ঢাকা : ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, শুক্রবার, ২:০৪ পূর্বাহ্ণ
A huge collection of 3400+ free website templates JAR theme com WP themes and more at the biggest community-driven free web design site

নাসিরনগরে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে এবার ঘরে আগুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে বাচ্চাদের ছবি আঁকা শেখার একটি স্কুল চিত্রশৈল। প্রতি শুক্রবার এ স্কুলে ৫০টির মতো শিশু আসে, যাদের অধিকাংশই হিন্দু। কিন্তু গতকাল শুক্রবার সেখানে হিন্দু শিক্ষার্থীরা আসেনি। নাসিরনগর মাছবাজারেও গতকাল হিন্দু জেলেরা মাছ নিয়ে আসেননি। স্থানীয় হিন্দুরা বলেছেন, রোববারের পর গতকাল শুক্রবার ভোরে দ্বিতীয় দফায় হামলার খবরে তাঁরা বিপর্যস্ত ও চরম আতঙ্কে আছেন।
গত রোববার নাসিরনগরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার পাঁচ দিন পর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের পাঁচটি ঘরে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনার পর গতকাল সারা দিন এলাকার হিন্দুদের মধ্যে আতঙ্ক ছিল। তবে হঠাৎ করে এ আগুনের কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। আর অতিরিক্ত পুলিশি নিরাপত্তা থাকার পরও কীভাবে এ ঘটনা ঘটল, তা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে।
গতকাল সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনের সড়কে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ। এ মানববন্ধন থেকে হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়।
তবে হিন্দু সম্প্রদায়ের একাংশ বলছেন, এ মানববন্ধন না করার জন্য হিন্দু নেতাদের বলেছিলেন স্থানীয় সাংসদ ও মন্ত্রী ছায়েদুল হক। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে নাসিরনগর ডাকবাংলোয় হিন্দু নেতাদের সঙ্গে মন্ত্রীর দুই ঘণ্টা বৈঠকও হয়। এর মধ্যেই রাত তিনটার দিকে হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর আর সকালের মানববন্ধনে যোগ দেননি পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি কাজল জ্যোতি দত্ত ও সাধারণ সম্পাদক হরিপদ পোদ্দার।
হিন্দু সম্প্রদায়ের আরেকাংশের অভিযোগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে অনেক দিন থেকে মন্ত্রী ছায়েদুল হকের দ্বন্দ্ব চলছে। সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থী নিয়ে সেই দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করে। এর জের ধরে জেলা কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর পদ থেকে তাঁকে বহিষ্কারের সুপারিশ করে জেলা কমিটি। ওই দ্বন্দ্বের জের ধরেই পরস্পরকে ফাঁসাতে এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলেও অনেকের আশঙ্কা।
অবশ্য জেলা ও নাসিরনগর আওয়ামী লীগের উভয় পক্ষের নেতারা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তৃতীয় কোনো পক্ষও পরিস্থিতি খারাপ করতে এ ঘটনা ঘটাতে পারে। তাঁরা বিএনপি-জামায়াতকে দায়ী করছেন।
কারা কীভাবে এ ঘটনা ঘটাল, জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘যারা দেশকে পিছিয়ে দিতে চায়, তারাই এ হামলা চালিয়েছে। পুরো ঘটনাটি রহস্যজনক। যারা হামলা করেছে, নিশ্চয়ই কোনো দলের সমর্থনকারী। তবে অপরাধীরা কেউ ছাড় পাবে না’। সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল করিম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার পুরো এলাকায় ৮০ জন পুলিশ মোতায়েন ছিল। আজ আরও ২০০ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
অবশ্য অতিরিক্ত এ পুলিশ মোতায়েন এলাকার মানুষকে স্বস্তি দিতে পারেনি। গতকাল সকাল থেকে অন্তত ২০টি হিন্দু পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁরা বলেছেন, এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুবার হামলার ঘটনার পর এখন হিন্দুরা চরম আতঙ্কে আছেন। হরিপুর ইউনিয়নের হিন্দুবেড় গ্রামের অধিকাংশ হিন্দুই এখনো এলাকাছাড়া।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে নাসিরনগর উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি আদেশ চন্দ্র দেব বলেন, ‘এমন হামলার ঘটনার পর হিন্দুরা চরম আতঙ্কে আছেন এটি সত্যি। তবে ভয়ে কেউ এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন এমন কথা শুনিনি।’
গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় ঠাকুরপাড়া (পশ্চিমপাড়া) গ্রামে গিয়ে কথা হয় গোবর্ধন দাসের (৫৫) সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘রোববারের ঘটনার ফর থেইক্কা রাতে গ্রামে পাহারা চলছে। সবাই মিলে পাহারা দেই। সবার সাথে পাহারা শেষে বৃহস্পতিবার রাত তিনটার দিকে ঘরে আইছি। এরপর ঘুমাইয়া গেছি। একটু পর দেহি মন্দিরঘরে আগুন জ্বলতাছে। আমাদের চিৎকারে লোকজন আগাইয়া আইছে। প্রতিবেশীরা আগুন নিভাইছে। মন্দিরঘরে কোনো প্রতিমা না থাকলেও অর্ধলক্ষাধিক টাকার জাল ছিল, পুইড়া গেছে।’
ঘনবসতিপূর্ণ এই পাড়াতেই বসবাস করেন কবিরাজ বিশ্বদেব চক্রবর্তী (৪০)। তাঁর বাড়ির একটি কাঠের ঘরেও দুষ্কৃতকারীরা আগুন ধরিয়ে দেয়। তাঁর স্ত্রী কাকলী চক্রবর্তী জানান, তাঁদের দুই লাখ টাকার কাঠ পুড়ে গেছে। সরকারপাড়ার ফুলকিশোর সরকারের (৫০) গোয়ালঘর আগুনে পুড়ে গেছে। ফুলকিশোর সরকারের প্রতিবেশী মৃণাল কান্তি সরকারের রান্নাঘর ও গোয়ালঘরও পুড়ে গেছে। গতকাল সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মোয়াজ্জম আহমেদ। তিনি বলেন, ৮ থেকে ১০টি বসতঘর ও গোয়ালঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে। কেন এ ঘটনা ঘটল, পুলিশ তদন্ত করছে।
জেলা প্রশাসক রেজওয়ানুর রহমান গতকাল ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এ ঘটনা ষড়যন্ত্রমূলক। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খোঁজা হচ্ছে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
আওয়ামী লীগের তিন নেতাকে বহিষ্কার: গত রোববারের সমাবেশে লোকজন নিয়ে যোগ দেওয়ার অভিযোগে সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের সহসম্পাদক আবুল হাসেম, চাপড়তলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরুজ আলী এবং হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক মিয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হেলাল উদ্দিনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটিও করা হয়েছে।
বিএনপির প্রতিনিধিদল নাসিরনগরে: বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিনের নেতৃত্বে আট সদস্যের প্রতিনিধিদল গতকাল নাসিরনগরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে। হাফিজউদ্দিন এ ঘটনার তদন্তের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন।
সোনাগাজীতে মন্দিরে আগুন: ফেনী অফিস জানায়, সোনাগাজী উপজেলার চরদরবেশ ইউনিয়নের চরসাহাভিখারী গ্রামে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একটি মন্দিরে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে মন্দিরের দরজা-জানালা সামান্য পুড়ে যায়। স্থানীয় সাংসদ রহীম উল্যাহ গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এ সম্পর্কিত আরও

Check Also

আজ ৮ ডিসেম্বর কুমিল্লা,পটুয়াখালী মুক্ত দিবস

আজ  ৮ ডিসেম্বর পটুয়াখালী ও কুমিল্লা মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে হানাদার মুক্ত হয় …

Mountain View

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *