ঢাকা : ২৩ মে, ২০১৭, মঙ্গলবার, ৭:২০ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

নানা আয়োজনে গরুর বিয়ে, মাতলেন গ্রামবাসী

20161103071132
এক্সক্লুসিভ ডেস্ক: পাত্র-পাত্রী তৈরি৷ নির্দিষ্ট সময়ে লোকাচার মেনেই হল বিয়ে৷ তবে মানুষের নয় গরুর৷ না, কোনও কুসংস্কার নয়, এই বিয়ের কারণ বহু বছর ধরে পালিত হয়ে আসা এক লোকউৎসব৷

‘বাঁদনা পরব’৷ তারই প্রাধান অঙ্গ ‘গরুর বিয়ে’৷ প্রতি বছরই ভ্রাতৃদ্বিতীয়ার আগের দিন লোকসংস্কৃতির অঙ্গ হিসাবে এই অনুষ্ঠান পালিত হয়৷

সোমবার ‘গরুর বিয়ে’ উপলক্ষে গরুকে ছোপানো হল বিভিন্ন রঙে৷ সাজিয়ে তোলাহল নানাভাবে৷ কোথাও আবার গরুর পায়ে ঘুঙুর পরিয়ে, কোথাও আবার গরুর মাথায় রঙিন ফিতে বেঁধে সাজিয়ে তোলা হল৷

ভারতের হীড়বাঁধের বনকাটা গ্রামের শিবদাস বাউরি, ভোজদা গ্রামের লক্ষ্মীকান্ত মণ্ডল বলেন, “বছরের পর বছর ধরে এই উৎসব গ্রামে পালিত হয়ে আসছে৷ এর সঙ্গে বেশ কিছু লোকাচারও জড়িয়ে আসছে৷ আমরা ছোটবেলা থেকেই তা একই রকমভাবে দেখে আসছি৷”

প্রযুক্তির দুনিয়ায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন উৎসবের রকমফের ঘটলেও গ্রামবাংলার প্রাচীন লোকাচার হিসাবে এই অনুষ্ঠানটির কোনও পরিবর্তন ঘটেনি৷ শতাব্দীকাল ধরে এই নিয়মে অনুষ্ঠানে মেতে ওঠেন স্থানীয় মানুষজন৷

তবে গরুকে যে ভাবেই সাজিয়ে তোলা হোক না কেন, ধান দিয়ে একটি বিশেষ মুকুট তৈরি করা এদিন বাধ্যতামূলক৷ একে ‘মোড়’ বলা হয়৷ জমি থেকে কতকগুলি পাকা ধানের শিষ এনে তা দিয়ে সুদৃশ্য ‘মোড়’ তৈরি করা হয়৷ পরে সেটি গরুর মাথায় পরিয়ে দেওয়া হয়৷

বিশেষত সন্ধের সময় এই অনুষ্ঠানটি পালন করা হয়৷ কারণ, সকাল থেকেই বাড়ির মূল দরজা থেকে গোয়ালঘর পর্যন্ত আলপনা দিয়ে রাখেন বাড়ির বউ-মেয়েরা৷ এর পর দুয়ারে কিছু ঘাস দিয়ে রাখা হয়৷ সন্ধের সময় গরুর দল মাঠ থেকে ঘরে ফিরে এলে প্রথমে তাকে রং দিয়ে সারা গায়ে ছাপ দেওয়া হয়৷ তার পর সেই ঘাস খেয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে৷

সন্ধের সময় গোবর দিয়ে একটি যমরাজের কাল্পনিক মূর্তি তৈরি করে দুয়ারে রাখা হয়৷ তার উপর একটি প্রদীপ জ্বেলে দেওয়া হয়৷ সেই প্রদীপের উপর পা দিয়ে আগুন নিভিয়ে গোয়ালঘরে ঢোকে গরুর দল৷ এর পর বিভিন্ন ভাবে বন্দনা করা হয়৷ তাই ‘বন্দনা’ শব্দ থেকেও এই উৎসবের নামকরণ হতে পারে বলে কেউ কেউ মনে করেছেন৷

বাঁকুড়া জেলার ইতিহাস ও লোকসংস্কৃতি গবেষক অরবিন্দ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এটি গ্রামবাংলার একটি অতি প্রাচীন লোকউৎসব৷ গবাদি পশু হিসাবে গরু আলাদা গুরুত্ব দিতেইএই অনুষ্ঠানের প্রচলন তৎকালীন সময়ে হয়েছিল৷ আজও একইভাবে সমান গুরুত্বের সঙ্গে তা পালিত হয়ে আসছে৷

—সংবাদ প্রতিদিন

এ সম্পর্কিত আরও

Best free WordPress theme

Check Also

বহু তারকার সঙ্গে ‘ধর্ষক নাঈম আশরাফের’ ছবি ফেসবুকে ভাইরাল!

রাজধানীর বনানীতে হোটেলে আটকে রেখে দুই তরুণী ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার অন্যতম আসামি নাঈম …

আপনার-মন্তব্য