর কারাগারটিতে ঢোকার সুযোগ পাবে জনসাধারণ।

অনেক ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকা এই কারাগারের যে কক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন, তার ব্যবহৃত থালা, বিছানা, চেয়ার দেখার সুযোগ ছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর আলোকচিত্র প্রদর্শনীও দেখানো হচ্ছে।

তাই পরিবার পরিজনকে নিয়ে দেখতে চলে যান ২২৮ বছরের পুরোনো কারাগারটি।সকাল নয়টা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত যে কেউ টিকিটের বিনিময়ে প্রবেশ করতে পারবেন। আর টিকিট থেকে পাওয়া টাকা দিয়ে কেনা হবে বাংলাদেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে থাকা ৩৫০ শিশুর জন্য খেলার সামগ্রী।

এ সম্পর্কিত আরও

Mountain View