ঢাকা : ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, শুক্রবার, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

আমাকে মারতে পর্যন্ত এসেছে, আমি সুবিচার চাই: মাবিয়া আক্তার

mabia

মাসুদ আলম:তাঁর কান্নার দৃশ্য টিভিতে দেখে গোটা বাংলাদেশ আবেগে ভেসেছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে গুয়াহাটির এসএ গেমসে সোনা জিতে পোডিয়ামে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। সবার সবাইর হৃদয়ে নাড়া দেয় দারুণভাবে। দেশে ফিরে মাবিয়া শুধু একটা জিনিসই চেয়েছিলেন—নিয়মিত খেলার সুযোগ। কিন্তু সেই সুযোগ পেলেন না। ভারোত্তলন ফেডারেশনে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব মাবিয়াদের সামনের দিনগুলো ঢেকে দিয়েছে অন্ধকারে দীর্ঘদিন ধরে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক পদে থাকা মহিউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে ভালোই চলছিল সব।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খেলোয়াড়দের সুযোগও মিলছিল নিয়মিত। হয়েছে অনুশীলন। তারই ফসল দেশের বাইরে থাকা আসা বেশ কিছু পদক। গত ৯ জুন মহিউদ্দিন আহমেদের কমিটি ভেঙে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) আহ্বায়ক কমিটি করলে সংকটের শুরু। মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠন করা হয় নতুন কমিটি। সভাপতি থাকলেন আগেরজনই, মনজুর কাদের কোরেইশি। নতুন কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু ছয় মাস পেরোলেও নির্বাচনের খবর নেই।
তা ছাড়া খেলাটিও এগিয়ে নিতে পারেনি এই কমিটি। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় খেলোয়াড় না পাঠানোয় তৈরি হয় শূন্যতা। ফেডারেশনের সাংগঠনিকভাবে দুর্বলতার প্রভাব পড়ে খেলোয়াড়দের ওপর। সব দেখে খোদ এনএসসি সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস নাখোশ এই কমিটির ওপর,‌ ‘আমরা যা চেয়েছিলাম, এই কমিটি তা বরতে পারেনি।’
সংকট আরও বেড়েছে। এশিয়ান ভারোত্তলন ফেডারেশন বর্তমান কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আগের নির্বাচিত কমিটিই দ্রুত পুনর্বহালের তাগিদও দিয়েছে। কোনো অনির্বাচিত কমিটির সঙ্গে তারা সম্পর্ক রাখবে না। বিষয়টা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের ভারোত্তোলকদের

আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় খেলতে না দেওয়ার সতর্কবার্তাও দিয়েছে এশিয়ান ভারোত্তলন ফেডারেশন।
ওই চিঠি পেয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ নড়েচড়ে বসেছে। তারা বলছে, মহিউদ্দিন আহমেদের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১২ সালের নভেম্বরে। কাজেই আগের কমিটি এখন আর নির্বাচিত নয়। দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার প্রশ্ন আসে না। এনএসসি সচিব আজ প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘‌আমরা এডহক কমিটি করেছি নিয়ম মেনেই। কারণ, আগের কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ। তা ছাড়া এখানে সরকার হস্তক্ষেপ করেনি। এনএসসি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এটি তার নিজস্ব আইনেই চলছে।’

এশিয়ান ভারোত্তলন ফেডারেশনকে নিজেদের এই বক্তব্য দ্রুত জানানোর কথাও বলেছেন এনএসসি সচিব। একই সঙ্গে দ্রুতই নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিলেন। এই কমিটিকেই আরও কিছুদিন সময় বেঁধে দিতে চান এই কর্মকর্তা।

প্রশ্ন হচ্ছে, কবে নাগাদ এই সংকট কাটবে? কী হবে এখন? এখানেই মাবিয়াদের জন্য আরও বড় দুঃসংবাদ। ফেডারেশনে ক্ষমতার বলি হচ্ছে তাঁরা। মাবিয়া তাই দুঃখ করে বলছেন, ‌‘এসএ গেমসের পর আমাদের এমন ভাগ্য বরণ করতে হবে ভাবিনি। আমরা চাই খেলা। সেই খেলাই যদি না পাই তাহলে আমরা কীভাবে এগিয়ে যাব।’

মাবিয়া এখন বাড়িতে হাত পা গুটিয়ে বসে আছেন। এসএ গেমসের পর গত ৯ মাসে শুধু একটি আন্তর্জাতিক মিটে যাওয়ার ‌সৌভাগ্য হয়েছে তাঁর। এপ্রিলে উজবেকিস্তানে হয়েছে অলিম্পিক গেমসের কোয়ালিফিকেশন রাউন্ড। তাও সেটি আগের কমিটির সময়।
বর্তমান কমিটি আসার পর ছয় মাসে মাবিয়ার সামনে খেলার জগৎটা হয়ে উঠেছে অচেনা। তাঁকে কোথাও পাঠানো হচ্ছে না। জর্ডানে আফ্রো এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, মালয়েশিয়ায় যুব বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ, একই ভেন্যুতে কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়নশিপ—কোথাও নেই মাবিয়া। এর মধ্যে শুধু কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়নশিপে সিনিয়র দল অংশ নিয়েছে। জুনিয়র পর্যায়ে দলই পাঠানো হয়নি। মাবিয়া খেলতেন জুনিয়র ও যুব পর্যায়ে। আগামী ৮ নভেম্বর জাপানে শুরু যুব ও জুনিয়র এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপেও মাবিয়াদের পাঠাবে না ফেডারেশন। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে মাবিয়ার নাম নিবন্ধন করেনি ফেডারেশন, স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধন হলেও তাঁকে পাঠানো হয়নি।

হতাশায় মুষড়ে পড়েছেন সোনার মেয়েটি। মাবিয়া বলছিলেন, ‘কোথাও খেলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছেই না, উল্টো ফেডারেশন সভাপতি খারাপ ব্যবহার করেছেন আমার সঙ্গে। আমার পরিবার নিয়ে বাজে কথা বলেছেন। একজন কর্মকর্তা কোনোভাবেই যা বলতে পারেন না।’ বিষণ্ন মাবিয়া কণ্ঠ ধরে আসে, ‘আমার সঙ্গে যে খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে, এর তদন্ত হওয়া উচিত। নইলে পরে অন্যদেরও সঙ্গেও করবে। আমাকে মারতে পর্যন্ত এসেছে। আমি সুবিচার চাই।’

কিন্তু সোনা এনে দেওয়ার পরও মাবিয়ার ওপর এত রাগ কেন বর্তমান সভাপতির? মাবিয়ার দাবি, ‘আমি যখন এসএ গেমসে সোনা জিতলাম, ততক্ষণে সভাপতি সাহেব ঢাকাগামী বিমানে উঠে পড়েছেন। তাই মেডেল পাওয়ার সময় উনি ওখানে ছিলেন না। সেই ক্ষোভে উনি পরে আমাকে রেগে বললেন, তুমি আগে কেন পাইলা না মেডেলটা!’

ভারোত্তলন ফেডারেশনের সভাপতি মনজুর কাদের কোরেইশির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন ধরেনি। তবে মাবিয়ার অভিযোগ এর আগে সাংবাদিকদের কাছে অস্বীকার করেছেন। এভাবে গত কিছুদিন ধরেই চলছে ফেডারেশন বনাম মাবিয়ার পাল্টাপাল্টি অবস্থান। যাতে আসলে ক্ষতি হচ্ছে দেশেরই। মাবিয়া দ্রুত সমাধান চান,‌ ‘এই এডহক কমিটি থাকলে কোনো টুর্নামেন্টে আমার খেলা হবে না। আমাদের ক্যারিয়ারটা শুরু না হতেই মনে হয় শেষই হয়ে যাচ্ছে।-প্রথম আলো

 

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

সূর্য আকারে বেড়ে যাবে ১০০ গুন , পৃথিবী হারাবে প্রাণিকুল

সূর্য আকারে বেড়ে যাবে ১০০ গুন। আর পৃথিবীর যাবতীয় প্রাণিকুল পুড়ে ধ্বংস হয়ে যাবে। মহাকাশবিজ্ঞানীরা …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *