Mountain View

নিউজিল্যান্ড কন্ডিশনেও কেন ২২ সদস্যের দলে নেই রুবেল-আল আমিন?

প্রকাশিতঃ নভেম্বর ৬, ২০১৬ at ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ

rubel-alamin

জাহিদুল ইসলাম, বিডি টুয়েন্টিফোর টাইমস : সবাইকে অবাক করে দিয়ে নিউজিল্যান্ডের মত পেস বান্ধব আর সুইংগিং কন্ডিশনে বাংলাদেশ দলে থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে রুবেল হোসেন ও আল আমিন হোসেন কে। ফর্ম রেকর্ড পরিসংখ্যান বলছে গত ৩ বছরে বাংলাদেশের হয়ে আর কোন পেসারই তাদের চেয়ে বেশি েইকেট লাভ করেন নি। রুবেলের জন্য তো ২০১৫ বিশ্বকাপ এখনও টাটকা স্মৃতি। অন্যদিকে আল আমিনও দুই দিকেই বল সুইং করানোর দারুণ ক্ষমতার কারণে হয়ে উঠেছিলেন অনত্যম সেরা উইকেট টেকিং পেসার। সেখানে তাদের মত অভিজ্ঞ দুজন ফাস্ট বোলারকে কোন যুক্তিতে দল থেকে বাদ দিয়ে শুভাশিস রায় ও এবাদত কে দলে নেয়া হলো এই প্রশ্ন এখন ১৬ কোটি টাইগার সমর্থকের।

ফর্মে থেকেও দল থেকে বাদ পড়ার  যাতনা বোধহয় বর্তমান প্রধাণ নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীণ নান্নুর চেয়ে আর কারও বেশি জানা নেই। টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়া সেই  যুগে বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা ব্যাটসম্যান নান্নু দারুন ফর্মে ছিলেন। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম জয়ের সেই মহায়নায়ককেই সুযোগ দেয়া হয়নি টেস্ট খেলার। একজন পরীক্ষিত ক্রিকেটার হয়েও দলে সুযোগ না পাওয়ার বেদনা যে কতটা বেদনাদায়ক হতে পারে এটা তার চেয়ে ভালো আর কারও জানার কথা নয়।

চিত্র নাট্যে এবার সেই নান্নু! এবার তিনি আরেকজনের ভাগ্য গড়ে দেয়ার কান্ডরী।  নাসির নিয়ে কম জল ঘোলা হয় নি। সেসব নিয়ে বোর্ড সভপাতি থেকে নির্বাচকত্রয় সবাই নিজেদের অবস্থানও ব্যাখ্যাও করেছেন। তাতেও টাইগার সমর্থকদের ভুলাতে পারেন নি। এখনও ৯৯ ভাগ সমর্থকই মনে করেন দলে নাসিরকে প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত কথা হচ্ছিল  ওমন পেস ও সুইংগিং কন্ডিশনে ২২ জনের দলেও কেন সুযোগ পেলেন না সব ফর‌ম্যাটে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা দুই পেসার রুবেল ও আল আলমিন। এর কোন ব্যাখ্যা  এখনও দিতে পারেন নান্নুর নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটি।

টি টুয়েন্টি ও ওয়ানডেতে মানলাম তাসকিন, মুস্তাফিজ ও মাশরাফিই যথেষ্ট হবে। তাই বলে তাদরে ব্যাকআপ হিসেবেও কি রুবেল-আল আমিন রা থাকতে পারতেন না? উল্টো যার উপর আস্থা রাখা হলো পেসার হান্টের এবাদত এখনও ঘরোয়া ক্রিকেটেই নিজেকে মেলে ধরতে পারেন নি। তাহলে কেন গতি আর সুইংয়ে বাংলাদেশের সেরা দুই পেসার রুবেল-আল অামিনকে দলে নেয়া হলো না? এমন প্রশ্ন কোটি টাইগার সমর্থকদের।

ফর্ম আর পরিসংখ্যান বলছে  মু্স্তাফিজের পর যদি আর মাত্র ২ জন পেসার সব ফরম্যাটেই দলে সযোগ পেতে পারেন তারা হলেন রুবেল ও আল আমিন। তারপরও কোন যক্তিতে ওমন কন্ডিশনে তাদেরকে ২২ জনের দলেও রাখা হয় নি।

প্রাথমিক দলে নেয়া ৭ জন পেসার হলেন- মাশরাফি, তাসকিন, মুস্তাফিজ, শুভাশিস রায়, এবাদত হোসেন, শফিউল ইসলাম, মোহাম্মদ শহীদ

নিউজিল্যান্ড সফরের আগে অস্ট্রেলিয়ায় নির্ধারিত ১০ দিনের ক্যাম্প হবে টাইগারদের। সেখান থেকে ১৫ সদস্যের দল যাবে অস্ট্রেলিয়ায়।আসছে ৯ বা ১০ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়া যাত্রা করবেন মাশরাফি বাহিনী।

স্ট্যান্ডবাই হিসেবে দলে রাখা হয়েছে রুবেল ও নাসির হোসেনসহ ৯ জন।

নিউজিল্যান্ডে ১ মাসের সফরে টাইগার বাহিনী খেলবে ৩টি করে ওয়ানডে ও টি-২০ ম্যাচ এবং ২টি টেস্ট ম্যাচ।

আসছে ২৬ ডিসেম্বর নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে একদিনের ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে সিরিজ। পরের ২টি ওয়ানডে হবে ২৯ ও ৩১ ডিসেম্বর নেলসনে।

আসছে বছরের ৩ জানুয়ারি নেপিয়ারে প্রথম টি-২০ ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড। ৬ ও ৮ জানুয়ারি মাউনগানুইতে হবে বাকি ২টি টি-২০। এরপর ১২ জানুয়ারি ওয়েলিংটনে শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। ২০ থেকে ২৪ জানুয়ারি দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ক্রাইস্টচার্চে।

বাংলাদেশের প্রাথমিক দল : তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, মুমিনুল হক, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান, সৌম্য সরকার, মোসাদ্দেক হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, মেহেদী হাসান মিরাজ, শুভাগত হোম চৌধুরী, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাইজুল ইসলাম, মাশরাফি বিন মুর্তজা, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শফিউল ইসলাম, শুভাশিষ রায়, মোহাম্মদ শহীদ, এবাদত হোসেন ও তানভীর হায়দার।

স্ট্যান্ডবাই : শাহরিয়ার নাফিস, আব্দুল মজিদ, লিটন কুমার দাস, মোশাররফ হোসেন রুবেল, কামরুল ইসলাম রাব্বি, আল আমিন হোসেন, আলাউদ্দিন বাবু, নাসির হোসেন ও রুবেল হোসেন।

এ সম্পর্কিত আরও