ঢাকা : ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, রবিবার, ১০:২৩ অপরাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

নানা আয়োজনে গরুর বিয়ে, মাতলেন গ্রামবাসী

20161103071132
এক্সক্লুসিভ ডেস্ক: পাত্র-পাত্রী তৈরি৷ নির্দিষ্ট সময়ে লোকাচার মেনেই হল বিয়ে৷ তবে মানুষের নয় গরুর৷ না, কোনও কুসংস্কার নয়, এই বিয়ের কারণ বহু বছর ধরে পালিত হয়ে আসা এক লোকউৎসব৷

‘বাঁদনা পরব’৷ তারই প্রাধান অঙ্গ ‘গরুর বিয়ে’৷ প্রতি বছরই ভ্রাতৃদ্বিতীয়ার আগের দিন লোকসংস্কৃতির অঙ্গ হিসাবে এই অনুষ্ঠান পালিত হয়৷

সোমবার ‘গরুর বিয়ে’ উপলক্ষে গরুকে ছোপানো হল বিভিন্ন রঙে৷ সাজিয়ে তোলাহল নানাভাবে৷ কোথাও আবার গরুর পায়ে ঘুঙুর পরিয়ে, কোথাও আবার গরুর মাথায় রঙিন ফিতে বেঁধে সাজিয়ে তোলা হল৷

ভারতের হীড়বাঁধের বনকাটা গ্রামের শিবদাস বাউরি, ভোজদা গ্রামের লক্ষ্মীকান্ত মণ্ডল বলেন, “বছরের পর বছর ধরে এই উৎসব গ্রামে পালিত হয়ে আসছে৷ এর সঙ্গে বেশ কিছু লোকাচারও জড়িয়ে আসছে৷ আমরা ছোটবেলা থেকেই তা একই রকমভাবে দেখে আসছি৷”

প্রযুক্তির দুনিয়ায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন উৎসবের রকমফের ঘটলেও গ্রামবাংলার প্রাচীন লোকাচার হিসাবে এই অনুষ্ঠানটির কোনও পরিবর্তন ঘটেনি৷ শতাব্দীকাল ধরে এই নিয়মে অনুষ্ঠানে মেতে ওঠেন স্থানীয় মানুষজন৷

তবে গরুকে যে ভাবেই সাজিয়ে তোলা হোক না কেন, ধান দিয়ে একটি বিশেষ মুকুট তৈরি করা এদিন বাধ্যতামূলক৷ একে ‘মোড়’ বলা হয়৷ জমি থেকে কতকগুলি পাকা ধানের শিষ এনে তা দিয়ে সুদৃশ্য ‘মোড়’ তৈরি করা হয়৷ পরে সেটি গরুর মাথায় পরিয়ে দেওয়া হয়৷

বিশেষত সন্ধের সময় এই অনুষ্ঠানটি পালন করা হয়৷ কারণ, সকাল থেকেই বাড়ির মূল দরজা থেকে গোয়ালঘর পর্যন্ত আলপনা দিয়ে রাখেন বাড়ির বউ-মেয়েরা৷ এর পর দুয়ারে কিছু ঘাস দিয়ে রাখা হয়৷ সন্ধের সময় গরুর দল মাঠ থেকে ঘরে ফিরে এলে প্রথমে তাকে রং দিয়ে সারা গায়ে ছাপ দেওয়া হয়৷ তার পর সেই ঘাস খেয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে৷

সন্ধের সময় গোবর দিয়ে একটি যমরাজের কাল্পনিক মূর্তি তৈরি করে দুয়ারে রাখা হয়৷ তার উপর একটি প্রদীপ জ্বেলে দেওয়া হয়৷ সেই প্রদীপের উপর পা দিয়ে আগুন নিভিয়ে গোয়ালঘরে ঢোকে গরুর দল৷ এর পর বিভিন্ন ভাবে বন্দনা করা হয়৷ তাই ‘বন্দনা’ শব্দ থেকেও এই উৎসবের নামকরণ হতে পারে বলে কেউ কেউ মনে করেছেন৷

বাঁকুড়া জেলার ইতিহাস ও লোকসংস্কৃতি গবেষক অরবিন্দ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এটি গ্রামবাংলার একটি অতি প্রাচীন লোকউৎসব৷ গবাদি পশু হিসাবে গরু আলাদা গুরুত্ব দিতেইএই অনুষ্ঠানের প্রচলন তৎকালীন সময়ে হয়েছিল৷ আজও একইভাবে সমান গুরুত্বের সঙ্গে তা পালিত হয়ে আসছে৷

—সংবাদ প্রতিদিন

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

20161114142700

৬৮ বছর পর আবারও আকাশে ‘সুপার মুন’, দেখা মিলবে আজ বিকেলে

এক্সক্লুসিভ ডেস্ক : এই শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ‘সুপার মুন’ দেখতে পাওয়া যাবে আজ রাতে। ‘সুপার …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *